প্রক্রিয়াজাত খাবারে বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি

বাংলাবাজার পত্রিকা
ডেস্ক: নগরজীবনে প্রতিনিয়ত প্রক্রিয়াজাত খাবারের চাহিদা বাড়ছে। এরফলে একটু একটু করে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির দিকে।

ট্রান্সফ্যাট (ট্রান্সফ্যাটি অ্যাসিড) সমৃদ্ধ এসব খাবার খেয়ে বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি। এ থেকে মুক্তির জন্যে ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণে তৈরি হয়েছে নীতিমালার প্রথম খসড়া।

জনস্বাস্থ্যের জন্য নীরব ঘাতক এই ট্রান্সফ্যাট থেকে রক্ষায় নীতিমালাটি প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)।

কিন্তু সেটি চূড়ান্ত হতে অপেক্ষা করতে হবে কমপক্ষে আরও ছয় মাস।

সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে প্রতি বছর এক লাখ ৩০ হাজার ৯৮০ জন মানুষ হৃদরোগজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করছেন।

এর মধ্যে পাঁচ হাজার ৭৭৬ জনের এমন মৃত্যুর জন্য দায়ী খাদ্যে যুক্ত করা ট্রান্সফ্যাট। অথচ এই ফ্যাটের ক্ষতি সম্পর্কে দেশের ৯৫ শতাংশ মানুষই ধারণা রাখেন না।

এ পরিপ্রেক্ষিতেই নীতিমালাটি তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

সূত্র জানায়, সাধারণত প্যাকেটজাত বা প্রক্রিয়াজাত খাবার ও বেকারি পণ্যে বিদ্যমান ট্রান্সফ্যাটি অ্যাসিড (টিএফএ) বা ট্রান্সফ্যাট একধরনের ফ্যাট বা স্নেহ জাতীয় খাদ্য উপাদান যা রক্তের এলডিএল বা খারাপ কোলেস্টেরল বৃদ্ধি করে।

অপরদিকে এইচডিএল বা ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে দেয়। অতিরিক্ত ট্রান্সফ্যাট গ্রহণে খারাপ কোলেস্টেরল রক্তবাহী ধমনিতে জমা হয়ে রক্তচলাচলে বাধা সৃষ্টি করে।

ফলে হূদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়, যা অকাল মৃত্যুর অন্যতম কারণ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে ট্রান্সফ্যাট ঘটিত হূদরোগে মৃত্যুর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই ঘটে ১৫টি দেশে, যার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।

বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় এক লাখ ৩১ হাজার মানুষ সার্বিকভাবে হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এর মধ্যে ৪.৪১ শতাংশ মৃত্যুর জন্য দায়ী ট্রান্সফ্যাট।

শিল্পকারখানায় উৎপাদিত ট্রান্সফ্যাট নির্মূলে সর্বোত্তম নীতি অর্থাৎ সব ফ্যাট, তেল এবং খাবারে প্রতি ১০০ গ্রাম ফ্যাটে ট্রান্সফ্যাটের সর্বোচ্চ পরিমাণ ২ গ্রামে সীমিত করার সুপারিশ দেয়া হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।

অথবা পারশিয়ালি হাইড্রোজেনেটেড অয়েল- পিএইচওর উৎপাদন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে।

সম্প্রতি ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষণায় ঢাকার শীর্ষস্থানীয় পিএইচও (ডালডা) ব্র্যান্ডসমূহের মোট ২৪টি নমুনা বিশ্লেষণ করে ৯২ শতাংশ নমুনায় ডব্লিউএইচও সুপারিশকৃত ২ শতাংশ মাত্রার চেয়ে বেশি ট্রান্স ফ্যাট পাওয়া গেছে।

প্রতি ১০০ গ্রাম পিএইচও নমুনায় সর্বোচ্চ ২০.৯ গ্রাম পর্যন্ত ট্রান্সফ্যাটের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। যা ডব্লিউএইচওর সুপারিশকৃত মাত্রার তুলনায় ১০ গুণেরও বেশি।

বাংলাদেশে পিএইচও বা ডালডা সাধারণত ভাজা পোড়া স্ন্যাক্স ও বেকারিপণ্য তৈরি এবং হোটেল-রেস্তোরাঁ ও সড়কসংলগ্ন দোকানে খাবার তৈরিতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।