দেশের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ বাজেট পাস

বাংলাবাজার পত্রিকা
ডেস্ক: করোনা মহামারীসহ বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার ধকল মোকাবেলা করে দেশকে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় ফেরাতে চায় সরকার।

এ জন্য আয়ের চেয়ে বেশি ব্যয়ের লক্ষ্য ঠিক রেখেই আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য দেশের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেট জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

এই বাজেট নতুন অর্থবছরের প্রথম দিন শুক্রবার থেকেই কার্যকর হবে। বাজেট বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বছরজুড়েই সরকারকে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪ কোটি টাকার ঘাটতি হিসাবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বাজেট সমাপনী অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের সর্বসম্মত কণ্ঠভোটে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট পাস হয়।

এর আগে অর্থমন্ত্রী গত ৯ জুন ‘কভিডের অভিঘাত পেরিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় প্রত্যাবর্তন’ শিরোনামের এই বাজেট প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

যা বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের (৫ লাখ ৯৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা) চেয়ে ১৪ দশমিক ২৪ শতাংশ বেশি। টাকার ওই অংক বাংলাদেশের মোট জিডিপির ১৫ দশমিক ২৩ শতাংশের সমান।

গত ১৩ জুন সম্পূরক বাজেট পাসের পর ১৪ জুন থেকে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু হয়। সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে গত ২৯ জুন এই আলোচনা শেষ হয়।

প্রায় ৩৯ ঘণ্টার এ আলোচনায় সরকার ও বিরোধী দলের মোট ২২৮ জন সংসদ সদস্য অংশগ্রহণ করেন।

সরকারি ও বিরোধী দলের অধিকাংশ সদস্যের উপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার বাজেটের ওপর ৫৯টি মঞ্জুরি দাবির বিপরীতে ৬৬৪টি ছাঁটাই প্রস্তাব আনা হয়।

সরকার ও বিরোধী দলের হুইপের মধ্যে সমঝোতা অনুযায়ী ৪টি মঞ্জুরি দাবি আলোচনার সিদ্ধান্ত হয়। আলোচনা শেষে মঞ্জুরি দাবিগুলো কণ্ঠভোটে সংসদে গৃহীত হয়।

এরপর অর্থমন্ত্রী সর্বোচ্চ ৮ লাখ ৮৩ হাজার ৭৫১ কোটি ৮১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা ব্যয়ের অনুমোদন নিতে ‘নির্দিষ্টকরণ বিল-২০২২’ পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। পরে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলীয় উপনেতা জিএম কাদের সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়িয়ে ইতিহাসের সর্ববৃহৎ বাজেট বাস্তবায়নের যাত্রাকে স্বাগত জানান।

বাজেট পাসের পর অর্থমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের বাজেটোত্তর নৈশভোজে যোগ দেয়ার আমন্ত্রণ জানান।