জার্মানিতে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ পালিত

বাংলাবাজার পত্রিকা
বার্লিন: যথাযোগ্য মর্যাদায় জার্মানিতে পালিত হয়েছে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ। রোববার রাজধানী বার্লিনের বাংলাদেশ দূতাবাসের আয়োজনে প্রথমবারের মত দিবসটি পালন করে।

এই উপলক্ষে করোনার স্বাস্থ্যবিধি রক্ষার কারণে সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

যথারীতি সর্বস্তরের প্রবাসীদের নিয়ে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন দেশটিতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া।

পরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও একাত্তরের রনাঙ্গনে শহীদের উদ্দেশ্যে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন রাষ্ট্রদূত ও দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।

পরে অস্থায়ী বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান জার্মান ও বার্লিন আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও অন্যান্য অঙ্গসংগঠনসহ সর্বস্তরের প্রবাসীরা।

পরে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন রাষ্ট্রদূত দূতাবাসের কর্মকর্তারা।

দেখানো হয় বঙ্গবন্ধুর সেই ৭ই মার্চের ভাষণের উপর নির্মিত তথ্যচিত্রটিও। দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে এসময় আরো বক্তব্য রাখেন জার্মান ও বার্লিন আওয়াজ লীগের নেতা মিজানুর খান, নুরী খান, মাসুদুর রহমান, নূরে আলম সিদ্দিকী রুবেলসহ আরো অনেকে।

এ সময় রাষ্ট্রদূত সহ বক্তারা বলেন অগ্নিঝড়া সংগ্রামের সেই ১৯৭১ সালে
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর সেই ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ বাংলাদেশ ও বাঙ্গালীর গুরুত্বপূর্ণ দলিল।

এই ভাষণ গৌরবের ও বাঙ্গালী জাতির দিক নির্দেশনা। এই ভাষণটি সত্যিকারের এক মহাকাব্য, যে কাব্য না লেখা হলে স্বাধীনতাই হয়ত পাওয়া হতোনা।

অনুষ্ঠানে অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সংগঠক আব্দুল মালেক, শাহ আলম, বদিউজ্জামান, সুর্য কান্ত ঘোষ, রানা ভূঁইয়া, আব্দুল কুদ্দুসসহ আরো অনেকে।

এ সময়ে রাষ্ট্রদূত বলেন বঙ্গবন্ধুর সেই তেজদীপ্ত ঘোষণাই ছিল প্রকৃতপক্ষে আমাদের স্বাধীনতার ভিত্তি।

দীর্ঘ ২৬ মিনিটের সেই ঐতিহাসিক ভাষণই দেশের মুক্তিকামী মানুষের যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়ার সাহস ও উদ্দীপনা যোগায়।

বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা সংগ্রামের সকল দিকনির্দেশনা জাতির সম্মুখে তুলে ধরেন তাঁর বক্তৃতায়। বেলা সোয়া তিনটায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সভাস্থলে এসে উপস্থিত হন।

সফেদ পাজামা-পাঞ্জাবি ও কালো কোট পরিহিত শেখ মুজিব মঞ্চে এসে দাঁড়ালে বীর জনতা করতালি ও ‘জয়বাংলা’ স্লোগানের মধ্যদিয়ে তাঁকে অভিনন্দন জানান।

বক্তৃতায় বঙ্গবন্ধু আহবান জানালেন, ‘প্রত্যেক ঘরে ঘরে দূর্গ গড়ে তোল, তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে।

বঙ্গবন্ধু শাসকগোষ্ঠীকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তাঁর বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন, ‘এবারের সংগ্রাম, আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম।’

পরে স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ ও দেশ ও দেশের সকল মানুষের জন্য দোয়া করা হয়।