বিএম ডিপোতে অগ্নিকাণ্ড, নিহত আরও ৭ জনের পরিচয় শনাক্ত

বাংলাবাজার পত্রিকা.কম
ডেস্ক: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বিএম কন্টেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত আরও আটজনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে।

সিআইডি ফরেনসিক ল্যাবে ডিএনএ প্রোফাইল সম্পন্ন করে আটটি লাশের পরিচয় পাওয়া যায় বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুমন বণিক।

পরিচয় শনাক্ত হওয়া আটজন হলেন- আক্তার হোসেন, আবুল হাশেম, আব্দুল মনির, মো. বাবুল মিয়া, মো. সাকিব, মো. রাসেল, মো. শাহজাহান ও আব্দুস সোবাহান।

পুলিশ কর্মকর্তা সুমন বলেন, পরিচয় শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের খবর দেয়া হয়েছে। তাদের কাছে লাশ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

গত ৪ জুন রাতে সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামে বিএম কন্টেইনার ডিপোতে আগুন লাগার পর একের পর এক বিস্ফোরণে তা ছড়িয়ে পড়ে।

ডিপোতে থাকা রাসায়নিকের কারণে ছড়িয়ে পড়া ওই আগুন ৮৬ ঘণ্টা পর বিভিন্ন বাহিনীর চেষ্টায় নেভানো হয়।

সেখানে প্রথমে ৪১ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এরপর ৭ জুন দুর্ঘটনাস্থল থেকে আরও দুজনের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়।

পরদিন সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান একজন। সেদিন সন্ধ্যায় ডিপোর ভেতরে আরও দুজনের দেহাবশেষ পাওয়া যায়।

১২ জুন ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ফায়ার সার্ভিসকর্মী গাউসুল আজম।

আর চট্টগ্রামের বেসরকারি পার্ক ভিউ হাসপাতালে মারা যান কন্টেইনার ডিপোর আরেক কর্মী নুরুল কাদের।

এছাড়া ১৩ জুন ও ৪ ও ৬ জুলাই আরও তিনটি দেহাবশেষ উদ্ধার করার কথা জানায় পুলিশ। এর আগে পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর ২৬টি লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল।

২২টি লাশ শনাক্তের মতো অবস্থায় ছিল না বলে সেগুলো রেখে দেয়া হয় ডিএনএন পরীক্ষার জন্য।

তাদের পরিচয় শনাক্তে দাবিদারদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ল্যাবের সদস্যরা।

২২টি লাশের বিপরীতে দাবিদার ৪৫ জনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছিলেন তারা। তার মধ্য থেকে এখন আটজনের লাশ শনাক্ত হলো।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার জানান, হাসপাতালে ২২টি লাশ সংরক্ষণ করা হয়। তাদের মধ্যে ১৪টি লাশের পরিচয় এখনও শনাক্ত হয়নি।