ঈদযাত্রায় মানুষের ঢল

বাংলাবাজার পত্রিকা.কম
ডেস্ক: প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে বাড়ির পথে ছুটতে শুরু করেছে রাজধানীবাসী। ঈদের ছুটির প্রথম দিন শুক্রবার সকালে যে যেভাবে পেরেছে বাড়ির পথ ধরেছে।

একসঙ্গে লাখ লাখ মানুষ বাড়ির পথ ধরায় উত্তর-দক্ষিণ, পূর্ব-পশ্চিমের মহাসড়কগুলোতে অতিরিক্ত গাড়ির চাপে দেখা দিয়েছে দীর্ঘ যানজট।

কোথাও কোথাও দেখা গেছে চলন্ত যানজট, ধীরগতিতে গাড়ি এগিয়ে চলেছে মাইলের পর মাইল পথ। এর ফলে এক ঘণ্টার পথ যেতে লেগেছে ৫ ঘণ্টা।

এদিকে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে দেখা গেছে উপচেপড়া ভিড়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নারী, শিশু এমনকি বৃদ্ধদেরও ট্রেনের ছাদে উঠতে দেখা গেছে।

ট্রেনের প্রতিটি বগিতে যেন তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না, এমনকি ইঞ্জিনের রেলিংয়েও ঝুলে যাত্রা করতে দেখা গেছে। ট্রেনের ভেতরে গাদাগাদিতে গরমে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন।

কমলাপুর রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ার বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার মানুষ ট্রেনে রওনা করেছেন।

যার প্রভাব কিছুটা পড়েছে। এত বেশি যাত্রীর চাপ এবং মানুষের যে স্রোত, সেটা ঠেকানো যাচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জিআরপি পুলিশ সবাই যাত্রীচাপের কাছে ব্যর্থ হয়েছে। ট্রেনের ছাদ থেকে যাত্রী নামানো যাচ্ছে না।’

অন্যদিকে পদ্মা সেতু উদ্বোধনের ফলে এবারের ঈদে দক্ষিণাঞ্চলের লঞ্চে যাত্রী কম হবে বলে ধারণা করা হলেও শুক্রবার তা ভুল প্রমাণিত হয়েছে।

হাজার হাজার লোক প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ করতে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চটার্মিনালে হুমড়ি খেয়ে পড়েন।

প্রায় প্রত্যেকটি লঞ্চই অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে নির্দিষ্ট গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। ঈদের আগের দিন পর্যন্ত এমন ভিড় থাকবে বলে জানিয়েছেন লঞ্চ সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়া রাজধানীর গাবতলী সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনালেও দেখা গেছে বাঁধ ভাঙা জোয়ারের মতো মানুষের স্রোত।

বাসের টিকিটের জন্যে এসব টার্মিনালে রীতিমতো হাহাকার পড়ে যায়। বিশেষ করে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে দক্ষিণের জেলার বাসের টিকিট ফুরিয়েছে বেলা অর্ধেক হওয়ার আগেই, কোনো কোনো কাউন্টারের সামনে বাসও ছিল না।

সুযোগ বুঝে স্বাভাবিকের চেয়ে দুই থেকে তিনগুন বাসভাড়া নেয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপায়ান্ত না দেখে অনেকেই ট্রাক ও পিকআপ ভাড়া করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঈদযাত্রা করেন। এরফলে ঘরমুখো মানুষকে পদে পদে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় দক্ষিণের জেলার বাড়িমুখো যাত্রীরা বহু বছরের ভোগান্তি এড়াতে এবং প্রথমবার সেতুতে ওঠার বাসনায় এবার ঈদযাত্রায় বেছে নিয়েছেন সড়ক পথ।

তাই পিরোজপুর, পটুয়াখালীসহ অন্যান্য এলাকার সঙ্গে বরিশাল ও খুলনাগামীদের ভিড় বেড়েছে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে।

এ টার্মিনাল থেকে পিরোজপুর, বাগেরহাট, পটুয়াখালী যাতায়াত করা সাকুরা পরিবহনের কাউন্টারে কোনো টিকেট নেই বলে ব্যবস্থাপকরা জানালেন।

খুলনা ও বাগেরহাট রুটের ইমা পরিবহনের কাউন্টারেও ‘গাড়ি নাই’ লেখা কাগজ সেঁটে দেয়া হয়েছে।

সায়েদাবাদে সেবা গ্রিন লাইন, সাদিক পরিবহন, বেপারি পরিবহন, কুয়াকাটা এক্সপ্রেস, বরিশাল এক্সপ্রেস, ফালগুনি এক্সপ্রেস, রাজীব পরিবহনের কাউন্টারেও কোনো কর্মীকে দেখা যায়নি। একই অবস্থা গাবতলি ও মহাখালী বাস টার্মিনালের।

গাবতলীর আমিনবাজার ব্রিজ এলাকায় শুক্রবার সকালে বাড়ি ফেরার জন্য শত শত মানুষ রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিল।

বাসের টিকিট না পেয়ে লোকাল বাস ও পিকআপ-ট্রাকে চড়ে বসেন অনেকে। গাড়ির চাপে সড়কে তৈরি হয় ভয়াবহ যানজট।

গাবতলী মোড়ে দায়িত্বরত ট্রাফিক সদস্যরা গাড়ি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রাস্তায় দাঁড়ানো মানুষ সরাতে ব্যস্ত ছিলেন।

এদিকে ঈদে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের মাওয়া অংশে দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলো অভিমুখী যানবাহনের দীর্ঘ সারি হওয়ায় ধীরগতিতে সেতু অতিক্রম করছে।

শুক্রবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজার থেকে ৪ কিলোমিটার যানবাহনের সারি দেখা গেছে।

সকাল থেকে ব্যক্তিগত যানবাহন ও গণপরিবহনে পদ্মা সেতু পাড়ি দিতে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া টোলপ্লাজায় ভিড় জমায় হাজারো যানবাহন।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যানবাহনের সংখ্যাও বাড়তে থাকে। ফলে মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের পদ্মা সেতু উত্তর থানার মোড় থেকে শ্রীনগর উপজেলার কেয়টচিরা পর্যন্ত চার কিলোমিটার এলাকায় গাড়ির দীর্ঘ সারি হয়।

এদিকে ঈদযাত্রায় বিভিন্ন জেলার মানুষকে নিয়ে স্পেশাল ট্রিপ দিচ্ছে বিভিন্ন গণপরিবহণের গাড়ি তাই রাজধানীতে দেখা দিয়েছে গণপরিবহণের সংকট।

দিনভর বাসের জন্য যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। সেই সঙ্গে গুনতে হয়েছে বাড়তি ভাড়া।

অন্যদিকে মোটরসাইকেল বন্ধের সুযোগে গণপরিবহনে ‘ভাড়া ডাকাতি ও যাত্রী হয়রানি চলছে’ বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

ঈদযাত্রায় গণপরিবহন সংকটকে পুঁজি করে সড়ক, রেল, নৌ-পথে জরুরি ভিত্তিতে ‘ভাড়া নৈরাজ্য ও পথে পথে যাত্রী হয়রানি’ বন্ধের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।