দেশে বাড়ছে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড

বাংলাবাজার পত্রিকা
ডেস্ক: ঢাকাসহ সারাদেশে বেড়েছে খুন, ধর্ষণ, মাদক কারবার, চুরি, চোরাচালান, ডাকাতি ও সাইবার ক্রাইমসহ নানা ধরনের অপরাধ।

এরমধ্যে পারিবারিক সহিংসতা, প্রভাব বিস্তারের জের, জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও পূর্ব শত্রুতাও অন্যতম কারণ এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পেছনে।

বিশেষ করে অপরাধকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার পর বেশিরভাগ ঘটনা মামলা পর্যন্ত গড়ায় না। ভুক্তোভোগীরা মামলা করে আবার ঝামেলায় জড়াতে চান না।

কারণ বেশিরভাগ ভুক্তভোগীর ধারণা মামলা করে প্রতিকার পাওয়া যাবে না। তারপরও কিছু ঘটনার পর থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

এদিকে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে যথাযথ কার্যক্রমের জন্য জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। অপরাধ রোধে আইনি নিয়ন্ত্রণের চেয়ে সামাজিক নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি বেশি কার্যকর বলে মনে করছেন অপরাধ বিশ্লেষকরা।

সম্প্রতি প্রায় প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন স্থানে বাড়ছে হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ ও নির্যাতনের মতো ভয়াবহ ঘটনা। অনেক ঘটনায় অপরাধী আটক হচ্ছে, জামিনে বের হয়ে একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। বাড়ছে না সচেতনতা।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) সূত্র বলছেন, গত এক বছরে সারাদেশে পারিবারিক সহিংসতায় খুনোখুনির ঘটনা ৫০টির বেশি।

এর মধ্যে স্বামীর হাতে স্ত্রী, ভাইয়ের হাতে ভাই, স্ত্রীর হাতে স্বামী, সন্তানের হাতে বাবা কিংবা বাবার দ্বারা সন্তান খুনের ঘটনা রয়েছে।

পুলিশ সদর দফতরের ওয়েবসাইটে ২০১৯ সাল থেকে হত্যাসহ অপরাধের তথ্য প্রকাশ বন্ধ রয়েছে। সূত্র বলছেন, বছরে ঢাকায় গড়ে ২৫০টি হত্যার ঘটনা ঘটে। আর সারাদেশে প্রায় ৪ হাজার।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ৫০টি থানার জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির বিভিন্ন মামলার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, রাজধানী ঢাকায় খুন, চাঁদাবাজি, গাড়ি চুরি ও দস্যুতার মতো অপরাধ বেড়েছে।

কমেনি ছিনতাইয়ের ঘটনাও। এ বছরের জানুয়ারিতে রাজধানীতে খুন হন ৯ জন। ফেব্রুয়ারিতে খুনের ঘটনা ১২টি। এর মধ্যে পাঁচটি খুনের ঘটনাই মিরপুরে।

খুনের সঙ্গে ঢাকায় মোটরসাইকেলসহ গাড়ি চুরির ঘটনাও বেড়েছে। ফেব্রুয়ারিতে এ রকম ৩৬টি ঘটনায় মামলা হয়েছে। এর আগে জানুয়ারিতে মোটরসাইকেল বা গাড়ি চুরির মামলা হয়েছিল ৩১টি।

চাঁদাবাজির ঘটনায় গত দুই মাসে ঢাকায় মামলা হয়েছে ১৬টি। গত মাসে ৯টি ও জানুয়ারিতে সাতটি। তবে অনেকে হয়রানি এড়াতে এবং চাঁদাবাজদের হুমকির কারণে মামলা করতে চান না।

পুলিশ বলছে, করোনার কারণে রাস্তায় মানুষের উপস্থিতি কম থাকায় চুরি ও দস্যুতা কম ছিল। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় এখন আগের মতোই রাজধানী কর্মব্যস্ত।

এছাড়া ঢাকায় মাদকসেবীর সংখ্যা বেড়েছে। মাদকের টাকা জোগাড় করতে চুরি, ছিনতাই ও দস্যুতার মতো অপরাধে জড়াচ্ছেন মাদকসেবীরা।

রাজধানীতে ছিনতাইয়ের ঘটনায় জানুয়ারিতে পাঁচটি ও ফেব্রুয়ারিতে আরও পাঁচটি মামলা হয়েছে। তবে ডিএমপির এ মামলার তথ্যে প্রকৃত চিত্র উঠে আসে না। কারণ ছিনতাইয়ের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা থানায় গিয়ে মামলা করেন না।