লৌহজংয়ে জমি দখলে বাধা, দুই ভাইকে কুপিয়ে জখম

মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে বাড়ির সীমানা দখলে বাধা দেয়ায় দুই ভাইকে কুপিয়ে জখম করেছে অবৈধ দখলদাররা

বাংলাবাজার পত্রিকা
মুন্সীগঞ্জ: মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে বাড়ির সীমানা দখলে বাধা দেয়ায় দুই ভাইকে কুপিয়ে জখম করেছে অবৈধ দখলদাররা। গুরুতর আহত একজন এখনও আইসিইউতে ভর্তি আছেন।

পবিত্র ঈদুল আজহার পরের দিন ২২ জুলাই লৌহজং উপজেলার গাওদিয়া গ্রামে এ ঘটনা সংঘটিত হয়। এরপর ১ আগস্ট লৌহজং থানায় এ বিষয়ে একটি মামলা করেছে নির্যাতিত পরিবার।

অবৈধভাবে জমি দখলে বাধা দেয়ায় ২২ জুলাই প্রতিবেশী আবুল মোল্লা তার সন্তানদের নিয়ে মৃত ফালান খানের ছেলে ফারুক খান (৪২) ও লতিফ খানের (৬৫) উপর শাবল ও চাপাতি দিয়ে হামলা চালিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে।

ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। এরমধ্যে ফারুক খানের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়।

অপর ভাই লতিফ খানের মাথায় ১৯টি সেলাই দেয়ার পর লৌহজং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ফারুক খানের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে দাবি করেছেন তার স্বজনরা।

এ ঘটনায় আহতদের চাচাতো ভাই মো. অহিদুল খান বাদী হয়ে লৌহজং থানায় আবুল মোল্লাসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনার পর থেকে হামলাকারীরা পলাতক রয়েছেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গাওদিয়া গ্রামের ফারুক খান ও লতিফ খানদের সাথে আবুল মোল্লার জমি নিয়ে দীর্ঘ দিনের বিরোধ। বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করে ১৯৯৫ সাল নিজেদের পক্ষে রায় পান ফারুক ও লতিফ খান। কিন্তু আদালতের রায় অমান্য করে আবুল মোল্লা জমি দখল করে জায়গা ভাড়া দেন।

স্থানীয় বাসিন্দা খোকন ঢালী, সাবেক ইউপি সদস্য সিরাজ ও জয়নাল জানান, আবুল মোল্লা অত্যন্ত দুষ্টু প্রকৃতির লোক। বিচারে বসার কথা বললেও সে বসতো না।

এছাড়া দাবি করা জমির কোনো দলিলপত্র দেখাতে পারেনি আবুল। গ্রামে নানা বিষয়ে নানাজনের সাথে ঝামেলা পাকাতে ওস্তাদ এই আবুল। এইজন্য এলাকায় তিনি গিরিঙ্গি আবুল নামে পরিচিত।

এ ঘটনার বিষয়ে মোবাইল ফোনে আবুল মোল্লা বলেন, আমি ও আমার সন্তানেরা কাউকে মারিনি। ওই জমি আমাদের। আমি কারও জমি দখল করিনি।

লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসাইন জানান, রোববার এ বিষয়ে একটি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আসামীদের গ্রেপ্তার গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।