বাইডেনের শপথ আজ, নিরাপত্তায় ঘেরা যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাবাজার পত্রিকা
ডেস্ক: উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় মার্কিনিরা। আজ বুধবার বাইডেনের শপথ অনুষ্ঠান। আর এ অনুষ্ঠানের সময় যতই এগিয়ে আসছে ঘুমোটভাব ততই বাড়ছে।

রাজপথে সাধারণ মানুষের চলা ফেরাতেও অস্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে। কিন্তু ব্যতিক্রম অবস্থানে ট্রাম্পের সশস্ত্র সমর্থকরা। প্রশাসনের তোয়াক্কা না করেই সোমবার ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে ভারী অস্ত্র হাতে দাপটের সঙ্গে রাজপথে মহড়া দিয়েছে।

বাইডেনের শপথ গ্রহণকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নাশকতার আশঙ্কায় জোরদার করা হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

নিরাপত্তা হুমকির জেরে ক্যাপিটল হিলে জারি করা হয়েছে লকডাউন। তবে জো বাইডেনের শপথ গ্রহণের পরও নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

আগামী কয়েকদিন রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে সব ধরনের সভা সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মার্কিন প্রশাসন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের অভিষেকের আগে অভ্যন্তরীণ হুমকির কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন দেশটির অস্থায়ী প্রতিরক্ষামন্ত্রী ক্রিস্টোফার মিলার।

পেন্টাগনের এই অস্থায়ী প্রধান এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টে জো বাইডেনের অভিষেক ঘিরে সম্ভাব্য নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটলের সুরক্ষায় সহায়তা করতে ২৫ হাজারেরও বেশি ন্যাশনাল গার্ড সেনা মোতায়েন করা হয়েছে এবং তাদের প্রত্যেকের ব্যাকগ্রাউন্ড পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে আর এই কাজে এফবিআই সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করছে।

যদিও আমাদের কাছে অভ্যন্তরীণ হুমকির কোনো গোয়েন্দা তথ্য নেই তারপরও বড় ধরনের নিরাপত্তা ইভেন্টের ক্ষেত্রে এই পরীক্ষা স্বাভাবিক, রাজধানীকে সুরক্ষিত করতে কোনো পাথরই উল্টে দেখতে’বাকি রাখছি না আমরা।

মিলার এই কাজে এফবিআইয়ের সহায়তার প্রশংসা করেন। যদিও জো বাইডেনের শপথ অনুষ্ঠানে অভ্যন্তরীণ হামলার আশঙ্কা করছে মার্কিন তদন্ত সংস্থা এফবিআই।

এর আগে রোববার মার্কিন সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে সিক্রেট সার্ভিসের সাথে কাজ করার কথা জানিয়ে আরো কোন সহায়তা লাগলে সেনাবাহিনী প্রস্তুত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

তাছাড়া সকল নিরাপত্তাকর্মী যেকোন হুমকির বিষয়ে অবগত রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। যে কোন অস্বভাবিক আচরণ বা তথ্য পেলে সাথে সাথে বিভাগীয় পর্যায়ে জানানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

তাছাড়া সকল ন্যাশনাল গার্ড সদস্যের ব্যক্তিগত তথ্য পর্যালোচনা করছে এফবিআই। সেখানে তাদের সম্পর্কে কোন ‘রেড ফ্ল্যাগ’বা অস্ত্রধারী গ্রুপগুলোর সাথে কোন সংযোগ রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রতি প্রেসিডেন্টের অভিষেকের আগে উৎসবের রঙ লাগে ওয়াশিংটন ডিসিতে। তবে এবারের গল্পটা ভিন্ন। ওয়াশিংটনকে চালিয়ে দেয়া যায় একটি অবরুদ্ধ দূর্গ বলে।

যেখানে থাকার কথা ছিলো অন্য রাজ্য থেকে আসা পর্যটকদের ভির। সেখানে পড়ে আছে কাটাতার আর ব্যারিকেড।

স্বশস্ত্র আর তৈরি ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের দেখলে মনে হবে, আপনি আফ্রিকার কোনও গৃহযুদ্ধকবলিত শহরে দাঁড়িয়ে আছেন।

কর্তৃপক্ষ শক্ত অবস্থানের মাধ্যমে আসলে বলতে চাইছে, কাউকেই কোনও ধরণের ছাড় দেয়া হবে না। ক্যাপিটল, পেনসেলভেনিয়া অ্যাভিনিউ, দ্য ন্যাশনাল মল কিংবা হোয়াইট হাউজে যাবার আধা মাইল আগে থেকেই রোডব্লকের মুখোমুখি হতে হবে।

একটু পরপর মুখোমুখি হতে হবে কংক্রিট ব্যারিকেড আর উঁচু কাটাতারের। চাইলেই এখন আর ক্যাপিটল এরিয়ার দিকে আরাম করে যাওয়া যাবে না।

এরআগে সোমবার সামরিক পোশাকের আদলে বিশেষ পোশাকে ভার্জিনিয়ার রাজপথে বেরিয়ে আসে বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একদল সমর্থক।

তাদের সবারই হাতে ছিল সংক্রিয় আধুনিক অস্ত্র। বাইডেনের শপথ অনুষ্ঠানের বিরোধিতায় তারা অস্ত্র নিয়ে বিক্ষোভ করেন। হাতে ছিল প্ল্যাকার্ডও।

একজন বিক্ষোভকারী বলেন, আমরা এখানে শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা করছি। কোনো ধরনের সহিংস আচরণ কেউ করেনি। তবে নিরাপত্তা বাহিনী আমাদের সঙ্গে যা করছে তা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।

বিক্ষোভকারীরা এক পর্যায়ে গাড়ি নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় মহড়া দেয়। তাদের কণ্ঠে ছিল ‘কিপ আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’।