এবার মুক্তিযোদ্ধাদের নতুন তালিকা

বাংলাবাজার ডেস্ক
রাজাকারের তালিকা প্রকাশের পর দেশজুড়ে আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। এবার মুক্তিযোদ্ধাদের নতুন তালিকা প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। তিনি বলেছেন, ‘এই জানুয়ারি মাসেই মুক্তিযোদ্ধাদের নতুন তালিকা প্রকাশ করা হবে। সে লক্ষ্যে ওয়েবসাইটে রক্ষিত পুরনো তালিকা স্থগিত করা হবে। অমুক্তিযোদ্ধাদের নাম যাচাই-বাছাই করে সেগুলো বাতিল করারও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আপত্তি যাচাই-বাছাই শেষে আগামী ২৬ মার্চ মুক্তিযোদ্ধাদের আইডি কার্ড দেয়া হবে।’

এই আইডি কার্ড আধুনিক ও ডিজিটাল হবে বলে জানান তিনি। শনিবার দুপুরে যশোর সদরের খাজুরায় মিত্র ও মুক্তিবাহিনীর শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশে নির্মিত ‘মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ’ উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

এ লক্ষ্যে জানুয়ারির ১৫ তারিখের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি করে পাসপোর্ট সাইজের ছবি স্ব স্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা দেয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, আমাদের আগামী প্রজন্মকে যেমন মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগ ও বীরত্বের কাহিনি জানাতে হবে, ঠিক তেমনই হানাদার ও তাদের দোসর রাজাকার, আলবদর, আল শামসের হত্যা, নারী নির্যাতন, দমনপীড়ন আর তাদের পৈশাচিকতা সম্পর্কেও অবহিত করতে হবে। যাতে করে তারা উভয়পক্ষের কথা জেনে বিচার করতে পারে। না হলে তারা মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ আর বীরত্বের কথা ভুলে যাবে।

মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বর্তমান সরকারের নেয়া নানা পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের যেন আর কষ্ট করে ব্যাংকে গিয়ে টাকা তুলতে না হয়, সেজন্য সরকার তাদের মোবাইলেই ভাতার টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা করছে। তাতে করে মুক্তিযোদ্ধারা বাড়িতে বসেই তাদের প্রাপ্য অর্থ পাবেন।

এক নজরে স্মৃতিসৌধ: ১৯৭১ সালে যশোর মুক্ত দিবসের পরদিন ৭ ডিসেম্বর সকালে খাজুরায় রাজাকারদের সঙ্গে মিত্র ও মুক্তিবাহিনীর যুদ্ধ হয়। সেদিন রাজাকাররা মিত্রবাহিনীর ছয় জনকে গুলি করে হত্যা করে এবং একজন সদস্য আহত হন। পরে মিত্রবাহিনী রাজাকারদের ক্যাম্প ধ্বংস করে এবং তাদের প্রত্যেককে হত্যা করে। ঠিক এই স্থানেই নির্মাণ করা হয়েছে ‘মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ’।