প্রাথমিকে শিক্ষক সংকট, শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন!

বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রাথমিক বিদ্যালয় হচ্ছে মানুষের জীবনের প্রথম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আর সেই প্রাথমিকেই যদি ভালোভাবে শিক্ষা না পাওয়া যায় তাহলে শিক্ষা জীবন চরম ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এক্ষেত্রে প্রাথমিক শিক্ষকদের অবদান অনস্বীকার্য। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে তারা নিরুপায় থাকেন। বিশেষ করে জনবল সংকটে তাদের হিমশিম খেতে হয়।

এমনই একটি প্রতিষ্ঠান যশোরের ঝিকরগাছার বালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সেখানে শিক্ষক সংকটে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। একই সঙ্গে শিক্ষার মান নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

বিদ্যালয়টিতে ছয়জন শিক্ষকের জায়গায় আছেন তিনজন। পুরো বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।
দ্রুত আরও শিক্ষক নিয়োগ না হলে শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্ট হওয়ার শংকা দেখা দিয়েছে। এরফলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে স্থানীয়রা।

মো. আল আমিন হোসেন নামে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্র জানায়, বিদ্যালয়ে শিক্ষক না থাকায় শ্রেণিতে প্রতিদিন পাঠদান হয় না। তাই সিলেবাস অনুযায়ী শ্রেণিতে পড়া শেষ না হওয়ায় পরীক্ষায় সমস্যা হয়।

জান্নাতুন ফেরদৌস অথৈ নামে তৃতীয় শ্রেণির এর ছাত্রী জানায়, প্রধান শিক্ষক আমাদের শ্রেণিতে পাঠদান করেন কিন্তু তিনি প্রায় উপজেলা শিক্ষা অফিসে যান। তাই শ্রেণিতে পাঠদান বন্ধ থাকে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান জানান, বিদ্যালয়টিতে বর্তমান ২৪৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। ছয়জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও আছেন তিনজন। নেই প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষক। তাছাড়া, আমাকেও মাঝে-মধ্যে দাপ্তরিক কাজে উপজেলা শিক্ষা অফিসে যেতে হয়।
তিনি জানান, চলতি বছরের শুরুতে বিদ্যালয় থেকে দুজন শিক্ষক বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যান। আর একজন গত জুন মাসে অবসরে যাওয়ায় বিদ্যালয়টি শিক্ষক সংকটে পড়ে যায়।

বিদ্যালয় পরিচালনা পর্যদের সভাপতি (এসএমসি) আজগার আলী জানান, বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক সংকটে লেখাপড়া ঠিকমতো হচ্ছে না। অভিভাবকরা শিক্ষক নিয়োগের বিষয় বারবার খোঁজ নেন। তিনি অবিলম্বে শিক্ষক নিয়োগ ও বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (প্রাথমিক) ইসমত আরা পারভিন জানান, বিদ্যালয়টি লেখাপড়ায় ভালো। তবে শিক্ষক সংকটে যে সমস্যা আছে তা খুব শিগগিরই কেটে যাবে। নতুন নিয়োগে শিক্ষক প্রদান করা হবে।