অভিশংসনের মুখে ট্রাম্প!

Donald-Trump

বাংলাবাজার পত্রিকা
ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনার পর রীতিমতো অভিশংসনের মুখে পড়তে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটির পার্লামেন্ট ভবনে প্রাণঘাতী তাণ্ডবে উস্কানি দেয়ার পর ট্রাম্পের অপসারণ চায় ওই দেশের ৫৭ শতাংশ নাগরিক।

এদের বেশিরভাগই ডেমোক্র্যাট। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও জরিপ প্রতিষ্ঠান ইপসস পরিচালিত এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

এদিকে প্রথম রিপাবলিকান চেম্বার সদস্য হিসেবে প্রকাশ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন সিনেটর লিসা মারকোভস্কি।

তিনি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট জাতির যথেষ্ট ক্ষতি করেছেন। আলাস্কার এই নারী আইনপ্রণেতা একজন রিপাবলিকান হিসেবে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটলে দাঙ্গাবাজদের ঢুকে পড়ার উস্কানি দেয়ার অভিযোগ সত্ত্বেও যদি তার দল ট্রাম্পের প্রতি অনুগত থাকে তাহলে ভালোর জন্য তিনি তার পক্ষ ত্যাগ করতে পারেন।

অন্যদিকে মার্কিন স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি বলেছেন, ট্রাম্প যদি এখনই পদত্যাগ না করেন, তাহলে তাকে অভিশংসনের মুখে পড়তে হবে।

২০ জানুয়ারি ক্ষমতা ছাড়ার আগেই ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে নামানোর নজিরবিহীন এ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। সোমবার ডেমোক্র্যাটরা হাউসে ‘হামলায় উস্কানি’ দেয়ার একটি অভিযোগ উত্থাপনের জন্য প্রস্তুত করেছেন।

সেখানে কংগ্রেস ভবনে দাঙ্গায় ৫ জন নিহতের ঘটনায় ট্রাম্পকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিশংসনের বিষয়টি কংগ্রেস সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান বাইডেন।

তবে বাইডেন মনে করেন দীর্ঘ সময় প্রেসিডেন্ট পদের জন্য ট্রাম্প উপযুক্ত ব্যক্তি নয়।

শুধু পেলোসি, ডেমোক্রেটিক পার্টির অধিকাংশ নির্বাচিত গণপ্রতিনিধি অবিলম্বে ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে হঠাতে আগ্রহী। রিপাবলিকান পার্টির অন্তত দুজন কংগ্রেস সদস্যও একই দাবি তুলেছেন।

তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসনের একাধিক সাবেক সদস্য। তবে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে অভিশংসনের এ পদক্ষেপকে ‘রাজনৈতিক প্রভাবিত’ প্রচেষ্টা বলে অভিহিত করা হয়েছে।

এটা শুধু দেশের বিভাজনকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করা হয়। প্রায় ১৬০ জন ডেমোক্রেটিক প্রতিনিধি পরিষদ সদস্য এ বিলে স্বাক্ষর করেছেন।

হামলার সময় ক্যাপিটল হিলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার সময়ই কংগ্রেসম্যান টেড লিও এবং ডেভিস সিসিলিন এ বিলটি প্রস্তুত করেছেন।

যদি এ প্রক্রিয়াটি সামনে আগায়, তাহলে এটি হবে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসনের দ্বিতীয় প্রচেষ্টা।

রয়টার্স ও ইপসসের জরিপে দেখা গেছে, গত নভেম্বরে ট্রাম্পকে ভোট দেয়া প্রতি দশ জনের মধ্যে সাত জনই পার্লামেন্ট ভবনে উগ্র ট্রাম্প সমর্থকদের তাণ্ডবের ঘোরবিরোধী।

মাত্র দু’সপ্তাহ পরেই আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের চেয়ারে বসবেন নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। কিন্তু বুধবার ক্যাপিটলে হামলার ঘটনার পর তার আগেই ট্রাম্পকে সরিয়ে দেয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।

ওই দিন ক্যাপিটলে ঢুকে ব্যাপক তাণ্ডব চালায় উগ্র ট্রাম্প সমর্থকরা। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গুলি চালাতে হয় পুলিশকে।

এক পুলিশ সদস্যসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে ওই ঘটনায়। ট্রাম্পের উস্কানিতেই এই হামলা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

রয়টার্স ও ইপসসের জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৭০ শতাংশ আমেরিকান বুধবারের হামলার আগে ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে না।

হামলার আগে এক সমাবেশে সমর্থকদের ক্যাপিটল অভিমুখে রওনা দেয়ার আহ্বান জানান। ক্যাপিটলে তাণ্ডবের ঘটনায় ডেমোক্র্যাট এবং রিপাবলিকান উভয়েই নিন্দা জানিয়ে আসছে।

এই ঘটনায় অসদাচরণের দায়ে ট্রাম্পকে অভিশংসনের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন ডেমোক্র্যাটরা।

ট্রাম্পের আমলে প্রত্যেকটি বড় ইস্যুতেই জনগণের প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক দলে বিভক্ত ছিল। এবারের ইস্যুতেও তাই ঘটেছে। প্রায় প্রত্যেকেই সহিংস তাণ্ডবের নিন্দা জানালেও ট্রাম্পের অপসারণের ডাক বেশি এসেছে ডেমোক্র্যাটদের তরফে।

সামগ্রিকভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিক বলেছেন, তারা চান মেয়াদ শেষের আগেই সরে যাক ট্রাম্প। প্রতি দশজন ডেমোক্র্যাটের প্রায় নয় জন এবং রিপাবলিকানদের মধ্যে দুজন এই মতে সমর্থন করেছে।

প্রায় ৩০ শতাংশ বলেছে ট্রাম্পকে সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগ করে সরিয়ে দেয়া উচিত। ওই সংশোধনীতে দায়িত্ব পালনে অক্ষম প্রেসিডেন্টকে সরিয়ে দেয়ার ক্ষমতা ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রিসভাকে দেয়া হয়েছে।

অন্য ১৪ শতাংশ বলেছে, কংগ্রেসের উচিত ট্রাম্পকে অভিশংসন করে হোয়াইট হাউস থেকে তাড়িয়ে দেয়া। আর ১৩ শতাংশ বলেছে, ট্রাম্পের পদত্যাগ করা উচিত।

জরিপটি অনলাইনে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে চালানো হয়। এক হাজার পাঁচজন আমেরিকান প্রাপ্তবয়স্কের জবাব এতে সমন্বয় করা হয়। এর মধ্যে ৩৩৯ জন বলেছে তারা গত নভেম্বরে ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছে।