তিথি আফরোজ এর তিনটি কবিতা

।। মনপাখি।।

বলো মনপাখি, কোনখানে ছুঁয়ে দিলে
তোমার প্রণয় হবে রসালো খেজুর বৃক্ষ আর আমার জিহ্বায় ঝরে পড়বে অমিয়ধারা?

হাঁড়ি পেতে বসে আছি নূহের প্লাবনের পরে বেঁচে যাওয়া আত্মা নিয়ে। আত্মায় আত্মার সুখ দিয়ে সেই যে বসে আছো সোলাইমানের লাঠির মতো হাজার হাজার বছর এভাবে কি শরীর চলে? ঘুণপোকা কাটছে বিষণ্ণ বাম অলিন্দ, আয়ুতে ধরেছে মরকঘ্রাণ। এসো, ভোরের রঙ ছু্ঁয়ে জ্বলে ওঠা নতুন দিনে।

আর কোন সুরে লিখে দিলে পদ্য হবে একটা জীবন্ত গান, যা শুনে শুনে ঘুমাবে হাজার বছরের নির্ঘুম রাত?
জোনাকবাতি জ্বেলে লিখে যাই ব্যাথা, প্রেম যা দিয়ে নিয়ে গেলে সুখ তার তাল আজো পেয়েছে কি মনসমুদ্দুর দেখা!

।। প্রেমপাখি।।

প্রস্ফুটিত ফুলের সফল কৃতিত্বের অমিয় ফল চেয়ে আছি, দেখো প্রেমময় চোখে।
রূপ-রস-গন্ধে এ বোধিবৃক্ষ টালমাটাল; ছুঁয়ে যাও প্রেমপাখি প্রিয় পালকের প্রণয়ে।

চিরবসন্তের কূজনে কোলাহল তল্লাটে চুমে যাও ঠোঁট
অধরের পাশে জাগিয়ে দাও কামনার কম্পন। আদিগন্ত ওড়া পাখি জিরিয়ে নাও জীবনের সঞ্চয়। অধীর অপেক্ষার অবসান ঘটাও নিমগ্ন করে অন্তরে অন্তর।

টইটুম্বুর রস শরাবের মৌসুম খোঁজে পাখিস্নান ঘাটে।
অবগাহনের প্রহর ঘনিয়ে আসুক এক জ্যোৎস্নাজ্বলা রাতে। পাখিগানের তীব্র অপেক্ষায় মোহফল জাগে পৃথিবীর প্রতিটি প্রভাতে।

।। অবশেষে বুঝলাম মরে গেছি।।

একদিন আচানক আমার জন্ম টের পেয়েছিলাম। সোনালি জরিন ময়ূরপঙ্খী হয়ে উড়ছিলাম। ডানায় ছিলো মণি, মুক্তো আর চোখ ঝলসানো নীলা। মেঘের ঢেউ দোলা দিতো অনন্ত সুরের। রিনিঝিনি নক্ষত্ররাজির কলতান।

তারকাদের প্রচ্ছদ এঁকে যেতাম দীর্ঘ আলোয়। আলো খেলার প্রতিযোগিতায় আমরা অনুরণন তুলতাম বৃষ্টিতে। বৃষ্টিরা কেঁদে হেসে একাকার হয়ে অভিমানী পোষাকে নেমে পড়তো পৃথিবীতে।

একদিন সুখের রঙ বেশি পরিচিত হলে অবসাদ সুড়সুড়ি দিলো। সেদিন বৃষ্টির অভিমান ছিলো আমাদের ডানার ঈর্ষায়। আমার ভাবনার গভীরতা টালমাটাল হলো। নেমে পড়লাম পাখনা খুলে।

প্ররোচিত হলাম, বোকার জীবাণু বাসা বাঁধলো মনে। কেড়ে নিলো মানুষ নামের প্রাণী আমার পাখনা। ঢুকিয়ে দিলো বুকে পেরেক। ছুলে নিলো জরিন ছালবাকল। উলঙ্গ করলো কলিজা। টুপটুপ করে গড়িয়ে গেলো প্রাণ।

বুঝতে পারলাম আমি আজ মৃত!