সামাজিক মাধ্যমে বিজ্ঞাপনে প্রতারণার জাল

বাংলাবাজার পত্রিকা.কম
ডেস্ক: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর মধ্যে অন্যতম ফেসবুক। বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় এই ফেসবুকেই নিত্যনতুন প্রতারণার ফাঁদ পাতছে অপরাধী চক্র।

চটকদার বিজ্ঞাপনের জালে আটকে সাধারণ মানুষকে হয়রানির মুখে ফেলছে পেশাদার অপরাধীরা। এরই মধ্যে বিদেশি নাগরিকসহ বেশ কয়েকটি প্রতারক চক্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ফেসবুকে যেসব প্রতারণা করা হয় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যকই ই-কমার্স বিষয়ক। এক ধরনের পণ্য দেখিয়ে আরেক ধরনের নিম্নমানের পণ্য গছিয়ে দেয়ার অভিযোগ বহু পুরনো।

এর ফলে ভালো মানের পণ্যের ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোও আস্থা হারাচ্ছে। এদিকে কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন, বিনিয়োগ, পাত্র-পাত্রী চাইসহ বিভিন্ন বিষয়ে মুশকিলে আসান হয়ে প্রতারক চক্র এই ফেসবুকের মাধ্যমেই নিজেদের প্রচার করে। একবার ফাঁদে পা দিলেই সর্বনাশ।

২০০৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মার্ক জুকারবার্গের নেতৃত্বাধীন মার্ক এডুয়ার্ডো স্যাভেরিন, এন ম্যাককলাম, ডাস্টিন মস্কোভিটজ ও ক্রিস জিউজেসের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ ঘটে ফেসবুকের।

প্রথমে এটির নাম দি ফেসবুক ডট কম থাকলেও পরবর্তী সময়ে শুধু ফেসবুক ডট কম করা হয়, এ নামেই এখন বিশ্বজুড়ে সমাদৃত ফেসবুক।

ফেসবুকের উন্মাদনা বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়তে বেশি সময় লাগেনি। ২০০৬ সালে বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহার শুরুর পর ২০১০ সাল পরবর্তী সময় থেকে দেশব্যাপী জনপ্রিয় হয়ে ওঠে ফেসবুক এবং বাংলাদেশে ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩ কোটিরও অধিক।

ফেসবুক দিয়ে বহু ইতিবাচক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা গেলেও অসাধু ব্যক্তিরা ফেসবুককেও নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের মাধ্যম হিসেবে পরিণত করেছে।

এর মাধ্যমে বহু ভালো কাজ হলেও প্রতারিত হওয়ার সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। ফেক আইডি খোলার মাধ্যমে নানা রকম ফাঁদ পাতছে প্রতারকরা।

যাদের মিথ্যা ও প্রতারণামূলক কথাবার্তায় আকৃষ্ট হয়ে প্রতারিত হচ্ছে বহু সহজ সরল মানুষ। এদের মধ্যে তরুণ-তরুণীরাই বেশি।

প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রতারণা করার মাধ্যমে অর্থকড়ি হাতিয়ে নেয়া, বিপদে পড়ার কথা বলে সাহায্য চেয়ে মানুষদের সঙ্গে প্রতারণা করা, চটকদার পণ্যের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে মানুষের অজ্ঞতা এবং বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিয়ে পণ্য না দেয়া কিংবা ক্রয়কৃত পণ্যের পরিবর্তে অন্য কিছু দিয়ে দেয়া, অধিক সুযোগসুবিধার মাধ্যমে বিদেশে পাঠানোর লোভ দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা।

এছাড়াও আইডি হ্যাক করে অর্থ আদায় করা, সামাজিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক গুজব ছড়িয়ে নিরীহ মানুষদের হয়রানি করাসহ ধর্মীয় উসকানির মাধ্যমে মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করা, মিষ্টি মধুর কথাবার্তার মাধ্যমে সহজ সরল মানুষদের দিয়ে অপরাধজনক কর্মকাণ্ড করাসহ সকল অপরাধজনক কাজ করার জন্য ফাঁদ পাতে অপরাধীরা।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অন্যান্য দেশ থেকেও বেশি অপরাধজনক কর্মকাণ্ড হয় ফেসবুক দিয়ে। ফেসবুকের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যবসার পসরা সাজিয়ে মানুষের সঙ্গে প্রতারণার সংখ্যাও এখানে বেশি।

বহু প্রবাসীও ফেসবুক প্রেমের ফাঁদে পড়ে সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। বিভিন্ন ব্যবসার চটকদার বিজ্ঞাপন, প্রেমের ফাঁদসহ নানা ধরনের প্রতারণার ফাঁদ পেতে বসে আছে অপরাধীরা, যাদের ফাঁদে পা দিলেই বড় ধরনের ক্ষতির শিকার হতে হয়।