পদ্মা সেতু নিয়ে বিশিষ্টজনের প্রতিক্রিয়া

বাংলাবাজার পত্রিকা
ডেস্ক: দেশের অন্যতম বড় স্থাপনা পদ্মা সেতুর উদ্বোধনে সরকার ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সাধুবাদ জানিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বিশিষ্টজনরা।

এরমধ্যে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়ে জাতিকে পদ্মা সেতু উপহার দিয়েছেন।

জাতি এতে গৌরবান্বিত। শনিবার পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে মাওয়া প্রান্তে আয়োজিত সুধী সমাবেশে অংশ নেয়ার সময় জাফরুল্লাহ চৌধুরী সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, সবাই বলেছিল, এই সেতুর নাম শেখ হাসিনা সেতু করতে। উনি করেননি। পদ্মা সেতু নাম রেখেছেন।

প্রধানমন্ত্রী একটা বিরাট কাজ করেছেন। ভয়ানক প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছেন। উনার পিতা যেমন একটা প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছিলেন একাত্তরের সাতই মার্চে, উনি আজকে তাই করেছেন।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, আজকের এই দিন আমার কাছে অবশ্যই মাহেন্দ্রক্ষণ ও অবস্মরণীয়।

পৃথিবীর বুকে বাঙালির মান-মর্যাদা ও প্রত্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে। পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে জিডিপিতে ১ দশমিক ৫ শতাংশ যোগ হবে।

দারিদ্র্য কমবে দশমিক ৭৫ শতাংশ। আমাদের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির যে প্রচণ্ড গতি, তা আরও বাড়িয়ে দেবে।

এই গতি যে বস্তুভিত্তিক পরিবর্তনই আনবে তা নয়, মনস্তাত্ত্বিকভাবেও উপরে ওঠার ক্ষেত্রে বিশেষ ধাক্কা যা আমাদের মনোবল আরাও চাঙা করবে।

আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা আমির হোসেন আমু বলেন, দক্ষিণাঞ্চল এক সময় অবহেলিত ছিল।

সত্য কথা বলতে কী, এক সময় এ অঞ্চলে অবকাঠামোগত উন্নয়নই ছিল না। দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোর রাস্তা-ঘাট, সেতু ছিল না বললেই চলে।

এই প্রকল্পের কারণে গোটা দেশ অর্থনৈতিকভাবে অনেক এগিয়ে যাবে। পদ্মা সেতু আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের প্রতীক বলে মনে করি।

আরও সহজ কথায় যদি বলি, এই সেতু দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক হাব হবে। এখানে মানুষ এখন বিনিয়োগ করতে আসবে। এটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত কল্যাণকর একটি অবকাঠামো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ড. আতিউর রহমান মনে করেন পদ্মা সেতু আমাদের অর্থনৈতিক মুক্তির এক অনন্য প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, নিশ্চিতভাবেই দক্ষিণ বাংলার অর্থনীতিতে এর ব্যাপক প্রভাব পড়বে। এ অঞ্চলের ২১টি জেলার অর্থনীতি ও সমাজে আসবে অকল্পনীয় পরিবর্তন।

এই সেতু চালু হওয়ায় দক্ষিণ বাংলার মানুষ অল্প সময়ে ঢাকায় যাতায়াত করতে পারবেন।

দিনের পর দিন আর পণ্যবাহী ট্রাকগুলো ফেরি পারাপারের অপেক্ষায় বসে থাকবে না। আর ঝড়বৃষ্টিতে ফেরি বন্ধ থাকার কারণে মানুষের যাতায়াতও থমকে থাকবে না।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের পথপরিক্রমায় একটি বিশেষ দিন এবং জাতীয় আত্মমর্যাদার একটি ব্যতিক্রমী মাইলফলক।

পদ্মা সেতু নির্মাণের মধ্য দিয়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক বাধা দূর হবে এবং একটি সমন্বিত ও একীভূত অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুযোগ উন্মোচিত হবে, যা বাংলাদেশের শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নয়, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নেরও অন্যতম পূর্বশর্ত।