দেশে মাছের উৎপাদন বেড়েছে ৫০ শতাংশ

দেশে তৃণমূলে মাছ চাষে আগ্রহ বাড়ছে......ফাইল ছবি

বাংলাবাজার পত্রিকা
ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ নেতা বলেছেন, তাঁর সরকারের কার্যকর এবং সময়োপযোগী পদক্ষেপে দেশের মৎস উৎপাদন শতকরা ৫০ শতাংশ বেড়ে দেশ আজ মৎস উৎপাদনে স্বয়ং সম্পূর্ণতা অর্জন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বুধবার সকালে একাদশ জাতীয় সংদের একাদশ অধিবেশনে তাঁর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আলী আজমের একটি তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের উত্তরে একথা বলেন।

স্পিকার ড.শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই পর্বটি টেবিলে উত্থাপিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের কার্যকর এবং সময়োপযোগী পদক্ষেপে দেশে মাছের উৎপাদন ৫০ শতাংশের অধিক বৃদ্ধি পেয়েছে।

কেননা ২৫ প্রজাতির স্বাদু পানির মাছকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করা এবং চাষের জন্য প্রয়োজনীয় পোনা উৎপাদনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ মৎস গবেষণা ইনষ্টিটিউটে গবেষণার মাধ্যমে কৃত্রিম প্রজনন,পোনা উৎপাদন এবং চাষের প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ২০২০ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী স্বাদু পানির মাছের উদপাদন বৃদ্ধির হারে এবারে বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে উন্নীত হয়েছে এবং দেশ আজ মৎসে স্বয়ংসম্পূর্ণ।

একইসঙ্গে বর্তমানে জনপ্রতি দৈনিক ৬০ গ্রাম চাহিদার বিপরীতে ৬২ দশমিক ২৫ গ্রাম মাছ আমরা গ্রহণ করছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি করে দেশের জনগোষ্ঠীর শুধু পুষ্টি চাহিদা পূরণ নয়, ব্যাপক কর্মসংস্থান এবং বিদেশে মাছ রপ্তানি করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করাই তাঁর সরকারের লক্ষ্য।

তিনি বলেন, ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশে মৎস উৎপাদনের পরিমান ছিল ৪৩ লাখ ৮৪ হাজার মেট্রিক টন । যা ২০০৮-০৯ সালের চেয়ে (২৭ লাখ ১ হাজার মেট্রিক টন) ৬২ দশমিক ৩১ শতাংশ বেশি।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় মৎস খাতের উন্নয়নে সরকার গৃহীত পদক্ষেপের উল্লেখ করে বলেন, পাঙ্গাস, শিং,কই, মাগুড় ও তেলাপিয়া মাছের উৎপাদনে উৎসাহ প্রদান এবং প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে দেশের মৎস খাতে নীরব বিপ্লব সাধিত হয়েছে।

তিনি বলেন, বদ্ধ জলাশয়ে উৎপাদন বৃদ্ধিও লক্ষ্যে ব্রুড ব্যাংক স্থাপন (৩য় পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় চীন থেকে আমদানীকৃত সর্বোচ্চ জেনেটিক গুণ সম্পৃদ্ধ সিলভার কার্প, বিগহেডেড কার্প ও প্রাস কার্প মাছের পোনা দেশের ৩৯টি সরকারি হ্যাচারিতে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সেইসঙ্গে প্রতিবছর দেশব্যাপী পোনা অবমুক্তি কার্যক্রম ও বিল নার্সারি স্থপন কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং মাছ চাষের পরিবেশ সৃষ্টির জন্য সারাদেশে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৩৮৯ হেক্টর জলাশয় সংস্কার ও পূণর্খনন করা হয়েছে।

জাটকা নিধন বন্ধ ও ইলিশের জন্য ৬টি অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠাসহ আশ্বিনের ভরা পূর্ণিমার আগে এবং পরে মোট ২২দিন ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, বলেন তিনি।