প্রাইভেটকারের ওপর গার্ডার পড়ে শিশুসহ নিহত ৫

বাংলাবাজার পত্রিকা.কম
ডেস্ক: রাজধানীর উত্তরায় বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের গার্ডারের নিচে চাপা পড়া প্রাইভেট কারে থাকা এক পরিবারের ৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে নবদম্পতি।

জসিম উদ্দীন রোড এলাকার প্যারাডাইস টাওয়ারের সামনের সড়কে সোমবার বিকাল সোয়া ৪টার দিকে এ দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়। বৌভাতের অনুষ্ঠান শেষ করে স্বজনরা মিলে ওই প্রাইভেট কারে করে বাসায় ফিরছিলেন তারা।

শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে আরেকটি ক্রেন এনে সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে গার্ডার সরিয়ে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এক শোক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন জানান, বক্সগার্ডার ওঠানোর সময় ভারসাম্য রাখতে না পারায় বহনকারী ক্রেন একদিকে কাত হয়ে যায়। তখন গার্ডারটি গাজীপুরগামী একটি প্রাইভেট কারের ওপর পড়ে গেলে হতাহতের ঘটনা ঘটে।

হতাহতদের স্বজন রাকিব হোসেন জানান, দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তার খালাত ভাই হৃদয় (২৬) গত শনিবার আশুলিয়ার খেজুর বাহান এলাকার রিয়া মনির (২১) সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

সোমবার বিকালে একটি প্রাইভেট কার ও আরেকটি মাইক্রোবাসে করে পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে শ্বশুড়বাড়ি যাচ্ছিলেন হৃদয়।

দুর্ঘটনাকবলিত প্রাইভেট কারটি সামনে ছিল, অল্পের জন্য রক্ষা পায় পেছনের মাইক্রোবাস। প্রাইভেট কার হৃদয়ের বাবা রুবেল মিয়া (৬০) চালাচ্ছিলেন জানিয়ে রাকিব বলেন, ওই গাড়িতে নবদম্পতি ছাড়াও হৃদয়ের শাশুড়ি ফাহিমা (৪০), ফাহিমার বোন ঝর্না (২৮) এবং ঝর্নার দুই সন্তান জান্নাত (৬) এবং জাকারিয়া (২) ছিল। ঘটনার পর পরই নবদম্পতি হৃদয় ও রিয়া মনিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয় পুলিশ।

ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা দেওয়ান আজাদ হোসেন জানান, একটি ক্রেন দিয়ে গার্ডার ওঠানোর সময় প্রাইভেটকারের ওপর পড়ে গেলে হতাহতের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে দমকলকর্মীরা গিয়ে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে।

তবে কোনোভাবেই গার্ডার সরানো যাচ্ছিল না জানিয়ে ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, পরে আরেকটি ক্রেন এনে গার্ডার সরিয়ে পাঁচজনের মৃতদেহ উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে পাঠানো হয়।

বিআরটি প্রকল্প পরিচালক (আরএইচডি) ইলিয়াস শাহ সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে বলেন, এই ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা এখানে এসেছি; কেন, কী কারণে ঘটেছে এমন মর্মান্তিক ঘটনা— সেটা খুঁজে বের করতে একটু সময় লাগবে।