ভারতের অনুমোদন পেল দুই ভ্যাকসিন

বাংলাবাজার পত্রিকা
ডেস্ক: করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সিরাম ইনিস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া ও ভারত বায়োটেক লিমিটেড উৎপাদিত করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন ‘কোভিশিল্ড’ ও ‘কোভ্যাক্সিন’ এর চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে ভারত সরকার।

দেশটির ওষুধ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়া (ডিসিজিআই) রোববার সকালে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) এর বিরুদ্ধে অক্সফোর্ড-আস্ট্রা জেনেকা ও ভারত বায়োটেকের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত অনুমোদনের ঘোষণা দেয়।

ডিসিজিআই ক্যাডিয়েল হেলথকেয়ার লিমিটেড-কে তৃতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল প্রোটোকল পরিচালনা করার অনুমোদন দিয়েছে।

ইউনিয়ন হেলথ মিনিস্ট্রি রোববার সকালে জানায়, এম/এস সিরাম ও এম/এস ভারত বায়োটেক ভ্যাকসিনকে দুটি ডোজ পরিচালনা করতে হবে। তিনটি ভ্যাকসিনের সবগুলোকেই ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হবে।

সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডাড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন (সিডিএসসিও)’র অধীনস্ত সাবজেক্ট এক্সপার্ট কমিটি (এসইসি) অক্সফোর্ড-আস্ট্রাসেনেকা’র ভ্যাকসিনটি জরুরি ব্যবহারের জন্য এবং সীমিতভাবে ব্যবহারের জন্য কোভ্যাক্সিন-কে অনুমোদন দিয়েছে।

পালমোনোলোজি, রোগ-প্রতিরোধ বিদ্যা, মাইক্রোবায়োলোজি, ফার্মাকোলোজি, ও অভ্যন্তরীণ ওষুধ বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে সাবজেক্ট এক্সপার্ট কমিটি গঠিত।

ডিসিজিআই’র চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ায় টিকাদান কর্মসূচি যে কোন সময় শুরু হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ওষুধ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের প্রধান ভি জি সোমানি।

ডিসিজিআই’র এই ঘোষণার পরপরই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, এটা ভারতীয়দের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয় যে জরুরি ব্যবহারের জন্য অনুমোদন প্রাপ্ত দু’টি ভ্যাকসিন ভারতে উৎপাদিত হচ্ছে।

তিনি একটি ‘আত্মনির্ভরশীল ভারত’ বিনির্মানের স্বপ্ন পূরণের জন্য বিজ্ঞানীদের ধন্যবাদ জানান।

কোভ্যাক্সিন ভারতের নিজস্ব উদ্ভাবিত ভ্যাকসিন। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চ -এর সহযোগিতায় ভারত বায়োটেক এটি আবিষ্কার করেছে।

ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়ার ভি জি সোমানি দাবি করেছেন যে হালকা জ্বর, ব্যথা ও অ্যালার্জির মতো পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া হলেও ভ্যাকসিনগুলো ১১০ ভাগ নিরাপদ। আর এই সব পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া যে কোন ভ্যাকসিনেই হয়।

তিনি আরো বলেন, আমরা এমন কিছু কখনোই অনুমোদন দিব না, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ নয়। জনস্বাস্থ্যের জন্য সামান্যতম ঝুঁকি হলেও আমরা অনুমোদন দেই না। তবে সব ভ্যাকসিনেই জ্বর, ব্যথা ও অ্যালার্জির মতো পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া থাকে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ভারত দেশের ১২৫টি জেলায় টিকাদান কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে। দুর্গম গ্রাম ও শহর এলাকাগুলোতে পর্যাপ্ত টিকাদান কর্মসূচি চালানো হবে।