ফিনিশারের দায়িত্ব সৌম্যর কাঁধে

বাংলাবাজার পত্রিকা
ডেস্ক: আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের জন্য সুখ্যাতি আছে সৌম্য সরকারের। সাধারণত খেলে থাকেন টপ অর্ডারেই। কিন্তু ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ দিয়েই অবস্থানের পরিবর্তন হচ্ছে তার।

খেলতে হবে সাত নম্বরে! মূলত ওই পজিশনে তাকে ফিনিশারের ভূমিকাতেই দেখতে চাইছে টিম ম্যানেজমেন্ট। কিন্তু হঠাৎ কেন সৌম্যকে সাত নম্বর পজিশনে খেলানো?

ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ ম্যাচে ওপেনিংয়ে ব্যাটিং করেছেন সৌম্য। এ ছাড়া ওপেনিং কিংবা লেট অর্ডারেও ব্যাটিং করার অভিজ্ঞতা আছে। কিন্তু সফল হয়েছেন কেবল ওপেনিং কিংবা তিন নম্বর পজিশনেই।

৫৫ ওয়ানডের ক্যারিয়ারে ৩৮ ম্যাচ ওপেনিং করেছেন। তাতে ৩৩.৯৭ গড়ে তার রান ১১১৫। তবে ক্যারিয়ার শুরুই করেছিলেন তিন নম্বর পজিশনে। এখানে ১৩ ম্যাচ খেলে ৩৯.৩৮ গড়ে করেছেন ৫১২ রান।

পাঁচ থেকে সাত এই পজিশনে সৌম্য খেলেছেন মাত্র চার ম্যাচ। সেখানে ৭ নম্বরে ২ ম্যাচে ৩৯, ৬ নম্বরে ১ ম্যাচে ১৯, ৫ নম্বরে ১ ম্যাচে করেছেন ৩ রান।

এসব পরিসংখ্যানের পরেও এমন পদক্ষেপের পেছনে অনেকগুলো ভাবনা কাজ করেছে ম্যানেজমেন্টের। যার একটি ছিল আগামী বিশ্বকাপ। আরেকটি হলো বহুদিন ধরে একজন পাওয়ার হিটারের অন্বেষণ। সৌম্যকে এবার সেই রুপেই গড়তে চায় ম্যানেজমেন্ট।

ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তামিম বলেছেন, সৌম্যর সাত নম্বর পজিশন নিয়ে কোচ আপনাদের ইঙ্গিত দিয়েছে। আমি বলতে চাই, এই বার্তাটা সৌম্যকে দেওয়া হয়েছিল ৪ থেকে ৫ মাস আগে।

এটা এমন এক জায়গা, যেখানে আমরা এখন পর্যন্ত পারফেক্ট কোন ব্যাটসম্যানকে খুঁজে পাইনি। এখন যদি কাউকে না পাওয়া যায়, তখন কাউকে তৈরি করতে হয়।

অবশ্য হুট করে সৌম্যর ওপর এমন কিছু চাপিয়ে দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন ওয়ানডে অধিনায়ক।

তামিম বলেছেন, সৌম্যকে আমরা এই কথাটা বলেছি প্রেসিডেন্টস কাপের আগে। যে এই পজিশনে আমরা তোমাকে ব্যাট করতে দেখতে চাই, স্কিলফুলি ও মেন্টালি তৈরি হও। তো এটা কারো জন্যই বিস্ময় হয়ে আসেনি। ওর কাছে পুরো বার্তাটি পরিষ্কার ছিল।

শেষে তামিম যোগ করেছেন, শুধু সৌম্য না, এখানে মিঠুন আছে, আফিফ আছে। এই স্পটে আমাদের দুই-তিনজন আছে। এই জায়গাটা আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। ছয় নম্বরে মাহমুদউল্লাহ পর, সাতে সৌম্যকে খেলানোর কথা আগের দিনও জানিয়ে গেছেন প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো।

কঠিন এই ভূমিকার জন্য সৌম্যকে পর্যাপ্ত সময় দেয়ারও চিন্তা দক্ষিণ আফ্রিকান কোচের, এই মুহূর্তে রিয়াদের সঙ্গে মিলে সৌম্যকে ইনিংস শেষ করতে দেখতে চাই। তার অভিজ্ঞতা আছে এবং বল হিট করতে পারে ভালো।

তার ব্যাটিংয়ের প্রতি আমার ভরসা আছে। আশা করি, সে ভালো নৈপুণ্য দেখাবে। ৬ বা ৭ নম্বরে ভূমিকাটা কঠিন। কখনো কখনো আপনাকে ওভারপ্রতি ১০ রান করে নিতে হবে।

কখনো আবার ৫০ রানে ৫ উইকেট পড়ার পর আসতে হবে। এটা কঠিন পরিস্থিতি। এই পজিশনে তাকে মানিয়ে নেয়ার সময় দিতে হবে, ধৈর্য ধরতে হবে।