দেশজুড়ে অবৈধদের উচ্ছেদ শুরু

বাংলাবাজার ডেস্ক
নদ-নদী, খাল-ছড়াসহ প্রাকৃতিক জলাশয় উদ্ধারে সারা দেশে এক যোগে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদে অভিযান শুরু হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে দেশের ৬৪টি জেলায় এ অভিযান শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন উচ্ছেদ অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সম্প্রতি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সারাদেশের নদ-নদী, খাল ও প্রাকৃতিক জলাশয়ে প্রায় ৪০ হাজার অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করেছেন তারা। এ সব উচ্ছেদের ব্যাপারে গত ৫ নভেম্বর এ মন্ত্রণালয় থেকে জেলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ পাঠানো হয়।

সেই প্রসঙ্গ টেনে গাজীপুর জেলার টঙ্গী রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ কে এম গোলাম মোর্শেদ খান জানান, ৬৪ জেলার নদ, নদী, খাল, ছড়াসহ অন্যান্য সরকারি জলাধারের তীরের তালিকা করা অবৈধ স্থাপনা একযোগে উচ্ছেদ শুরু হচ্ছে সোমবার থেকে। তবে অবৈধভাবে নির্মিত কারখানার ভবন, দোকানপাটসহ বিভিন্ন স্থাপনার পাশাপাশি ‘ছিন্নমূল’ মানুষের আশ্রয়ও ভেঙে ফেলার খবর পাওয়া গেছে। তীব্র শীতে ঘর হারানো এ মানুষগুলোর পুনরবাসনের ব্যবস্থার কথা আগে থেকেই ভাবা দরকার ছিল বলে মত দিয়েছেন কোনো কোনো স্থানীয় জনপ্রতিনিধি।

বিভিন্ন সময় ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পাড় উদ্ধারের অভিযান চালানো হলেও পরে তা আবার দখল হয়ে যেতে দেখা গেছে। এবার তাই দখল মুক্ত করার পরপরই সেসব জায়গা পানি উন্নয়ন বোর্ডের চলমান প্রকল্পের কাজে লাগানোর কথা ভাবছে কর্মকর্তারা।

জেলায় উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:
গাজীপুর: সকাল থেকে গাজীপুর জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড যৌথভাবে ওই উচ্ছেদ শুরু করে। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতে নেতৃত্ব দেন টঙ্গী রাজস্ব সা‌র্কেলের সহকারী ক‌মিশনার (ভূ‌মি) গোলাম মো‌র্শেদ খান।
বাংলা‌দেশ পা‌নি উন্নয়ন বো‌র্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হো‌সেন জানান, সরকারি জলাধার তীরবর্তী অবৈধ স্থাপনা ও দখলদার‌দের তা‌লিকা অনুযায়ী সোমবার টঙ্গী বাজার (নদী বন্দর) এলাকায় তুরাগ পা‌ড়ে অবৈধভা‌বে গ‌ড়ে ওঠা শতা‌ধিক দোকানপাট উচ্ছেদ করা হ‌য়ে‌ছে।

শরীয়তপুর: পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সকাল ১০টায় শরীয়তপুর শহরের ডাকবাংলা এলাকায় এ অভিযান শুরু হয়।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ তারেক হাসান বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সারা দেশে উচ্ছেদ অভিযানের অংশ হিসেবে শরীয়তপুরে সরকারি খালের উপর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হচ্ছে।
জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশিদ বলেন, শরীয়তপুর ডাকবাংলা মোড়ে ৭০টি প্রতিষ্ঠান, বটতলায় কয়েকটি আধাপাকা ও টং দোকান ভেক্যু মেশিন দিয়ে ভেঙে দেয়া হয়েছে।

গোপালগঞ্জ: সোমবার সকালে শহরের গেটপাড়া, চরনারায়নদিয়া ও বেদগ্রামে পানিউন্নয়ন বোর্ড উচ্ছেদ অভিযান চালায় গোপালগঞ্জে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সড়ক বিভাগ।
গোপালগঞ্জ পানিউন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বিশ্বজিৎ বৈদ্য বলেন, সোমবার ৫২টি স্থাপনা উচ্ছেদ করে পানি উন্নয় বোর্ড অন্তত পাঁচ কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করেছে।
এ ছাড়া গোপালগঞ্জ সড়ক বিভাগ শহরের পুলিশ লাইন্স মোড় থেকে চাপাইল ব্রিজ পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে। এদিন সকালে সড়ক বিভাগ পুলিশ লাইন থেকে উচ্ছেদ অভিযান আরম্ভ করে।

ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী সরকারি খাস জমির অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শুরু করেছে জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়।
সকাল ৯টা থেকে নগরীর কালীবাড়ি গুদারাঘাট এলাকা থেকে এ উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। এতে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় নদের জায়গা দখল করে গড়ে উঠা পাকা-আধাপাকা ও টিনশেড ঘর এবং দোকানপাট।
অভিযানের নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হাশেম ও সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম সাজ্জাদুল হাসান।

সিলেট: সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার আটগ্রামে সুরমা নদীতে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদে অভিযান শুরু করেছে পানি উন্নয়নবোর্ড ও জেলা প্রশাসন। সোমবার সকাল ১০টায় জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিজন কুমার সিংহের নেতৃত্বে এ অভিযান শুরু হয়।

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মনির হোসেন জানান, জকিগঞ্জের আটগ্রাম বাজারে অভিযানে সুরমা নদীর তীরে গড়ে তোলা প্রায় ৫৫টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।
এছাড়া সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়ি বাঁধের উপর নির্মিত ৩৫টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। পর্যায়ক্রমে সিলেটের সব উপজেলায় অবৈধ দখলদার উচ্ছেদে অভিযান শুরু হবে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়নবোর্ডের এ কর্মকর্তা।

ফরিদপুর: ফরিদপুরে কুমার নদের পাড়ে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে নেমেছে প্রশাসন। ফরিদপুর জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পৌরসভার তত্ত্বাবধানে সোমবার সকাল ১০টার দিকে শহরের আলিমুজ্জামান ব্রিজের নিচে কুমার নদের পাড়ে এ অভিযান শুরু হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, আলিমুজ্জামান বেইলি ব্রিজের নিচে গড়ে ওঠা কাঁচা ঘর ভেঙে দেয়া হয়। এ সময় সেখানে বসতিরা নানা অভিযোগ করতে থাকেন।

বাগেরহাট: জেলা শহরের দড়াটানা ব্রিজ এলাকা থেকে এ অভিযান শুরু হয়। বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তানজিল্লুর রহমান জানান, একই সময়ে জেলার চিতলমারী উপজেলার মধুমতি নদীর তীরে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনাও উচ্ছেদ করে প্রশাসন। “বাগেরহাট শহরে ভৈরব নদীর তীর দখল করে গড়ে ওঠা সব অবৈধ স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।