রিয়া চক্রবর্তীর তিনটি কবিতা

কবির মৃত্যু
সেদিন কবির মৃত্যু হবে
যেদিন তার কাছে থাকবে না
একটিও শব্দ অবশিষ্ট
তার কলমের থেকে
সৃষ্টি হবে না কোন কবিতা

যা এক সময় ছিল কবির
হৃদয় খুঁড়ে বের করা
অস্থি-মজ্জা মিশ্রিত শব্দ
কলমের ধমনীতে বয়ে চলা
কবির রক্ত ধারা

আর ঠিক সেইদিনই কবির
নিঃশ্বাসের কোনও শব্দ থাকবে না……

মন খারাপ
এই শব্দ এক্ষুনি তাকে ছুঁয়ে যাক
আজ যার সবচাইতে মন খারাপ,
অযথা শব্দবাণ ভুলে যাওয়া যাক।
সাতকাহনের ঘুর্ণিপাকে বয়ে যাওয়া,
মনকুচি উড়ে উড়ে ঘর-জুড়ে বেড়াক।

হাবিজাবি কত জনা কত কথা বলে ।
জানা অজানা মন ভাসে অশ্রুজলে
রাতচরা সব কথা ভুলে যাওয়া যাক।
আনাচকানাচে থাকা আনন্দকুচি যত,
নেমে আসুক ফুরফুরে হাওয়া ঘর-জুড়ে,
এককুচি তুলে রাখি মন পরাগ মুড়ে।।

সঙ্কোচনের আগে
কখনো মাঝরাতে পথভুলে পৃথিবীর
নাভি ঘেঁষে ওঠে একফালি চাঁদ।
নিঃশ্বাসের ওঠানামায় দিগভুল হয়
হাওয়াদের চিরচেনা পথের।
কখনো চোখের কোনের চিকচিকে বালি
ঢেকে দেয় রাতজাগা তারাখসা জল।

ভোরও মাঝে মাঝে ক্লান্ত হয়ে যায়
রোদেরাও লুকোতে চায় মেঘের ছায়ায়।
উতল নদীরা জল সেচে, মাতাল হয়ে
পাড় ভাঙে কোন শান্ত বৃদ্ধ গ্রামের।
তখনও ঘুম ভেঙে জেগে ওঠেনি শহর
মনের সংযমের বাঁধ ভেঙে ছারখার।
ধীর স্থির পায়ে ঘুরে ফেরে ইচ্ছেরা
লজ্জায় খসে যায় ভোরের আঁচল।

কখনও কখনও অভিমানের গনগনে আঁচে,
ভেঙে দেয় মনের যত বে-আব্রু সঙ্কোচ।
কুয়াশা চাদরে নিজেকে মুড়েছে পৃথিবী।
বোঝেনা কেউ, বুঝতে চায় না কেউ।
কখনো ইচ্ছেরাও গলে পরে,ঝরে পরে।

মানে অপমানে পৃথিবীও কক্ষচ্যুত হয়।

-পশ্চিমবঙ্গ, ভারত