আবার সেই লোডশেডিং

বাংলাবাজার পত্রিকা.কম
ডেস্ক: একসময় দেশে এতো বেশি লোডশেডিং ছিল যে, বিদ্যুৎ যাওয়ার নয় আসার হিসাব রাখতো মানুষ। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার দেশের বিদ্যুৎখাতের এতো বেশি উন্নয়ন করেছে যে মানুষ ভুলেই গিয়েছিল একসময় ঘনঘন বিদ্যুৎ যেত।

অনেক বছর পর ফিরে আসছে সেই হারানো স্মৃতি। ফিরে আসছে লোডশেডিং। মূলত জ্বালানি তেল সাশ্রয়ে বিদ্যুৎ রেশনিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বিশ্বজুড়ে চলমান অর্থনৈতিক সংকটে দেশের রিজার্ভের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দিতেই এমন সিদ্ধান্ত। মঙ্গলবার থেকেই দেশজুড়ে শুরু হবে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং।

বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে সপ্তাহে একদিন এলাকাভিত্তিক এই লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। একইসঙ্গে স্থগিত রাখা হবে ডিজেল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন।

একই সঙ্গে সপ্তাহে একদিন বন্ধ থাকবে পেট্রোল পাম্প। রাত ৮টার পর দোকানপাট বন্ধ না করলে তাদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে।

এছাড়া বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় অফিসের সময় কমিয়ে ৯টা থেকে ৩টা বা ৪টা পর্যন্ত করা হবে নাকি ওয়ার্ক ফ্রম হোম (বাসা থেকে অফিস) হবে, তা শিগগিরই জানানো হবে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. ফরহাদ হোসেন।

সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সোমবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
এরআগে সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ক সমন্বয় সভায় লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক ই এলাহী চৌধুরী জানান, বিশ্ব পরিস্থিতির উত্তরণ হলে আগের অবস্থানে ফিরে আসা হবে। ডিজেলে দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন স্থগিতের সিদ্ধান্তের কথাও জানান জ্বালানি উপদেষ্টা।

রাজধানীতে কখন কোন এলাকায় লোডশেডিং হতে পারে তার সম্ভব্য সময়সূচি জানিয়ে দিয়েছে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি)।

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বিকাশ দেওয়ান বলেন, এলাকাভিত্তিক সম্ভাব্য লোডশেডিংয়ের তালিকা করে ওয়েবসাইটে আপলোড করে দেয়া হয়েছে।

গ্রাহকরা ওয়েবসাইটে গেলেই সেখানে একটি লিংক পাবেন, সেখানে ক্লিক করে তাদের এলাকার সম্ভাব্য লোডশেডিংয়ের সময় জানতে পারবেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বৈঠকে দেশের সব বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিকে এধরনের তালিকা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

গ্রাহকরা এ তথ্য কীভাবে পাবে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, শিগগিরই পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ওয়েবসাইট ও লিংক প্রকাশ করা হবে।