স্যাপিয়েন্স: মানব জাতির সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

জামাত আলী
সম্প্রতি স্যাপিয়েন্স: মানব জাতির সংক্ষিপ্ত ইতিহাস নামে একটি বই পড়েছি। প্রতিটি পাতায় নতুন নতুন তথ্য পেয়ে মনে হলো বইটি রিভিউ করা দরকার। অন্যদেরও জানা উচিত এই বউ সম্পর্কে। তাই আমার রিভিউটি বাংলাবাজার পত্রিকার পাঠকদের জন্যে তুলে ধরলাম-
বইয়ের নাম: স্যাপিয়েন্স: মানব জাতির সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
লেখক: ইয়ুভাল নোয়াহ হারারি
বাংলা অনুবাদ: সৈয়দ ফায়েজ আহমেদ ও প্রত্যাশা প্রাচুর্য। বইয়ের পৃষ্ঠা- ৪৩২। মূল্য- ৫২০ টাকা, প্রাপ্তি স্থান- পাঠক সমাবেশ, আজিজ সুপার মার্কেট, ঢাকা।

সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্ব ইতিহাস বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হিব্রু বিশ্ববদ্যিালয়ের বিশিষ্ট অধ্যাপক ড: ইয়ুভাল নোয়াহ হারারির লেখা “স্যাপিয়েন্স” সম্পূর্ণ মানবজাতির ইতিহাস জুড়ে প্রসারিত-যাতে পৃথিবীর বুকে পদাচারণকারী প্রথম গুহা মানুষ থেকে শুরু করে বুদ্ধিদীপ্ত বর্তমান মানুষের উত্তোরণ আলোচিত ও সমালোচিত হয়েছে।

যারা বইয়ের নেশায় বুদ হয়ে থাকেন তাদের কাছে বইটি প্রায় ‌‌’ধর্মগ্রন্থের মত’ পূঁজনীয়। মাইক্রোসফটের কর্ণধার বিল গেটস্ বইটিকে তার প্রথম পছন্দ বলে মন্তব্য করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এটিকে তার পছন্দের তালিকায় থাকা বইয়ের মধ্যে শীর্ষে বলেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ আসিফ নজরুল সহ অন্যান্য বেশ কয়েকজন প্রফেসর বইটিকে মানবজাতির ক্রমবিকাশের সম্বন্ধে ভাবনার প্রসস্থতা বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন।

‘স্যাপিয়েন্স’ এ যাবত প্রায় ৫০টি ভাষায় অনুদিত হয়েছে এবং যুক্তরাজ্য, স্পেন, স্লোভেনিয়া, তাইওয়ান আন্তর্জাতিক বই মেলায় সর্বাধিক বিক্রিত বইয়ের মর্যাদা অর্জন করেছে।

আদি সংস্কৃতি: ইয়ুভাল নোয়াহ হারারি লিখেছেন যে, আমরা যদি আদি ভারত সংস্কৃতি খুজতে যাই তাহলে পেছাতে পেছাতে দেখা যাবে ৩ হাজার বছর আগে আর্যরা ভারত বর্ষে আসে।

তারা পশ্চিম এশিয়া থেকে এসেছে। এমনকি তাদের আগের দ্রাবিড়রাও স্থানীয় নয়। দ্রাবিড়দের আগে এ ভারতবর্ষে নিষাদরা থাকতো। দ্রাবিড় ও নিষাদদের সংস্কৃতি আর্যদের তুলনায় অনেক উন্নত ছিল।

কিন্তু আর্যরা এসে কৌশলে স্থানীয়দের উপর প্রাধান্য বিস্তার শুরু করে। মহেঞ্জদারো সভ্যতা কাদের তা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। কাজেই আদি খাটি ভারতীয় খোজা একটা মরীচিকা মাত্র।

এমনকি বর্তমান পৃথিবীতে আর কোন আদি খাটি সংস্কৃতি আর অবশিস্ট নেই। বিশ্বায়নের তোড়ে সমস্ত সংস্কৃতি একাকার হয়ে গেছে। তাই ইতালীয় রেস্তারাতে টমাটো সস মাখানো স্প্যাগেটি, পোলিশ এবং আইরিশ রেস্তোরায় প্রচুর আলু, আর্জেন্টিনীয় রেস্তোরায় বিফস্টেক এখন নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার।

আদিম মানুষের ইতিহাস: ইয়ুভাল নোয়াহ হারারি প্রাগৌতিহাসিক যুগের মানব-মানবী, প্রকৃতি ও পরিবেশ তাদের চিন্তা ভাবনা অবয়ব, বন্য-পাহাড়ি অঞ্চলের কর্কস জীবন বৈশিষ্ট্যের চিত্র অতি দক্ষতার সাথে তুলে ধরেছেন।

তার লেখার একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য সারৎসারতা প্রকাশের প্রয়াস। মানুষের ইতিহাস মূলত পুরা প্রস্তর যুগ থেকেই শুরু। আজ থেকে প্রায় এক লক্ষ বছর আগে অন্তত ছয়টি মানবজাতি এই পৃথিবীতে বসবাস করতেন।

এর মধ্যে হোমো রুডলফেনসিস ও অস্ট্রালোপিথেকাস (পূর্ব আফ্রিকা), ডেনিসোভা ও লিয়ান্ডারথাল (পশ্চিম এশিয়া ও ইউরোপ), হোমো ইরেক্টাস ও এরগাস্টার (পূর্ব এশিয়া), হোমো সোলোয়েনসিস ও হোমো ফ্লোরেসিয়েনসিস (ইন্দোনেশিয়া) প্রায় ২.৫ মিলিয়ন বছর আগে এই পৃথিবীতে বসবাস করত।

এই প্রাচীণ মানুষের অংশ বিশেষ তাদের জন্মভূমি ছেড়ে অধিক সাচ্ছন্দে জীবিকা নির্বাহের তাগিদে উত্তর আফ্রিকা, ইউরোপ এবং এশিয়া অভিমুখে যাত্রা শুরু করে।

কেউ কেউ একটি অঞ্চলেই বসবাস করতে থাকে, আবার কেউ কেউ আস্ত একটা মহাদেশ দাপিয়ে বেড়িয়েছে। এদের কোন কোন প্রজাতি ছিল শিকারী আবার কেউ কেউ ছিল শান্ত প্রকৃতির।

তাদের একে অপরের ওপর নির্ভরশীলতা, একত্রে বসবাসের পরিবেশ তৈরী করে দেয়। তখনকার মানুষ স্নায়বিক ও লম্বা হাতের বদৌলতে বাড়তি সুবিধা ভোগ করতে পারত যা অন্য প্রাণীরা পারত না।

তারা দলবদ্ধ হয়ে থাকতে শুরু করে। বড় বড় ব্যারাক তৈরি করে তাতে একত্রে থাকতে শুরু করে। আগুনের ও চাকার ব্যবহার তাদের জীবনের বড় ধরনের পরিবর্তন আনে।

এর ফলে মানুষ একধারে যেমন আলো জ্বালানীর উৎস পেল তেমন হিংস্র জানোয়ারদের ভয় দেখানোর জন্য নির্ভরযোগ্য আগ্নেয়াস্ত্র পেল।

প্রায় দেড় লক্ষ বছর আগে পূর্ব আফ্রিকাতে আমাদের গৌত্র হোমো স্যাপিয়েন্স অস্তিত্ব পাওয়া যায়। ৭০ হাজার বছর আগে হোমো স্যাপিয়েন্সরা পূর্ব আফ্রিকা থেকে আরবীয় উপদ্বীপ অঞ্চলে এসে পৌঁছে। পরে তারা গোটা ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে।

তখন ঐ সমস্ত অঞ্চলে যে অন্য প্রজাতির বন্য মানুষ বসবাস করতো বৈজ্ঞানিকদের ব্যাখ্যায় “আন্ত:প্রজনন তত্ত্ব” অনুসারে ঐ সকল প্রজাতির মানুষের সাথে কিছু কিছু প্রজনন ঘটিয়ে যেতে থাকে।

স্যাপিয়েন্সরা মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে পৌঁছে মুখোমুখি হয় লিয়ান্ডারথালদের সাথে এবং আন্ত:প্রজনন ঘটিয়ে অল্প কিছু মিশ্র মানবগোষ্ঠির সৃষ্টি করে। তাই আজকের ইউরোপিয়ানরা স্যাপিয়েন্স ও লিয়ান্ডারথাল মিশ্র জাতি।

সেইরুপ স্যাপিয়েন্সরা পূর্ব এশিয়া পৌঁছে স্থানীয় ইরেক্টাসদের সাথে প্রজনন ঘটিয়ে স্বল্প কিছু মিশ্র মানব সন্তানের জন্ম দেয়, যার ফলশ্রুতিতে বর্তমান চীনা ও কোরিয়ানরা স্যাপিয়েন্স ও ইরেকটাসদের সংকর বলে অনুমেয়।

এটা অনিবার্য সত্য যে, সাপিয়েন্সদের আর্বিভাবের সাথে সাথে এবং তাদের আধিপত্যের তোড়ে সে অঞ্চলের স্থানীয় মানবজাতি গুলো ধ্বংস প্রাপ্ত হতে থাকে। আজ থেকে ৫০ হাজার বছর আগে হোমো সোলোয়েনসিসদের চিহ্ন বিলুপ্ত হয়।

তার অল্প সময় পরেই হোমো ডেনিসোভারা বিলুপ্ত হয় এবং প্রায় ৩০ হাজার বছর আগে বিলুপ্ত হয় লিয়ান্ডারথালরা। লিয়ান্ডারথাল মানবের কংকাল পাওয়া গেছে পৃথিবীর নানা স্থানে।

মাত্র ১২ হাজার বছর আগে হারিয়ে গেছে ফ্লোরেন্স দ্বীপের বামন মানুষরা। প্রায় ১০ লক্ষ বছর আগে জাভা মানব ও পিকিং মানবের বসবাস ছিল।

হোমো স্যাপিয়েন্সদের একমাত্র পৃথিবীতে টিকে থাকার রহস্য বৈজ্ঞানিকদের মতে তাদের ভাষা জ্ঞান, মুদ্ধিমত্তা অর্থাৎ শেখার, মনে রাখার ও যোগাযোগ স্থাপনের সামর্থ যা প্রাণী জগতে অদ্বিতীয়।

আর তাদের লিপি যা পরবর্তী প্রজন্মকে আরো জ্ঞানে উদ্ভুদ্ধ, সম্বৃদ্ধ ও আলোকিত করেছে, যাতে সভ্যতা ক্রমশ অগ্রসর হতে পেরেছে। প্রায় ৩০ হাজার বছর আগে থেকেই আমাদের পূর্ব পুরুষরা “স্টাডেল” গুহায় সিংহমানবের ভাস্কর্য তৈরি করেছিল। সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ হওয়ায় পূর্বাভাস পাওয়া গেল।

স্যাপিয়েন্সরা ইউরোপ ও পূর্ব এশিয়া যারা প্রায় ৪৫ হাজার বছর আগে সমুদ্র পার হয়ে অস্ট্রেলিয়া পৌঁছে। কারণ এর আগে থেকেই স্যাপিয়েন্সরা নৌকা, চাকা ও আলোর বাতি, তীরধনু ও সুই ব্যবহার করা রপ্ত করেছিল।

বিশ্ব এখন পর্যন্ত পাড়ি দিয়েছে চারটি বরফ যুগ। প্রতি যুগেই এর প্রভাবে অন্যান্য প্রাণীসহ মানুষের দেহের আকৃতিতে প্রভাব পড়েছে। জীবন যাপন পদ্ধতিরও অনেক পরিবর্তন এসেছে।

ইতিহাসের গতিপথকে তিনটি বিপ্লব বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। তা হচ্ছে ৭০ হাজার বছর আগে বুদ্ধিবৃত্তিক বিপ্লব, ১২ হাজার বছর আগে কৃষি বিপ্লব এবং ৫০০ বছর আগে বৈজ্ঞানিক বিপ্লব।

কৃষি বিপ্লবের পর থেকে মানব সমাজ আকারে অনেক বড় হতে থাকে। সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম কানুন পালন করতে হতো, যাতে হাজার হাজার অপরিচিত মানুষকে একে অপরের সাথে সাচ্ছন্দে মিশতে পারে।

এই তৈরি প্রবৃত্তির নেটওয়ার্ক হচ্ছে সাংস্কৃতি। ইয়ুভাল নোয়াহ হারারি জারেড ডায়মন্ডের বই দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন। খ্রিষ্টপূর্ব ৩ হাজার সালের দিকে প্রথম ফারাও সমস্ত মিশরকে একত্রিত করেছিলেন এবং তাদের ধারণা মিশরের অপর প্রান্তে বর্বর লোকের বসবাস।

বর্তমানকালে পৃথিবীর মানুষ উত্তরোত্তর সাম্রাজ্যের ডাকেই সাড়া দিচ্ছে। কারন অর্থ আর সাম্রাজ্যের পর তৃতীয় বৃহত্তর শক্তি হচ্ছে ধর্ম যা মানুষকে একত্রিত করেছে। হিন্দু বহু ঈশ্বর বাদে, পরমাত্মা নামক একটি একক সত্বাই অগনিত দেব-দেবী, প্রেত, মানবজাতি এক জৈবিক ও ভৌত জগতকে নিয়ন্ত্রণ করে।

পরমাত্মা হলো গোটা মহাবিশ্ব এবং একইভাব প্রতিটি এককের শ্বাশ্বত সার বা চৈতন্য। হিন্দুরা আংশিক ক্ষমতার দেব-দেবীর শরণাপন্ন হন। তাদের সাহায্য বাধনে দেবতাদের এই বন্ধুত্ব।

পৃথিবীতে প্রথম একেশ্বর বাদে আবির্ভাব হয় মিশরে। খ্রিষ্টপূর্ব ৩৫০ অব্দে, যখন ফারাও আখনাতেন ঘোষণা দেন যে, মিশরের সকল দেবতাদের শক্তিধর দেবতা ‘আতেন’ই মহাবিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করছে। এর মৃত্যুর সাথে সাথেই এই ধর্ম চর্চা বন্ধ হয়ে যায়।

সপ্তম দশকে আরবীয় উপদ্বীপে একেশ্বরবাদী ধর্ম ইসলামের আবির্ভাব হয়। যা ঐতিহাসিক চমকের মধ্য দিয়ে আরব থেকে আটলান্টিক মহাসাগর পার হয়ে ভারত বর্ষ পর্যন্ত বিস্তার লাভ করে।

এরপর থেকেই পৃথিবীর ইতিহাসে একেশ্বরবাদ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। একেশ্বরবাদী ছাড়াও পৃথিবীতে দ্বৈতবাদী, বহু ঈশ্বরবাদী এবং সর্বপ্রাণীবাদী ধর্মের অনুসারী কম হলেও রয়েছে।

লেখক হারারি আরও বিস্তারিত লিখেছেন পৃথিবীতে ২০০ কোটি খ্রিষ্টান এবং ১২৫ কোটি মুসলমান রয়েছে। ১৫০০ খ্রিষ্টাব্দে পুরো পৃথিবীর হোমো স্যাপিয়েনদের সংখ্যা ছিল প্রায় ৫০ কোটি। বর্তমানে ৭০০ কোটি বা ৭ বিলিয়ন।

বৈজ্ঞানিক বিপ্লবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহুর্তটি এসেছিল ১৯৫০ সালের ১৬ ই জুলাই বিকাল ৫.২৯ মিনিট ৪ সেকেন্ডে। বিজ্ঞানীরা নিউ মেক্সিকোর আলামোগোর্দো পারমানবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়।

এতে মানুষ রপ্ত করেছে ইতিহাসের শুধু গতিপথ পরিবর্তনই নয় গোটা বিশ্ব ধ্বংস করার ক্ষমতা অর্জন করেছে। পারমানবিক পদার্থ বিজ্ঞানী রবাট ওপেনহাইমার তখন ভগবত গীতার শ্লোক আওরেছিলেন- “এই আমি জগতের সংহারক হয়ে উঠেছি”।

গিলগামেশ প্রসঙ্গ: অমরত্ম লাভের অভিযান বইটিতে প্রাচীন ব্যাবিলনের রাজা গিলগামেশ, যাকে প্রথম মানবজাতির কাব্যকার বলে মানা হয়, তার মৃত্যুজয়ের এপিক সম্বন্ধে বর্নণা আছে। মৃত্যুকে জয় করতে হবে কিন্তু তার সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

তিনি জ্ঞাত হন যে, সৃষ্টিকর্তা যখন মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তখন মৃত্যুকে অলংঘনীয় পরিণতি হিসেবে নির্ধারণ করে দিয়েছেন। এ থেকে পরিত্রাণের উপায় নাই। এটি মেনেই মানুষকে পৃথিবীতে বাঁচতে হবে।

হাম্মুরাবি মিথ: খ্রিষ্টপূর্ব ১৭৭৬ সালে এটি ইতিহাসের সবচেয়ে বেশী পরিচিত একটি মিথ। খ্রিষ্টপূর্ব ১৭৭৬ সালের হাম্মুরাবির কোড (আইন) প্রবর্তিত হয়। এটিই প্রাচীনতম লিখিত আইন।

বেবিলন তৎকালীন পৃথিবীর বৃহত্তম সাম্রাজ্য যা মেসোপটেমিয়ার বেশির ভাগ অংশ, ইরানের অংশ, সিরিয়া আর ইরাকের অংশ জুরে বিস্তৃত ছিল।

ইতিকথা: মোটের ওপর ১০ লক্ষ বছরের বিবর্তনে আজ ছড়িয়ে আছে মানব সভ্যতা। ৭০ হাজার বছর আগেও হোমো স্যাপিয়েন্স ছিল আফ্রিকার এক কোনে নগন্য প্রাণী হিসেবে।

পরের সহস্রাব্দ গুলোতে এরা নিজেদের পুরো গ্রহের প্রভু হয়ে এক মূর্তিমান আতংকে পরিণত হয়েছে। আজকে তারা দেবতা হয়ে উঠার দ্বারপ্রান্তে। তাদের কার্যকলাপে গ্রহের অন্যান্য প্রাণীদের জীবন বিপন্ন হচ্ছে।

আমরা অনেক উন্নতি করতে সক্ষম হয়েছি কিন্তু দূর্ভিক্ষ, মহামারী, যুদ্ধ কমাতে ও পরিবেশের উন্নতি করতে পেরেছি কি? আমাদের অভিষ্ট লক্ষ্যের কোন ঠিকানা নাই।

পারমানবিক বোমার আমাদের কোন কাজে আসবে কি? এক ধ্বংস ছাড়া। আমরা কি চাই, তাই জানিনা- এর চেয়ে ভয়ংকর আর কিছু আছে কী।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট