টিকায় বাড়ছে আগ্রহ

বাংলাবাজার পত্রিকা
ডেস্ক: মহামারি করোনা থেকে বাঁচতে গণটিকাদানের দ্বিতীয় দিনে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে টিকা গ্রহীতাদের উপস্থিতি বেড়েছে।

অনেক প্রবীণ স্বজনদের সঙ্গে এসে টিকা নিয়ে বলেছেন, প্রাণঘাতী এই ভাইরাস থেকে এখন নিরাপদ বোধ করছেন তারা। দ্বিতীয় দিন সোমবার সকাল ৮টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত টিকা দেয়া হয়।

করোনা ভাইরাস মোকাবিলার সম্মুখযোদ্ধাদের সঙ্গে বয়সে প্রবীণ ও মুক্তিযোদ্ধাসহ কয়েকটি শ্রেণির নাগরিকরা প্রথম দিকে টিকা পাচ্ছেন।

রাজধানীর ডজনখানেক হাসপাতাল ও টিকাদান কেন্দ্র ঘুরে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়েই মানুষকে টিকা নিতে দেখা গেছে।

টিকাদানের দ্বিতীয় দিনে ভ্যাকসিন নিয়েছেন ৪৬ হাজার ৫০৯ জন। সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

দেশে রোববার শুরু হওয়া টিকাদান কর্মসূচিতে মোট টিকা নিলেন ৭৭ হাজার ৬৬৯ জন। প্রাথমিকভাবে গত ২৭ এবং ২৮ জানুয়ারিতে নেয়া ৫৬৭ জনকে নিয়ে ৭৮ হাজার ২৩৬ জন মানুষ দেশে করোনা ভাইরাসের টিকা নিলেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, সোমবার টিকা নেয়া ৪৬ হাজার ৫০৯ জনের মধ্যে পুরুষ ৩৫ হাজার ৮৪৩ জন এবং নারী রয়েছেন ১০ হাজার ৬৬৬ জন।

টিকা নেয়াদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে রয়েছেন ১২ হাজার ৮২২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে দুই হাজার ৩৯৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১০ হাজার ৪৮০ জন, রাজশাহী বিভাগে পাঁচ হাজার ৬৪২ জন, রংপুর বিভাগে পাঁচ হাজার ৫০৩ জন, খুলনা বিভাগে চার হাজার ১৭০ জন, বরিশাল বিভাগে এক হাজার ৫৪৪ জন এবং সিলেট বিভাগে তিন হাজার ৯৫৪ জন।

অধিদপ্তর আরো জানায়, সোমবার বিকেল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত করোনা টিকা নিতে নিবন্ধন করেছেন পাঁচ লাখ ১২ হাজার ৫ জন।

অন্যদিকে দেশে নভেল করোনা ভাইরাস (কভিড-১৯) সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে জাতীয়ভাবে শুরু হয়েছে কভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রয়োগ কার্যক্রম।

নিবন্ধন ছাড়া কেউ ভ্যাকসিন নিতে পারবে না- এমনটাই নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে। তবে পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানান, ভ্যাকসিন নিতে আগ্রহীরা কেন্দ্রে এলেই ভ্যাকসিন নিতে পারবেন। পরে তাদের নিবন্ধন করে নেয়া যাবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকও জানান, ভ্যাকসিন নিবন্ধনের জন্য কেন্দ্রে গেলেই চলবে। সে ক্ষেত্রে নিবন্ধন করে রাখা হবে ও পরে ভ্যাকসিন নিতে পারবে।

জাতীয়ভাবে ভ্যাকসিন প্রয়োগ কর্মসূচি শুরু হলেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে আটটি বুথ থেকে করোনা ভাইরাসের টিকা দেয়া হয়। নারীদের জন্য রাখা হয় আলাদা বুথ।

সকালে টিকাদান চলার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহাম্মদ রফিকুল আলম বলেন, আজকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। সবাই সুশৃঙ্খলভাবে টিকা নিচ্ছে।

অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি, ডায়াবেটিস রোগী টিকা নেয়ায় মানুষের মাঝে ভয় ও জড়তা কেটে গেছে। প্রতি বুথে ১৫০ জন করে আটটি বুথে ১২০০ জনকে টিকা দেয়ার প্রস্তুতি আছে।

রেজিস্ট্রেশনের জন্য আলাদা বুথ আছে। স্বেচ্ছাসেবকরা শৃঙ্খলা বজায় রাখছে। ভ্যাকসিন নেয়ার পর বিশ্রামের ব্যবস্থা আছে।