চলন্ত বাসে গণধর্ষণ, রিমান্ডে ৫

বাংলাবাজার পত্রিকা
ডেস্ক: ঢাকার আশুলিয়ায় আবারও চলন্ত বাসে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে আশুলিয়া সিএন্ডবি বাইপাস সড়কে এ ঘটনা সংঘটিত হয়।

এ ঘটনায় ছয়জনকে আটক করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ। ঘটনার শিকার তরুণীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়েছে।

দলবেঁধে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে পাঁচজনকে রিমান্ডে নিয়ে তিন দিন ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ।

ছয় আসামিকে শনিবার ঢাকার আদালতে নিয়ে রিমান্ডের নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার পরিদর্শক জিয়াউল ইসলাম।

তিনি পাঁচ দিনের জন্য রিমান্ডে রাখার আবেদন করলেও শুনানি শেষে মহানগর হাকিম শাহজাদী তাহমিদা ৩ দিন রিমান্ডের আদেশ দেন আদালত পুলিশের কর্মকর্তা পরিদর্শক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন।

মামলার অন্য আসামি সুমন মিয়া (২৪) স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হয়েছেন জানিয়ে তা নিতে হাকিমের কাছে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

রিমান্ডে পাঠানো আসামিরা হলেন- ঢাকার তুরাগ থানার গুলবাগ ইন্দ্রপুর ভাসমান গ্রামের মো. আরিয়ান (১৮), কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার তারাগুনা এলাকার সাজু (২০), বগুড়ার ধুনট উপজেলার খাটিয়ামারি এলাকার সোহাগ (২৫), বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার জিয়ানগর গ্রামের সাইফুল ইসলাম (৪০) এবং নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার ধামঘর এলাকার মনোয়ার (২৪)।

তারা সবাই তুরাগ থানার কামারপাড়া এলাকায় ভাড়া থেকে আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল-নবীনগর মহাসড়কে মিনিবাস চালাতেন।

আটককৃত ছয়জনের মধ্যে রয়েছেন নিউ গ্রামবাংলা পরিবহন নামের একটি বাসের হেলপার ও সুপারভাইজার। বাসটিও জব্দ করেছে পুলিশ।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, অভিযোগকারী তরুণীর (২২) বোন মানিকগঞ্জে থাকেন। শুক্রবার তিনি বোনের বাসায় গিয়েছিলেন।

সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড থেকে একটি বাসে আশুলিয়ার নবীনগর এসে নেমেছিলেন। নারায়ণগঞ্জে নিজের বাসায় ফেরার জন্য নবীনগরে বাসের বাসের অপেক্ষায় ছিলেন তিনি।

রাত ৯টার দিকে নিউ গ্রামবাংলা নামে একটি মিনিবাসে ওঠেন তিনি টঙ্গী যাওয়ার জন্য। এজাহারে বলা হয়, বাস গন্তব্যে যাওয়ার আগেই অন্য যাত্রীদের নামিয়ে দেন বাস শ্রমিকরা।

তারা তরুণীকে জোর করে বাসে রেখে নবীনগর ফেরার যাত্রা করেন। এবং তখনই ওই তরুণীকে দলবেঁধে ধর্ষণ করেন বাসের চালক সুমন, সহকারী মনোয়ার ও সুপারভাইজার সাইফুল ইসলামসহ ছয়জন।

আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জিয়াউল ইসলাম বলেন, রাত সাড়ে ১১টার দিকে চিৎকার শুনে টহল পুলিশ বাস থামিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।

একই সঙ্গে তরুণীকে উদ্ধার করে। ওই তরুণী শুক্রবার রাতেই থানায় মামলা করেন। পরে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাঠানো হয়। বাংলাদেশে এর আগেও চলন্ত বাসে তরুণীকে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।

২০১৭ সালে একটি চলন্ত বাসে একজন তরুণীকে গণধর্ষণের পর তাকে ঘাড় মটকে হত্যা করে রাস্তার পাশে ফেলে দেয়ার ঘটনা বাংলাদেশে মারাত্মক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

এর আগে ২০১৩ ভারতের দিল্লিতে চলন্ত বাসে নির্ভয়া হত্যাকাণ্ড ও ধর্ষণের ঘটনা বিশ্বজুড়ে আলোচনার ঝড় তুলেছিল।