করোনায় ওলটপালট বিশ্ব

বাংলাবাজার পত্রিকা
ডেস্ক: করোনার মহামারিতে স্তব্ধ সারা পৃথিবীর মানুষ। নিজের ঘরেই কাটছে বন্দি জীবন। শহর গ্রাম পাড়া মহল্লা সব জায়গায় শুধু একটাই ভীতি, আর তা হলো করোনা।

এখন আবার নতুন করে যুক্ত হয়েছে নতুন করোনা ভীতি। ইউরোপ আমেরিকা এশিয়া আফ্রিকা মধ্যপ্রাচ্য কোথাও স্বস্তি নেই। সব জায়গায় এখন একই সুর।

জরুরি প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে বেরোনো মানুষের চোখে-মুখে বিড়াজ করে আতঙ্ক।হাসপাতালে উপচেপড়া রোগীর ভিড়, মর্গে সারি সারি লাশ।

এই মহামারিতে চলতি বছর বিশ্বের অসংখ্য দেশ, শহর-নগরকে নতুন এ বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। অর্থনীতি, রাজনীতিও মহামারির ধকলে রীতিমতো ওলটপালট সারা বিশ্ব।

প্রাণঘাতী, ছোঁয়াচে এই ভাইরাসের দাপটে বিভিন্ন দেশের সরকার হয়েছে কঠোর। ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করে দিতে হয়েছে।

অবরুদ্ধ করে দিতে হয়েছে একের পর এক এলাকা। বেশিদিন এভাবে চালানো না যাওয়ায় বদলাতে হয়েছে কৌশলও। তবে থামানো যায়নি মৃত্যুর মিছিল।

বছরের শেষদিকে বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিষেধক আসার খবর খানিকটা স্বস্তি দিলেও বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলে সংক্রমণের নতুন ঢেউ।

গত বছরের শেষদিকে চীনের উহানে রহস্যজনক এই ভাইরাসের আবির্ভাব ঘটেছিল। তবে তা যে মাত্র কয়েক মাসেই পৃথিবীর সব কোণে ছড়িয়ে পড়বে আর পুরো দুনিয়াকে ওলটপালট করে দেবে তা ভাবেনি কেউ।

প্রাণঘাতী এই করোনা ভাইরাস মহামারি হয়ে পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষের শরীরে পৌঁছে গেছে; প্রাণ নিয়েছে লাখ লাখ মানুষের।

সংক্রমণ মোকাবিলায় প্রথম দিকে চীনের অনুসরণে কঠোর লকডাউনের পথে হাঁটলেও অনেক দেশ পরে অর্থনীতি বাঁচাতে সেখান থেকে সরে এসে নানামাত্রিক বিধিনিষেধের মাধ্যমে আক্রান্ত কমিয়ে আনার পদক্ষেপ নেয়।

সঙ্গে চলে চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কার, প্রতিষেধক বা টিকা তৈরির তোড়জোড়।

আতঙ্কের পাশাপাশি নতুন এ ভাইরাসের চরিত্র ও গতিপ্রকৃতি অজানা থাকায় প্রথম দিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নানামাত্রিক নির্দেশনা দেশে দেশে বিভ্রান্তিরও জন্ম দিয়েছিল।

সবাইকে মাস্ক পরার নির্দেশনা দিতে অনেক দেরি করায় আন্তর্জাতিক এ সংস্থার বিরুদ্ধে সমালোচনাও কম হয়নি।

সংস্থাটির বিরুদ্ধে চীনের তাঁবেদারি করার অভিযোগ আনে যুক্তরাষ্ট্র; সম্পর্কও ছিন্ন করে। কেবল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে বাঁকা চোখে দেখাই নয়, করোনা ভাইরাস বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার পেছনেও যুক্তরাষ্ট্র ও এর অনেক মিত্রই চীনকে দায়ী করে।