বিক্ষোভে গুলির কথা স্বীকার করলো পুলিশ

বাংলাবাজার ডেস্ক
নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনে গুলি চালানোর কথা প্রথমবারের মতো স্বীকার করলো ভারতের উত্তর প্রদেশ পুলিশ। রাজ্যটিতে চলমান বিক্ষোভে সহিংসতায় এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে অনেকে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেলেও পুলিশ দাবি করে আসছিল, তাদের পক্ষ থেকে কোনো গুলি ছোঁড়া হয়নি। এই প্রথম উত্তরপ্রদেশ গুলি চালানোর কথা স্বীকার করলো।

পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের বিজনোরের পুলিশ এনডিটিভিকে জানিয়েছে, ওই শহরে নিহত দুই বিক্ষোভকারীর মধ্যে একজন পুলিশের গুলিতেই মারা গেছেন। নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইন নিয়ে শুক্রবার নতুন করে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে উত্তরপ্রদেশের নানা এলাকায়, এর মধ্যে অন্যতম ছিল বিজনৌরও। বিজনৌরের পুলিশ প্রধান সঞ্জিব ত্যাগী এনডিটিভিতে জানান, আত্মরক্ষার জন্য একজন কনস্টেবল ২০ বছর বয়সী সুলেমানকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তিনি বলেন, আমাদের একজন কনস্টেবলের বন্দুক ছিনিয়ে নেয়া হয়। ছিনতাই করা বন্দুকটি তিনি ফিরিয়ে নিতে গেলে বিক্ষুব্ধ জনতার মধ্যে থেকে একজন তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পরিস্থিতি সামলাতে এবং আত্মরক্ষা করতে তিনি বিক্ষোভকারীর দিকে গুলি চালান। তিনি জানান, জনতার দিক থেকে গুলি চলার ফলে আরও একজন বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়, তার নাম আনাস। বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে পুলিশের গুলিতে কেউ মারা যায়নি বলে দাবি করছিল পুলিশ।

উত্তরপ্রদেশের পুলিশ প্রধান ওপি সিং শনিবার এনডিটিভিকে বলেছিলেন, ‘আমরা কোথাও একটা গুলিও চালাইনি।’ মৃত সুলেমানের পরিবার জানিয়েছে, সিভিল সার্ভিস প্রবেশিকা পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন সুলেমান এবং বিক্ষোভের সঙ্গে তার কোনো যোগসূত্রই ছিল না। তাদের দাবি, পুলিশ তাদের ভয় দেখিয়েছিল।

সুলেমানের ভাই শোয়েব মালিক এনডিটিভিকে বলেন, ‘আমার ভাই নামাজ পড়তে গিয়েছিল। নামাজের পরে কিছু খেতে বাড়িতে ফিরছিল সে। গত দু’দিন ধরে তার জ¦র ছিল। ও আমাদের বাড়ির কাছে যে মসজিদ সেখানে যায়নি। ও অন্য মসজিদে গিয়েছিল। মসজিদ থেকে বেরোতেই ও দেখে বাইরে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটাচ্ছে, ব্যাপক লাঠিচার্জ চলছে। পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে গুলি করে মেরে ফেলে।’ রোববার কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা বিজনোরে গিয়ে সুলেমান ও আনাসের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন।ৎ