হাঁড়িভাঙ্গায় মজেছে লালমনিরহাটবাসী

বাংলাবাজার পত্রিকা
লালমনিরহাট: আম মানেই মধুময় ফল। আর এই আমের মধ্যে হাঁড়িভাঙ্গা প্রজাতির আমের জুড়ি নেই। সেই হাঁড়িভাঙ্গা আমের মধুর রসে মজেছে লালমনিরহাটবাসী।

সারি সারি দোকান বসিয়ে লালমনিরহাট শহরের মিশন মোড় এলাকায় বিক্রি হচ্ছে হাড়িভাঙ্গা আম। বিভিন্ন এলাকার বাজারে ও ফুটপাতে ভ্যানে ভ্যানে পাওয়া যাচ্ছে মধুময় এই জাতের আম। নাগালের মধ্যে দাম থাকায় ক্রেতারাও কিনছেন সাধ্য মতো।

বর্তমানে এক কেজি হাঁড়িভাঙ্গা আম বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩৫ টাকায়। এক সপ্তাহ আগে তা বিক্রি হয়েছিল ৪৫-৫০ টাকায়। বাজারে এ আমের দাম আরও কমতে পারে বলে ধারণা করছেন ব্যবসায়ীরা।

লালমনিরহাট শহরের মিশনমোড় এলাকার ফল ব্যবসায়ী জনি হোসেন বলেন, ‘লালমনিরহাট শহরে ৫০ জনের মতো স্থায়ী ফল ব্যবসায়ীর পাশাপাশি ৩৫০-৩০০ জন ভাসমান ফল ব্যবসায়ী এখন হাঁড়িভাঙ্গা আম বিক্রিতে ব্যস্ত।

তিনি বলেন, প্রতিবছর হাঁড়িভাঙ্গা আমের মৌসুমে এসব ব্যবসায়ীরা ব্যবসায় নামেন। তাদের ব্যবসা চলে এক থেকে দেড় মাস। ভাসমান ফল ব্যবসায়ীর প্রত্যেকে প্রতিদিন গড়ে ৪০০-৬০০ কেজি হাঁড়িভাঙ্গা আম বিক্রি করে।

জেলায় প্রতিদিন গড়ে চারশ থেকে সাড়ে পাঁচশ মেট্রিকটন হাঁড়িভাঙ্গা আম বিক্রি হচ্ছে বলে জানান তিনি।

ফল ব্যবসায়ী নুরুন্নবী ইসলাম জানান, তারা প্রতি কেজি হাঁড়িভাঙ্গা আম বিক্রি করে ৩-৪ টাকা লাভ করছেন। লালমনিরহাট ও রংপুরে বিভিন্ন বাগান মালিকের কাছ থেকে তারা সরাসরি আম কিনে বাজারে বিক্রি করেন।

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শামিম আশরাফ বলেন, জেলায় পাঁচ শতাধিক হাঁড়িভাঙ্গা আমের বাগান আছে। প্রতিটি বাগানে তিন একর থেকে শুরু করে ১৫ একর জমি আছে। এ জাতের আমের ফলনও ভালো, দামও ভালো- তাই কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের হাঁড়িভাঙ্গা আম চাষে উদ্বুদ্ধ করা হয়।