শাড়িতে নারী

নাসিম আহমেদ
শাড়ির সাথে বাঙ্গালী নারীর রয়েছে গভীর যোগসূত্র। সামাজিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শাড়ির যেমন ব্যবহার রয়েছে তেমনি নারীর সৌন্দর্য্য প্রকাশে শাড়ির যেন তুলনা হয়না।

বিভিন্ন উৎসবকে বিবেচনা করে বাঙ্গালী নারীর শাড়ির রংয়ের মাঝেও বৈচিত্র্য পরিলক্ষিত হয়।

নানা বৈচিত্র্যময় নকশার পোশাক নিয়ে নিরীক্ষা করতে যে নারীরা ভালোবাসেন, তাদের জন্য শুধু কাট আর প্যাটার্নের বৈচিত্র্য নয়, পোশাকের রংয়েও থাকে নতুনত্বের ছোঁয়া।

পোশাকের রংটা সবসময় মুডের ওপর নির্ভর করে। পোশাকে সাদাকালো শোকের রং ছাড়াও এখন আভিজাত্যের রং হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

দিবস আর উৎসবের সাথে শাড়ির রংয়ের একটা যোগসূত্র আছে। অমর একুশে এলে সাদাকালো রংয়ের শাড়ি পরতে দেখা যায় নারীদেরকে।

আবার বিজয় দিবস আর স্বাধীনতা দিবসে দেখা যায় লাল সবুজের প্রাধান্য।

এবার বসন্ত ও ভালোবাসা দিবস হাত ধরাধরি করে আসার কারণে এবার শাড়িতে ছিল দুই উৎসবের আমেজ।

সকালে হলুদ শাড়ি আর বিকালে লাল শাড়ি এভাবে বেড়াতে বের হতে দেখা গিয়েছে অনেককে। আবার এর বিপরীতটাও ঘটেছে।

কাড়ির ডিজাইনে ভিন্নতা আনলে নারীর সৌন্দর্য্যে আলাদা আমেজ আসতে পারে। যেমন একরঙা হলুদ শাড়ির পাড়জুড়ে বসিয়ে নেওয়া যেতে পারে গোলাপি, গাঢ় নীল আর জরির পাড়। আঁচলজুড়ে থাকতে পারে কলকার নকশায় অ্যামব্রয়ডারির কাজ।

জমিনটা একরকম আবার আঁচলটা অন্যরকম, এমন শাড়িও হতে পারে। এ ধরনের শাড়িতে হ্যান্ড পেইন্ট মানিয়ে যায় বেশ।

শাড়ির ক্ষেত্রে সুতির পাশাপাশি সিল্কের চাহিদাও অনেক বেশি চোখে পড়ে। সেই সঙ্গে কাতানের চল তো রয়েছেই। দিনের বেলা অনেকেই সুতির শাড়িকে বেছে নেয়।

উৎসবের সঙ্গে স্বস্তির কথাও মনে রাখতে হবে। একই সুতির শাড়ির কয়েকটি রূপ থাকতে পারে। এর মধ্যে তাঁতের শাড়ি ও কোটা শাড়ি নারীর কাছে বেশি জনপ্রিয় হতে দেখা গেছে।

যার ডিজাইনেও রয়েছে ভিন্নতা। কোনোটাতে স্ক্রিন প্রিন্ট করা, কোনোটায় ব্লকের কাজ, আবার কোনোটায় নকশিকাঁথার কাজও দেখা যায়।

সিল্কের শাড়ির চাহিদা বরাবরই থাকে। কারণ এ ধরনের শাড়ি সব বয়সী নারীদেরই ভালো মানায়। সিল্কের মধ্যেও রয়েছে বাহারি ধরন।

টাঙ্গাইল সিল্ক, হাফ সিল্ক, রাজশাহী সিল্ক, জয়পুরি সিল্ক, মসলিন সিল্ক, কাতান সিল্ক ও অ্যান্ডি সিল্ক। হাতের কাজের পাশাপাশি এতে স্ক্রিন প্রিন্ট ও অ্যামব্রয়ডারি করা হয়ে থাকে।

কোনোটায় আবার বাহারি লেস বসানোও থাকে।

শাড়িতে হাতের কাজ করা হলে দারুণ লাগে দেখতে এরকমটা জানালেন বেশ কয়েকজন তরুনী।

কোনোটায় নকশিকাঁথার কাজ, কোনোটায় স্টোনের কাজ, কোনোটা আবার কারচুপির কাজ। উৎসবে বিভিন্ন ধরনের সিল্ক কাপড়কেই তারা শাড়ির ক্ষেত্রে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন।

রাতে একটু জমকালো ভাব আনতে কাতান শাড়িই বেছে নেন সবাই। আর কাতানেরও রয়েছে নানা পদ।

জুট কাতান, কানচিবরণ কাতান, চেন্নাই কাতান, মসলিন কাতান, মিলেনিয়াম কাতান, কোটা কাতানসহ বাহারি সব কাতান।

এসব কাতানে জরি সুতা দিয়ে কারচুপির কাজ করা হয়েছে।

নেটের শাড়িতেও উৎসবের সময় বাজার ভরে যেতে দেখা যায়। নারীরা এই শাড়িগুলো কেনাকাটাও করে সবাই পছন্দমতো।

বিভিন্ন রঙের নেটের শাড়িতে বেলবেটের রিবন অথবা ভারী লেস লাগিয়ে নিজেরাই ডিজাইন করে নেয়। আবার এগুলো ডিজাইনভেদে কিনতেও পাওয়া যায়।

আর জামদানি বরাবরই তার ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। রং আর ডিজাইনে নতুনত্ব তো রয়েছেই। সেই সঙ্গে কাজেও রয়েছে ভিন্নতা।

গদবাধা কাজের বাইরে খুঁজে পাবেন নিত্যনতুন কাজের ছড়াছড়ি।

উৎসবের সময় গরম হলেও শার্টিন এবং বেলবেটের চাহিদাও এড়িয়ে যাওয়া যায় না। পুরো শাড়িতে কাজ করিয়েও নেয় অনেকে।

তবে একটু হালকা বেলবেটকেই বেছে নেয় সবাই। আর ভারী কাজগুলো শাড়িকে আরো বেশি উৎসবমুখর করে।

রঙের ক্ষেত্রে ধরাবাধা নিয়ম অনেকেই মানেনা। যে রঙে নিজেকে ভালো মানাবে সেই রংকেই বেছে নিতে ব্যস্ত থাকে সবাই।

মেরুন, লাল, কমলা, সবুজ, আকাশি, ফিরোজা, নীল, গোল্ডেন, সিলভার, কালো, সাদা, নেভি ব্লু সব রঙের চাহিদা কমবেশি চোখে পড়ে।

তবে গরমের কারণে এসব রঙের হালকা শেডকেই প্রাধান্য দেয় নারীরা। কেউ কেউ দুই তিন রঙের শেডের শাড়ি কেনাকাটা করে। যা দেখতেও লাগে বেশ।

উৎসবের জন্য বিভিন্ন দোকানিরা শাড়ির পসরা সাজিয়ে বসেন। মিরপুর বেনারসি পল্লী, মায়াসির, আড়ং, নিপুন, টাঙ্গাইল শাড়ি কুটির, অঞ্জনস, বাংলার মেলা, কে-ক্রাফটে নিজের মনমতো ডিজাইনের শাড়ি কিনতে পারবেন।

এছাড়া একটু ভিন্ন ধাঁচের শাড়ি কিনতে বিভিন্ন শপিং মলে যান নারীরা। যেখানে দেশি-বিদেশি নানা ডিজাইনের শাড়ি পাওয়া যায়।

আর নিউমার্কেট, গাউসিয়া তো রয়েছেই। একটু বাজার ঘুরে সাধ আর সাধ্য অনুযায়ী খুঁজে নিন নিজের পছন্দের শাড়িটি।

সুতির শাড়ি ১ হাজার টাকা থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে কেনা যায়। সিল্ক শাড়ি ২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৭ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যায়।

এছাড়া নেটের শাড়ি ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে ২ হাজার ২০০ টাকার পর্যন্ত দাম হয়। আর কাতান শাড়ি ৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৩০ হাজার টাকার মধ্যে কেনা যায়।

জামদানি শাড়ি ৫ হাজার টাকা থেকে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে কিনতে পারা যায়। আর মসলিন শাড়ি কিনতে পারা যায় ৪ হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে।

শাড়ি যেমনই হোক না কেন ব্লাউজটা হওয়া চাই গর্জিয়াস। আর কাটিংয়ে ভিন্নতা তো থাকতেই হবে। এখন পিঠের দিকটা একটু খোলা রেখে বড় গলার চল চলছে।

রংচঙা ফিতার জনপ্রিয়তাও চোখে পড়ছে। অনেকে ভিন্ন ভিন্ন লেসের ব্যবহারের বস্নাউজটিকে করে তুলছে আরো জমকালো।

কাতান আর বেলবেটের ব্লাউজের চল একেবারেই এড়িয়ে যাওয়া যাচ্ছে না। সেই সঙ্গে নেটের ব্লাউজও বানাতে দেখা যাচ্ছে।

হাতার ক্ষেত্রে স্লিভলেসেই পছন্দের জায়গা ধরে রেখেছে। আবার থ্রি-কোয়ার্টারও তার চাহিদা বহাল রেখেছে।

তাই যেই ডিজাইনটি আপনার জন্য মানানসই সেটি বেছে নেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

শাড়িটা বেশ গর্জিয়াস। আর ব্যাগটা সাদামাটা হলে চলে! ব্যাগেও চাই উৎসবের চমক। এখন পার্টি ক্লচ ব্যাগগুলোর চল দেখা যাচ্ছে।

শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে অথবা কন্ট্রাস্ট করে ব্যাগটি বেছে নিতে পারেন। স্টোন বসানো অথবা বাহারি লেসের কারুকাজ এসব পার্টি ব্যাগে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।

এভাবে উৎসবে দিবসে সামাজিক সাংস্কৃতিক আয়োজনে বাংলাদেশের নারীর পোশাকে শাড়ি এক অনবদ্য পোশাক।