রোদের হাসিতে কমেছে শীত

বাংলাবাজার ডেস্ক
শীতের তীব্রতায় কাবু দেশবাসী। কনকনে হাওয়ায় যখন কাঁপাকাঁপি অবস্থা সেই সময় টানা এক সপ্তাহ পরে সূর্য্যি মামার দেখা মিলেছে। রোদের হাসিতে কমেছে শীত। যদিও বুধ-বৃহস্পতিবার আবারও শৈত্যপ্রবাহ আসতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ। এছাড়া জানুয়ারিতেও আসবে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ। এদিকে গত ১ নভেম্বর থেকে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকাসহ সারাদেশে শীতজনিত রোগে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দুই লাখ ৪৭ হাজার ২৭৩ জন। এরমধ্যে ৩৯ জন মারা গেছেন। যার মধ্যে ১৬ জন নিউমোনিয়া ও শ্বাসতন্ত্রের রোগে এবং বাকি চারজন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

এদিকে হাড় কাঁপানো শীতে জবুথবু জনজীবন। দেশের বেশিরভাগ এলাকার আবহাওয়াই এমন। কনকনে ঠাণ্ডায় বিপাকে মানুষ। দিন দুয়েকের মধ্যেই তাপমাত্রা কিছুটা বাড়বে। তবে শীতের তীব্রতা কমতে না কমতেই নামতে পারে বৃষ্টি- এমন পূর্বাভাস দিচ্ছে আবহাওয়া পূর্বাভাস সংস্থা অ্যাকু ওয়েদার। সংস্থাটির পূর্বাভাসে বলা হয়, বুধবার রাতে হালকা থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। আর বৃষ্টি হলেই শীতের পরিমান কিছুটা কমবে।

এরপর ২৭ থেকে ২৮ ডিসেম্বরের দিকে তাপমাত্রা আবার কমে যেতে পারে। হতে পারে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। ডিসেম্বরের চেয়ে তুলনামূলকভাবে প্রভাবশালী শৈত্যপ্রবাহ আসতে পারে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে। এ সময় মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে। এসব তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

এ বিষয়ে এক আবহাওয়াবিদ বলেন, ‘২৫ ডিসেম্বরের দিকে বৃষ্টি হতে পারে। বৃষ্টির পর রাতের তাপমাত্রা কমে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে বিক্ষিপ্তভাবে মৃদু আকারে শৈত্যপ্রবাহও আসতে পারে। ২৭ থেকে ২৮ ডিসেম্বরের দিকে এই শৈত্যপ্রবাহ আসতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে আরও একটা তীব্র শৈত্যপ্রবাহ আসতে পারে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম সূত্র জানায়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের ২৯৬টি উপজেলায় শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে আরো চার হাজার ২৫৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এদের মধ্যে শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে ৭২০ জন। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসে এক হাজার ৭৪১ জন, শীতজনিত অন্যান্য রোগে ভর্তি হয়েছে এক হাজার ৭৯৩ জন।

এদিকে, শীতের প্রকোপে শীতজনিত রোগের মধ্যে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দিন দিন বেড়েই চলেছে। রাজধানীর মহাখালী আইসিডিডিআরবি’র কলেরা হাসপাতালেও বাড়ছে রোগীর ভিড়। গত সাত দিনে এ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে পাঁচ হাজার ২০৯ জন। সারা দেশেই ডায়ারিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন রোগীর ভিড় বাড়ছে জেলা-উপজেলার হাসপাতালগুলোতে।