আসছে কঠোর লকডাউন

বাংলাবাজার পত্রিকা
ডেস্ক: চলমান লকডাউন শেষ হবে ১১ এপ্রিল রাত ১২টায়। শুরুতে বন্ধ থাকলেও পরে চলতে শুরু করেছে গণপরিবহন, খুলেছে শপিংমল-মার্কেটও।

অনেকটা ঢিলেঢালা এই লকডাউনে থামেনি সংক্রমণ, কমেনি মৃত্যু। এর ফলে এবার আসছে কঠোর লকডাউন।

১৪ এপ্রিল থেকে ৭ দিনের এই লকডাউনে জরুরি সেবা ছাড়া বন্ধ থাকবে সব কিছু। তবে কভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি সিটি করপোরেশন ও পৌর এলাকায় দুই সপ্তাহের পূর্ণ লকডাউন করার পরামর্শ দিয়েছে।

তাদের মতে, অন্তত দুই সপ্তাহের কঠোর লকডাউন ছাড়া করোনা ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।

এদিকে দেশে করোনা ভাইরাসে একদিনে সাত হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি মৃত্যু হয়েছে ৬৩ জনের।

শুক্রবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হয়েছেন ৭ হাজার ৪৬২ জন।

তাদের নিয়ে দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৬ লাখ ৭৩ হাজার ৫৯৪ জনে দাঁড়িয়েছে।

গত একদিনে মৃত ৬৩ জনকে নিয়ে দেশে করোনা ভাইরাসে মোট ৯ হাজার ৫৮৪ জনের মৃত্যু হলো।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন জানিয়েছেন, আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে সাত দিনের জন্য ‘কঠোর লকডাউনের’ মধ্যে জরুরি সেবা দেয়া প্রতিষ্ঠান ছাড়া সরকারি-বেসরকারি সব অফিস বন্ধ থাকবে।

তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণরোধে এবার কঠোর লকডাউনে যাচ্ছে সরকার। সংক্রমণ রোধে সবাইকে এর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে সাত দিনের জন্য এই লকডাউন দেয়া হবে। জরুরি সেবা দেয়া প্রতিষ্ঠান ছাড়া সরকারি-বেসরকারি সব অফিস বন্ধ থাকবে।

চলমান এক সপ্তাহের লকডাউন শেষের আগের দিন ‘রোববারের মধ্যে কঠোর লকডাউনের’ প্রজ্ঞাপন জারি করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ নেয়ায় এবং জনগণের অবহেলা ও উদাসীনতার কারণে সরকার ১৪ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ দেয়ার পরিকল্পনা করছে বলে শুক্রবার নিজের সরকারি বাসভবনে সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক সংবাদ সম্মেলনে জানান।

তিনি বলেন, দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার, সঙ্গে বাড়ছে জনগণের অবহেলা ও উদাসীনতা।

এমতাবস্থায় চলমান এক সপ্তাহের লকডাউনে জনগণের উদাসীন মানসিকতার কোনো পরিবর্তন না হওয়ায়, সরকার জনস্বার্থে আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের জন্য সর্বাত্মক লকডাউনের বিষয়ে সক্রিয় চিন্তা-ভাবনা করছে।

আগের দিন করোনা ভাইরাসে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৭৪ মৃত্যুর সংবাদের পর মহামারি থেকে মানুষকে বাঁচাতে সামনে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হতে পারে বলে সতর্ক করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

করোনা ভাইরাসের প্রকোপ দিন দিন বাড়তে থাকায় ৫ এপ্রিল ভোর ৬টা থেকে ১১ এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত সারাদেশে শপিং মল, দোকানপাট, হোটেল-রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি গণপরিবহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছিল।

বুধবার থেকে সিটি করপোরেশন এলাকায় সকাল-সন্ধ্যা গণপরিবহন সেবা চালু রাখার সিদ্ধান্ত দেয় সরকার।

গত রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে ১১ দফা নিষেধাজ্ঞায় সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত, ব্যাংক জরুরি প্রয়োজনে সীমিত পরিসরে খোলা রাখার সুযোগ দেয়া হয়।

এদিকে পহেলা বৈশাখ ও রোজার আগে দোকানপাট খুলতে কয়েকদিন ধরেই বিক্ষোভ চালিয়ে আসছিলেন দোকান মালিক ও কর্মচারীর।

দাবির মুখে বৃহস্পতিবার ‘কঠোর স্বাস্থ্যবিধি’ প্রতিপালন সাপেক্ষে লকডাউনের মধ্যেও দোকানপাট ও শপিংমলও খোলা রাখার সিদ্ধান্ত দেয় সরকার।

৯ এপ্রিল থেকে ১৩ এপ্রিল সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত দোকানপাট ও শপিংমল খোলা রাখা যাবে।

এদিকে দুই সপ্তাহের লকডাউন শেষ হওয়ার আগে সংক্রমণ পরিস্থিতি ও আক্রান্তের হার বিবেচনায় আবার সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারে বলে পরামর্শ দিয়েছে জাতীয় কমিটি।

কভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলা হয়েছে।

বুধবার রাতে কমিটির ৩০তম সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বলা হয়েছে, সারাদেশে কভিড-১৯ সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।

সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ১৮টি নির্দেশনা এবং পরবর্তীতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকেও বিধিনিষেধ দেয়া হয়।

এগুলো সঠিকভাবে মানা হচ্ছে না। এ কারণে সংক্রমণের হার বাড়ছে। বিধিনিষেধ আরো শক্তভাবে অনুসরণ করা দরকার।

কমিটি বলেছে, বিভিন্ন হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়াতে সরকারি পর্যায়ে নানা কার্যক্রম নেয়া হয়েছে।

তবে এই কার্যক্রমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে হাসপাতালের রোগী ভর্তির বাড়তি চাপ থাকায় অতি দ্রুত আরও সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।