রাশিকাব্য ১১

রাশিকাব্য ১১
-মোমিন মেহেদী
‘দেয়ালে টাঙানো রোদ’ দেখে দেখে এখন বিধাব সময় কাটে। ইচ্ছে হলেই আর রেল লাইনের গায়ে পা ফেলে ফেলে এগিয়ে যায় না বহুদূর। যেই রোদেও টানে ঘর ছেড়েছিল, সেই রোদ এখন লুকিয়ে আছে। লুকিয়ে থাকা রোদেও বর্তমানকে নিয়ে ভাবছে না নায়লা। ভাবছে নিজের কথা। তার অতিত, বর্তমান আর ভবিষ্যতের কথা।

সে সিংহ রাশির জাতিকা। এই রাশির জাতিকা হিসেবে ২০১১ জানার প্রবল আগ্রহ নিয়ে জ্যোাতিষির কাছে গেলে সে জানতে পারে, বছরের শুরুতে শনি দ্বিতীয় স্থানে গতিশীল থেকে সিংহ রাশির জাতক জাতিকাদের সম্পদ নাশ করবে। এ সময়ে তাদের শত্রুরা প্রবল হয়ে উঠবে। আবার অষ্টমে বৃহস্পতি রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি করবে। তবে একাদশে কেতুর কারণে প্রচুর খ্যাতি বা যশের অধিকারী হয়ে উঠবে।

এ বছর সিংহ রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য স্বাভাবিকই হয়ে থাকবে। মে মাসের পর ধর্মের প্রতি তাঁদের শ্রদ্ধা অটুট থাকবে। পরোপকার বা সমাজসেবার মতো কল্যাণকামী ভাবনায় সিংহ রাশির জাতক জাতিকারা ওতপ্রোত হয়ে থাকবে। তবে শরীর মাঝেমধ্যে খারাপ হবে। বছরজুড়েই তারা সফর করতে থাকবে।

কর্মস্থল এবং সমাজে ইমেজ উন্নত হয়ে উঠবে। চাকরি ও রাজনীতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদ এবং প্রতিষ্ঠাপ্রাপ্তি হবে। আর্থিক দিক থেকেও বছরটি শুভ হয়ে থাকবে। ব্যবসায়ে প্রচুর মাত্রায় লাভ আর ধনার্জন করবে। তবে শুভ ফলের সঙ্গে সঙ্গে একটু-আধটু অশুভ ফলও পাবে। পরিবারে সবাই মিলেমিশে থাকবে।

নতুন কোনো জিনিস কিনবে। পরিবারের প্রয়োজনে যথেষ্ট অর্থ ব্যয় করবে। পাশাপাশি থাকবে অবারিত সম্ভাবনা; ভালোবাসার ক্ষেত্রে। তবে ১৭ অক্টোবর থেকে ১৬ নভেম্বর নিচের রবির কারণে উন্নতিতে বাধা আসবে। কর্মস্থলে এই রাশির জাতক জাতিকাদের প্রমোশনের যোগ তৈরি হচ্ছে। কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক চুক্তি এ সময় হতে পারে। কোর্ট-কাছারি বা সরকারি কাজে তাদের জয় নিশ্চিত।

জমি-জায়গা কেনাবেচার পরিকল্পনা তৈরি হবে। ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে পুরো বছরই ওঠানামার মধ্যে থাকবে। পরিবারে সন্তানকে নিয়ে চিন্তা বজায় থাকবে। জুলাই মাসের পরে বিবাহযোগ্য সন্তানের বিবাহ হতে পারে। কোনো বয়স্ক আত্মীয় অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। আত্মীয়-পরিজন সামনে প্রশংসা করলেও পেছনে নিন্দা বা সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠবে। রোমান্সের যথেষ্ট সুযোগ পাবেন, তবে সাবধানে গ্রহণ করুন।

কোনো রকম সরকারি ঝামেলায় ফেঁসে যেতে পারেন। ট্যাক্স বা বিল প্রদানে আন্তরিক হওয়া উচিত। শুনতে শুনতে রাশির বিশদ বর্ণনা শেষ হলেও নায়লার কানে বাজতে থাকে-‘রোমান্সের যথেষ্ট সুযোগ পাবেন, তবে সাবধানে গ্রহণ করুন’ লাইনটি। যত আগ্রহের সাথে এই লাইনটি নায়লা শুনেছে ততটাই বিমর্ষ হয়েছে; কারন কেউ কথা রাখেনি। যে কারনে ২৬ থেকে ২৭ পা দিলেও ঘর করা হয়ে ওঠেনি তার।

নায়লার জন্ম ১৪ আগস্ট। মাঝে মাঝে প্রচন্ড বিরক্ত হত এই দিনে জন্ম হওয়ার কারনে। এই দিনের পরদিনটিই একজন রাজনৈতিক নেতার মৃত্যু বার্ষিকী। আবার একজন নেত্রীর জন্মদিনও এই দিনের পরের দিনটিতে; অর্থাৎ ১৫ আগস্ট। ১৪-১৫, ১৫-১৪ নিয়ে নায়লার ব্যাপক বিরক্তি।

বিরক্তির সীমা লঙ্ঘনও হয় মাঝে-সাঝে। তারপরও এগিয়ে যাচ্ছিল জন্মদিনের আয়োজন নিয়ে। গেল বছর বন্ধুরা জন্মদিনের আয়োজনটি ঘটা করে করেছিল। এইদিনটিতেই নায়লার সপ্তম প্রেমিকের সাথে তার পরিচয় হয়।

লোকটি দেখতে শুনতে অদ্ভুত। অনেকটা রবিনহুডের মত। ছোটকাল থেকেই নায়লা রবিনহুডকে অনেক পছন্দ করতো। আর এরই সূত্র ধরে এগিয়ে যাওয়া। ব্যাটা জ্যোতিষি আবার সাবধানে সুযোগ গ্রহন করতে বলেছেন। এখন এগিয়ে যেতেও ভয় করছে নায়লার পাছে আবার আগের পুনরাবৃত্তি ঘটে…

এইতো সেদিন কন্যারাশির জাতক সিউলের সাথে নায়লার সম্পর্কের সমাপ্তি ঘটে। যদিও নায়লা জানতো- কন্যা রাশির সাথে নায়লার রাশির কোনরকম মিল-মহব্বত হবে না। তারপরও এগিয়ে গিয়েছিল সে, কারন এই নাকে হ্যাঁ’তে রুপান্তরিত করার বড় ইচ্ছে ছিল তার।

ইচ্ছে ছিল ভোরের শিশির গায় মেখে সকল অন্ধকারকে আলোয় রুপান্তরিত করার। কিন্তু সে আশা তার আশাই থেকে গেল। সিউল চলে গেল খোড়া অজুহাত দেখিয়ে। না হয় নায়লা একটু সাহসী, তাতে কি এমন ক্ষতি হয়েছিল সেদিন; বরং ব্যাটা ছিনতাইকারী ব্যাগ ফেলে দৌড় দিয়েছিল।

এত সাহসী মানষকে কি আর বৌ ডিহসেবে মানাবে? উত্তর জানা ছিল না নায়লার। অতঃপর বিদায়ের রামধনু…
নায়লা সিউলের সম্পর্কের আকাশে উড়তে গিয়েই জেনে নিয়েছিল, কন্যা রাশির জাতক-জাতিকাদের পক্ষে বছরটিকে তেমন শুভ নয়। শত্রু এবং বিরোধীপক্ষ প্রবল হয়ে উঠবে।

সময়ে সময়ে শারীরিক বাধা আপনাকে অস্থির করবে। পরিশ্রমে ততটা লাভপ্রাপ্ত হবেন না। বছরটি গত বছরের তুলনায় বেশি কষ্টদায়ক হয়ে থাকবে। ভাইদের সঙ্গে সম্পত্তি ভাগবাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে বিবাদ বাঁধবে। কিন্তু বাকপটুতা আর চতুরতার সহায়তায় আপনি সব কিছু সামলে নেবেন।

শত্রু আর বিরোধীপক্ষ অবশ্যই প্রবল হয়ে উঠবে। যদি কোনো শল্যচিকিৎসা করানোর কথা ভাবেন, তবে এ বছরে তা এড়িয়ে যেতে পারলে ভালো। তবে খুব জরুরি হলে সেপ্টেম্বর, অক্টোবর বা জুন মাসে ভাবনাচিন্তা করা যেতে পারে। এ বছর আপনাকে প্রতিপদে সাবধান হয়ে থাকতে হবে।

আপনি কোনো ষড়যন্ত্রের শিকারও হয়ে পড়তে পারেন। আপনার ওপরে বৃহস্পতির সুদৃষ্টি থাকায় অত্যন্ত কঠিন সময়েও আপনার পরিবার আপনার পাশে থাকবে। বন্ধু ও আত্মীয়দের কাছ থেকে এ বছর আপনি পূর্ণ সহযোগিতা পাবেন। অচেনা বা অপরিচিত ব্যক্তিদের কাছ থেকে সাবধান।

আপনার যথেষ্ট খরচ করতে হবে। মাঝেমধ্যে অশুভ সংবাদপ্রাপ্তিতে মানসিক শান্তি ভঙ্গ হবে। দাম্পত্য সম্পর্কে মধুরতা বজায় থাকবে। মে থেকে ডিসেম্বর শারীরিক স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ নজর রাখুন। কোনো মহিলার সহযোগিতায় ভাগ্যের উন্নতি হবে। কিন্তু তার ভাগ্যের কোন পরিবর্তন আসেনি।

জ্যোতিষির সেই কথানুযায়ী ‘কোনো মহিলার সহযোগিতায় ভাগ্যের উন্নতি হবে’ বললেও হয়নি। একা একাই পথ চলেছে নায়লা। এপথে সিউল নেই, পলাশ নেই, নেই বিপুল বা অন্যকোন পুরুষের পা। সার বেঁধে দাঁড়িয়ে থাকা আলোকবতী স্বপ্নগুলোকে এখন কেবলই মরিচিকা মনে হয়।

ঝং ধরা বর্তমানের কোলে দাড়িয়ে থেকে থেকে ক্লান্ত নায়লা খুঁজে ফেরে সত্যিকারের একজন মানুষ। যার কথা লালন বলেছেন, হাসন বলেছেন, বলেছেন সিরাজ সাঁই…