চাপের মুখে ট্রাম্প

বাংলাবাজার পত্রিকা
ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল ভবনে ট্রাম্প সমর্থকদের নজিরবিহীন হামলার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গণে ব্যাপক সমালোচিত হয়েছে মার্কিন প্রশাসন।

এর ফলে ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় চাপের মুখে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এদিকে হোয়াইট হাউসের ভেতর নিজেকে আরও বিচ্ছিন্ন করে ফেলছেন বিদায়ি প্রেসিডেন্ট।

এমন কি ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের সঙ্গেও দূরত্ব বেড়েছে তার। যদিও ক্যাপিটল হিলকাণ্ডে সমর্থকদের দুর্দান্ত বলে টুইট করেছেন ট্রাম্প।

১২ ঘণ্টা পর টুইটার অ্যাকাউন্ট ফিরে পেয়ে সমর্থকদের প্রশংসা করেন তিনি। এরপর ২০ জানুয়ারি সুশৃঙ্খলভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতিও দেন।

অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজেকে ক্ষমা করা যাবে কি না; সম্প্রতি সেই সম্ভাব্যতা নিয়ে আইনজীবী ও পরামর্শকদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মধ্যে যাদের বিভিন্ন অভিযোগে সাজা হয়েছিল, তাদের অনেককেই মেয়াদের শেষ বেলায় এসে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতায় ক্ষমা করে দিয়েছেন তিনি।

এবার তিনি নিজেকে ক্ষমা করতে পারবেন কি না; তা নিয়ে পরামর্শ চালিয়ে যাচ্ছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, তবে ট্রাম্প যদি সত্যিই নিজেকে ক্ষমা করেন, তবে তা হবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের ক্ষমতার অস্বাভাবিক ব্যবহার।

এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ক্যাপিটল ভবনে ট্রাম্প সমর্থকদের নজিরবিহীন হামলার পর প্রেসিডেন্টের দীর্ঘদিনের অনেক উপদেষ্টাই তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন; উল্টাপাল্টা কথা বলে ট্রাম্পই তার সমর্থকদের তাঁতিয়ে দিয়েছিলেন বলেও মনে করছেন তারা।

প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সম্প্রতি কোনো কথা হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক উপদেষ্টা বলেছেন, তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে কথাই বলতে চাইছেন না।

কংগ্রেসে বাইডেনের জয়ের স্বীকৃতি আটকে দেয়ার চেষ্টা করতে রাজি না হওয়ায় ট্রাম্প গত কয়েক দিনে ঘনিষ্ঠদের মধ্যে তো বটেই এমন কি জনসমক্ষেও ভাইস প্রেসিডেন্ট পেন্সের কড়া সমালোচনা করেছেন।

‘তিনি (ট্রাম্প) পেন্সের বিশ্বাসঘাতকতায় সবচেয়ে বেশি মর্মাহত হয়েছেন এবং কোনোমতেই মেনে নিতে পারছেন না।

সারাদিন ধরে তার কথার প্রতিপাদ্য ছিল—আমি তাকে বানিয়েছি, রাজনৈতিক মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়েছি, আর সে কি না আমার পিঠেই ছুরি মারছে,’ ওয়াশিংটন পোস্টকে এমনটাই বলেছেন ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক এক কর্মকর্তা।

পেন্স তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করবেন, এমনটা বলায় ভাইস প্রেসিডেন্টের চিফ অব স্টাফ মার্ক শর্টকে হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ করার কথাও বুধবার প্রেসিডেন্ট বলছিলেন বলে কর্মকর্তাদের কয়েকজন জানিয়েছেন।

চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প পেন্সকে সামনাসামনিও তীব্র ভর্ৎসনাও করেন বলে জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা।
এ প্রসঙ্গে ভাইস প্রেসিডেন্টের কার্যালয় কোনো মন্তব্য করতে রাজি না হলেও রিপাবলিকান সিনেটর জিন ইনহোফে জানান, তার সঙ্গে বুধবার রাতে যখন পেন্সের কথা হয় তখন ভাইস প্রেসিডেন্টকে তীব্র রাগান্বিত দেখাচ্ছিল।

‘আমি অনেক দিন ধরেই মাইক পেন্সকে চিনি, কিন্তু তাকে আজকের মতো রাগতে আর কখনোই দেখিনি,’ সংবাদমাধ্যম তুলসা ওয়ার্ল্ডকে এমনটাই বলেছেন ইনহোফে।

ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্প ও পেন্সের মধ্যে দূরত্ব এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে দুজন হয়তো একে অপরের সঙ্গে আর কখনো কথা নাও বলতে পারেন।

পেন্সের এক উপদেষ্টা ভাইস প্রেসিডেন্টের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে বলেছেন, ‘তিনি যেভাবে সংবিধান অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছেন তার জন্য তার আশপাশের সবাই তাকে নিয়ে গর্বিত।

তিনি কী করতে যাচ্ছেন তা আগেই প্রেসিডেন্টকে জানিয়েছিলেন। মাইক পেন্স প্রেসিডেন্টকে অবাক করে দেননি।

যা করতে যাচ্ছেন তার ব্যাপারে তিনি ছিলেন সৎ।

হোয়াইট হাউসের বেশ কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, ট্রাম্পের চারপাশে এখন একান্ত অনুগতদের ছোট একটি দলই আছে।

এ দলে কেবল তার ডিজিটাল পরিচালক ডান স্ক্যাভিনো, প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত কার্যালয়ের পরিচালক জন ম্যাকএনটি, বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো, বক্তৃতা লেখক স্টিফেন মিলার ও ব্যক্তিগত আইনজীবী রুডি জুলিয়ানিই আছেন বলে জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা।

এমন কি নির্বাচনের পর থেকে তার উপদেষ্টা ও জামাতা জ্যারেড কুশনারকেও প্রেসিডেন্টের আশপাশে খুব একটা দেখা যাচ্ছে না।