রিং অব ফায়ার, ১৭২ বছর পর

ইন্দোনেশিয়ার সিয়াকের আকাশে রিং অব ফায়ার, সোলার ফিল্টার দিয়ে তোলা ছবি: ইন্টারনেট

বাংলাবাজার ডেস্ক
সচরাচর যা দেখা যায় না, তা দেখতেই মানুষের আগ্রহ বেশি। আর সে মুহুর্তটি যদি শতাব্দীর পর শতাব্দী অপেক্ষার পর আসে তাহলে তো কথাই নেই। ঠিক এমনই এক মহাজাগতিক ঘটনা ঘটেছে বৃহস্পতিবার। ১৭২ বছর পর খোলা আকাশে রিং অব ফায়ার দেখল বিশ্ববাসী। যাকে বলে বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ।

ঘুরতে ঘুরতে কিছু সময়ের জন্য পৃথিবী আর সূর্যের মাঝে চলে আসে পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদ। আর তাতেই মানুষের চোখে কিছু সময়ের জন্য আংশিক ঢাকা পড়ে যায় সূর্য। বছরের শেষ সূর্যগ্রহণ দেখতে দিনের প্রথম ভাগে এশিয়ার নানা দেশের মানুষ সমবেত হয়েছিল খোলা জায়গায়। বলয় গ্রাসে পুরো সূর্য চাঁদের আড়ালে ঢাকা পড়ে না বলে চূড়ান্ত মুহূর্তে সূর্যের বাইরের অংশটি উজ্জ্বল বলয়ের আকারে দৃশ্যমান হয়। এ সূর্যগ্রহণকে তাই বলা হচ্ছে ‘রিং অব ফায়ার’। অবশ্য বাংলাদেশ থেকে এবার আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা গেছে।

বাংলাদেশে বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ সকাল সাড়ে ৮টায় শুরু হয়ে দুপুর ২টা ৫ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে শেষ হয়। এ ছাড়া ভারত, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইনসহ এশিয়ার একাধিক দেশ এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে এটি দেখা যায়। এরআগে খালি চোখে এই গ্রহণ দেখতে নিষেধ করেছিল মার্কিন মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র নাসা। কারণ চোখে কয়েক সেকেন্ডের জন্য সূর্য গ্রহণ দেখলেও তা রেটিনার ওপর প্রভাব ফেলে। যার কারণে একটা চোখে দৃষ্টিশক্তিও হারাতে পারে মানুষ।

পেরিস্কোপে, টেলিস্কোপ, সানগ্লাস বা দূরবীন, কোনও কিছুর সাহায্যে গ্রহণ দেখার সময় সূর্যের দিকে সরাসরি তাকাতে বারণ করা হয়েছে। গ্রহণের সময় সূর্য রশ্মি অত্যন্ত সংবেদনশীল থাকে যা চোখে প্রভাব ফেলতে পারে। সানগ্লাস বা ঘষা কাঁচ দিয়েও এই গ্রহণ দেখতে বারণ করেছিল নাসা। কারণ এইগুলোও নিরাপদ না।

আয়ুর্বেদ শাস্ত্র সূর্যগ্রহণ চলাকালীন খাবার খেতে বারণ করে। একমাত্র বৃদ্ধ, অসুস্থ ও গর্ভবতী মহিলারা হালকা খাবার নিতে পারবেন বলে বলা আছে। কিছু মানুষ মনে করেন, গর্ভবতী মহিলার গর্ভে থাকা বাচ্চার জন্য সূর্যগ্রহণ অত্যন্ত বিপদজনক। তাই সে সব মহিলাদের গ্রহণ চলাকালীণ ঘরের বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয় না।