আনন্দ রূপ নিল বিষাদে, ট্রেনের ধাক্কায় নিহত ১১

বাংলাবাজার পত্রিকা.কম
ডেস্ক: চট্টগ্রামের হাটহাজারীর একটি কোচিং সেন্টারের ছাত্র-শিক্ষকরা ছুটির দিনে পিকনিকে গিয়েছিলেন।মীরসরাইয়ের খৈয়াছড়া ঝরনায় গিয়ে হৈ-হুল্লোড় ও আনন্দে মাতেন তারা। কিন্তু ফেরার পথে তাদের সেই আনন্দ পরিণত হয় বিষাদে।

মুহূর্তে লাশ হন ১১ জন। আরও পাঁচজন কাতরাচ্ছেন হাসপাতালে। নিহত ১১ জনের মধ্যে ১০ জনের পরিচয় মিলেছে। তারা হলেন কোচিং সেন্টারের চার শিক্ষক জিসান, সজীব, রাকিব ও রেদোয়ান। কেএস নজুমিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী হিসাম, আয়াত, মারুফ, তাসফির ও হাসান। এছাড়া মাইক্রোবাসচালক গোলাম মোস্তফা নিরু।

আহত পাঁচজন হলেন—একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. মাহিম (১৮), তানভীর হাসান হূদয় (১৮), মো. ইমন (১৯), এসএসসি পরীক্ষার্থী তছমির পাবেল (১৬) ও মো. সৈকত (১৮)।

স্থানীয়রা জানান, কোচিং সেন্টারের শিক্ষক-শিক্ষার্থী খৈয়াছড়া ঝরনাসহ মিরসরাইয়ের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে পিকনিকে যেতে ৫০০ টাকা করে চাঁদা তোলেন।

সকালে মাইক্রোবাস নিয়ে রওয়ানা দিয়ে খৈয়াছড়া ঝরনায় যান। সেখান থেকে ফেরার পথে দুপুর পৌনে একটার দিকে মীরসরাইয়ের বার তাকিয়া স্টেশনে ঢোকার মুখে রেলক্রসিংয়ে ঘটে এই দুর্ঘটনা।

ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা মহানগর প্রভাতী ট্রেন তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসটিকে টেনে প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত নিয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পূর্ব রেলের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা আনসার আলী দাবি করেন, ট্রেন আসায় গেইটম্যান সাদ্দাম হোসেন বাঁশ ফেলে রাস্তা আটকে দিয়েছিলেন।

কিন্তু মাইক্রোবাসটি বাঁশ ঠেলে ক্রসিংয়ে উঠে পড়ে। এতে মাইক্রোবাসটি ট্রেনের ইঞ্জিনের সঙ্গে আটকে যায় এবং এই অবস্থায় মাইক্রোবাসটিকে প্রায় এক কিলোমিটার পথ ছেঁচড়ে নিয়ে যায় ট্রেনটি।

রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, দুর্ঘটনার পরপর গেটকিপারের তিনি কথা বলেছেন।

গেটকিপার তাকে জানিয়েছেন, ট্রেন আসার আগেই গেট ফেলা ছিল। কিন্তু মাইক্রোবাসের চালক গেটবারটি জোর করে তুলে রেললাইনে প্রবেশ করেন।

এরপর মহানগর প্রভাতী ট্রেন মাইক্রোবাসটিকে ধাক্কা দেয়। ইতোমধ্যে গেটম্যান সাদ্দামকে আটক করেছে রেলওয়ে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

তদন্তে তার গাফিলতি পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান রেলওয়ে কর্মকর্তা।

এদিকে ১১ জন নিহতের ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। পূর্ব রেলের ডিটিও আনসার আলীকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের এই কমিটি করা হয়েছে।

কমিটিকে দ্রুততম সময়ে কারণ অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।