জ্বলছে ইউক্রেন, ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ

বাংলাবাজার পত্রিকা
ডেস্ক: ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ঢুকে পড়েছে রাশিয়ার সেনা। দেশটির প্রতিরোধের মুখে শুরু হয়েছে তুমুল যুদ্ধ। ফলে জ্বলছে কিয়েভ, শুরু হয়েছে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ। যে কোনো সময় পতন হতে পারে এর প্রশাসনিক ক্ষমতা। প্রাণ বাঁচাতে দেশ ছেড়ে পালাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ।

এদিকে উভয়পক্ষে সেনাসহ সহস্রাধিক ব্যক্তি নিহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। রাশিয়ার আগ্রাসী ভূমিকায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিশ্ব নেতারা।

একই সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্গেই ল্যাভরভের সম্পদ জব্দ করার কথা ঘোষণা করেছে ইউরোপিও ইউনিয়ন।

অন্যদিকে রাশিয়ার বাহিনী কিয়েভ দখলের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যাওয়ার পর ক্রেমলিন বলেছে, ইউক্রেনের সঙ্গে তৃতীয় কোনো দেশে আলোচনায় বসতে তারা প্রস্তুত। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভের বরাত দিয়ে রাশিয়ার বার্তা সংস্থা রিয়া নোভোস্তি শুক্রবার এ খবর দিয়েছে।

দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, আলোচনা করতে চাইলে বেলারুশের রাজধানী মিনস্কে তা হতে পারে। তবে শর্ত হলো, এই আলোচনা হবে ‘ইউক্রেনের নিরপেক্ষ অবস্থান’ ঘোষণার লক্ষ্য নিয়ে— যার মধ্যে দেশটির ‘বেসামরিকীকরণের’ কথাও থাকবে।

সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত দেশ ইউক্রেন নেটো সামরিক জোটের সদস্য হতে চায়। যুক্তরাষ্ট্র আর ইউরোপীয় মিত্ররাও তাতে মোটামুটি রাজি। কিন্তু প্রতিবেশী বড় দেশ রাশিয়ার তাতে ঘোর আপত্তি।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি এ বিষয়ে আলোচনার আহ্বান জানালেও রাশিয়ার নেতা পুতিনের কাছ থেকে কখনো সাড়া মেলেনি।

বিবিসি লিখেছে, ইউক্রেন সংকটের এই সময়ে আরেক প্রতিবেশী দেশ বেলারুশের রাজধানী মিনস্ক এখন আবার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

২০১৪ সালে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে সংঘাত থামানোর জন্য এ মিনস্কেই সমঝোতা চুক্তি সই হয়েছিল। এখন ইউক্রেনে আগ্রাসন চালিয়ে সেই চুক্তি ভঙ্গ করলেন পুতিন।

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ এর আগে বলেছিলেন, ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী আত্মসমর্পণ না করলে কোনো ধরনের আলোচনায় যাবে না রাশিয়া।