কালবৈশাখীর তাণ্ডব, নারীসহ ৫ জনের মৃত্যু

কালবৈশাখীর তাণ্ডবে খোদ রাজধানীতেও বহু গাছ উপড়ে পড়ে- বাংলাবাজার পত্রিকা

বাংলাবাজার পত্রিকা
ডেস্ক: গ্রীস্মের খরতাপে পুড়ছে চারপাশ। আম-কাঁঠাল পাকানো এই গরমে মানুষই পেকে যাওয়ার অবস্থা। সেই গরমের তীব্রতায় এবার শুরু হয়েছে কালবৈশাখীর তাণ্ডব। শনিবার দেশের বিভিন্ন স্থানে ১০ থেকে ১৫ মিনিট স্থায়ী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বিভিন্ন জেলায় হাজার হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে, উপড়ে গেছে গাছপালা, বিদ্যুৎতের খুটি। এছাড়া ক্ষতি হয়েছে বোরো ফসল আর সবজির। ঝড়ের সময় বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।

আগামী সপ্তাহজুড়েও দেশে কালবৈশাখীর আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এই সময়ে তাপমাত্রা কিছুটা কম থাকলেও ২৮ মের পর থেকে আবারও বাড়তে শুরু করবে বলে জানা গেছে।

আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়, মিয়ানমারের দক্ষিণে আন্দামান সাগরের কাছে মার্তবান উপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে প্রথমে সুস্পষ্ট লঘুচাপ এবং পরবর্তী সময় নিম্নচাপে পরিণত হয়।

এরপর এটি দুর্বল হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপ আকারে বর্তমানে থাইল্যান্ড ও তৎসংলগ্ন মিয়ানমার এলাকায় অবস্থান করছে। লঘুচাপের বর্ধিতাংশ ভারতের বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে প্রবল বিজলি চমকানোসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সে সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

দেশজুড়ে আঘাত হানা শনিবারের ঝড়ে ফরিদপুরের মধুখালীতে গাছের নিচে চাপা পড়ে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে, ময়মনসিংহে ঝড়ের সময় বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে চলন্ত ভ্যানে পড়ে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে, বগুড়ায় গাছের নিচে চাপা পড়ে দুজনের প্রাণহানি ঘটেছে।

এছাড়া কুষ্টিয়ায় ঝড়ের তাণ্ডবে ভেঙে গেছে শতাধিক বৈদ্যুতিক খুঁটি, জয়পুরহাটে ঘূর্ণিঝড়ে উপড়ে গেছে গাছপালা, বাড়িঘর, বোরো ধানের ক্ষতি, মুন্সীগঞ্জে পদ্মা নদীতে ট্রলার ডুবি, নিখোঁজ ২, ঝিনাইদহে ১০ মিনিটের ঝড়ে লণ্ডভণ্ড গ্রামের পর গ্রাম, নোয়াখালীতে কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত, মুন্সিগঞ্জে লণ্ডভণ্ড ২ গ্রাম, আহত ১০, সিরাজগঞ্জে ঝড়ে লণ্ডভণ্ড কাজিপুর গ্রাম, নওগাঁয় কালবৈশাখীর তাণ্ডব, ঘরবাড়ি লণ্ডভণ্ড, চুয়াডাঙ্গায় বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত, সড়ক ও রেলপথে বিপর্যয়, পিরোজপুরে ৫ মিনিটের ঘূর্ণিঝড়ে বিনষ্ট সহস্রাধিক গাছ-অর্ধশত ঘর ও ভোলায় কালবৈশাখী ঝড়ে ডুবে গেছে একটি বাল্কহেড।

বগুড়ায় গাছের নিচে চাপা পড়ে কাহালু ও শাজাহানপুর উপজেলায় দুজনের প্রাণহানি ঘটেছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। আহত ব্যক্তিদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহত দুজন হলেন কাহালুর কালাই ইউনিয়নের মাঝপাড়া গ্রামের শাহিন আলম প্রধান (৪২) ও শাজাহানপুরের বৃ-কুষ্টিয়া গ্রামের আবদুল হালিম (৪২)। শাহিন প্রধান ঘটনাস্থলেই আর আবদুল হালিম শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফেরার পর শনিবার দুপুরে মারা যান।

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় প্রবল ঝড়ের তাণ্ডবে গাছের ডাল পড়ে ৫৫ বছর বয়সি এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে। শনিবার ভোরে উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নের গন্ধখালী পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

নিহত রাবেয়া বেগম মনসুর মোল্লার স্ত্রী। তিনি এক ছেলে ও দুই মেয়ের জননী। সকাল ৬টা ১০ মিনিটে রাবেয়া বেগম ঝড়ের সময় নলকূপ থেকে পানি আনতে গেলে গাছের ডাল মাথায় পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

ঝড়ের সময় ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জে চলন্ত ভ্যানের ওপর বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়ে চালকসহ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকাল ৬টার দিকে মহানগরীর ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের চাইনামোড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। মৃতরা হলেন নগরীর চর ঈশ্বরদিয়া এলাকার হারুন অর রশিদের ছেলে মিন্টু মিয়া (৩৫)। তিনিও চর নিলক্ষীয়া এলাকার মৃত আইন উদ্দিনের ছেলে শহিদ (৪৭)।