বিক্ষোভে উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ

West-Bangle-India

বাংলাবাজার ডেস্ক
নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে এবার উত্তাল ভারতের পশ্চিমবঙ্গও। রাজ্যটির এক রেলস্টেশনে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। পিটিয়ে আহত করেছে রেলস্টেশনের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী শুক্রবার সন্ধ্যায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামে। এদিন সন্ধ্যায় হুট করে তারা মুর্শিদাবাদে এক রেলস্টেশনে ঢুকে আগুন ধরিয়ে দেয়। এছাড়া এসময় সেখানে দায়িত্বরত রেলস্টেশনের নিরাপত্তা বাহিনী তাদের থামাতে আসলে তারা পিটুনির স্বীকার হন।

রেলওয়ে প্রটেকশন ফোরসের (আরপিএফ) সিনিয়র কর্মকর্তা বলেছেন, হুট করে বিক্ষোভকারীরা রেলষ্টেশনের কমপ্লেক্স ভবনে ঢুকে পড়ে এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। রেলস্টেশনে আগুন ধরিয়ে দেয়ায় ট্রেন শিডিউল বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এদিকে বিক্ষোভকারীরা উলুবেরিয়া রেলস্টেশনের রেললাইন অবরোধ করে রেখেছে। এবং কয়েকটি ট্রেনে ভাংচুর চালিয়েছে। এতে আহত হয়েছে এক চালক।

এছাড়া কলকাতায় বিক্ষোভকারীদের বিক্ষোভে কয়েক ঘণ্টা পার্ক সার্কাস এলাকা অবরুদ্ধ হয়ে ছিল। এছাড়া বিক্ষোভকারীরা বিমানবন্দরের কাছেও বিক্ষোভ করেছে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বিজেপি সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসুর গাড়ি হামলার স্বীকার হয়। পরবর্তীতে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করেছে। এদিকে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা ভারতের আসাম রাজ্যে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, গুয়াহাটির লালুঙ গাঁও তে বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ দমাতে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে পুলিশ। এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতাকে থামাতে গিয়ে গুলি চালায় পুলিশ। এতে পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হন। হাসপাতালে নেয়ার পর ৩ জন মারা যান। যদিও বেসরকারিভাবে ৫ জন মারা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে আসাম ও মেঘালয়ে রাজ্যে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। সদ্য পাস হওয়া নাগরিকত্ব আইন নিয়ে বিক্ষোভ চলছে দেশটির ওই দুই রাজ্যে। চলমান বিক্ষোভের মুখে শুক্রবার ওই দুই রাজ্যে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে রাখার খবরটি জানিয়েছে প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট টেকক্রাঞ্চ। বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে আনতেই ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে সাইটটি।

এ বিষয়ে আসামের কর্মকর্তারা বলেছেন, “ফেইসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, টুইটার এবং ইউটিউবের মতো সামাজিক মাধ্যমগুলোর সাহায্যে গুজব এবং আইন শৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে এমন তথ্য, ছবি ও ভিডিও ছড়ানো হতে পারে।” ওই দুই রাজ্যের মানুষ আবার কবে নাগাদ ইন্টারনেট সংযোগ আবার ফিরে পেতে পারেন, সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। পুরো বিষয়টি নিয়ে টেকক্রাঞ্চ মন্তব্য করেছে, “পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে, খবর ও তথ্য পেতে সহযোগিতা করে এমন একটি মাধ্যম বন্ধ করে দেয়ার নজির অনেক দেশেই দেখা গেছে, তবে ভারত সবার চেয়ে এগিয়ে।”

এর আগে ভারত শাসিত কাশ্মিরে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দিয়েছিল দেশটি। চার মাস পর এখনও ইন্টারনেট সংযোগের বাইরে রয়েছেন দেশটির ওই অঞ্চলের অধিবাসীরা। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইন্টারনেট বাজার হিসেবে পরিচিত ভারতে বর্তমানে সক্রিয় ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৬৫ কোটির বেশি। এভাবে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রাখার বিষয়ে অতীতে নিন্দা জানিয়েছিল জাতিসংঘ। বিষয়টিকে ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন’ হিসেবেও আখ্যা দিয়েছিল সংস্থাটি।

উল্লেখ্য, ১০ ডিসেম্বর ভারতীয় পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভায় পাস হয় ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইন সংশোধনের প্রস্তাব। পরে তা উচ্চকক্ষ রাজ্যসভাতেও পাস হয় এবং বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরে তা আইনে পরিণত হয়।

বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে গিয়ে ভারতে শরণার্থী হওয়া হিন্দু, খ্রিস্টান, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ ও পার্সি সম্প্রদায়ের শরণার্থীদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে ওই আইনে।

১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইনে বলা ছিল, অন্তত ১১ বছর ভারতে থাকলে তবেই কোনো ব্যক্তিকে নাগরিকত্ব দেয়া হবে। সংশোধনে ওই সময় কমিয়ে পাঁচ বছর করা হয়েছে। তবে এতে বিবেচনার বাইরে রাখা হয়েছে মুসলিমদের। ওই আইনের প্রতিবাদে গত দুদিন ধরে সহিংস বিক্ষোভ চলছে ভারতের বিভিন্ন অংশে। বৃহস্পতিবার গুয়াহাটিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন দুইজন। শুক্রবার সংঘাত ছড়িয়েছে রাজধানী দিল্লিতেও।