ডাকসুতে হামলার সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে তিন ছাত্র সংগঠনের বিক্ষোভ

বাংলাবাজার পত্রিকা
ঢাকা: ডাকসুতে হামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ত্রাস-নৈরাজ্য সৃষ্টির ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করে অনতিবিলম্বে গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ-বিসিএল, বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী, বাংলাদেশ ছাত্র আন্দোলন। মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে তারা এ কর্মসূচি পালন করে।

মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে মধুর ক্যান্টিনের সামনে এসে শেষ হয় এবং সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে ছাত্র সংগঠন তিনটি।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ-বিসিএলের সভাপতি মো. শাহজাহান আলী সাজুর সভাপতিত্বে এবং বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক কাজী আব্দুল মোতালেব জুয়েলের সঞ্চালনায় উক্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি ফারুক আহমেদ রুবেল, বাংলাদেশ ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি ইউনুস সিকদার, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ-বিসিএলের সাধারণ সম্পাদক গৌতম শীল, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ-বিসিএলের ঢাবি শাখার সভাপতি মাহফুজুর রহমান রাহাত প্রমুখ।

উক্ত সমাবেশে বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি ফারুক আহমেদ রুবেল বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) তে হামলা, ক্যাম্পাসে ধারাবাহিকভাবে ককটেল বোমা হামলার পেছনে কলকাঠি নাড়ছেন যারা তারা ক্যাম্পাসের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার চান না। এদের বিচারের আওতায় এনে ক্যাম্পাসে যে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, আর অবসান করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই ব্যাপারে উদাসীনতার পরিচয় দিয়েছে।

ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি ইউনুস সিকদার বলেন, ক্যাম্পাসে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে শিক্ষার পরিবেশ কেবল নষ্টই হচ্ছে না, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক-কর্মচারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নতজানু আচারন ও ব্যর্থতা দায় ছাত্র সমাজ নিবে না।

সমাবেশের সভাপতি এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগ-বিসিএলের সভাপতি তার বক্তব্যে বলেন, আমাদের যুগপথ আন্দোলনের ফসল আজকের ডাকসু। যদিও ডাকসু নির্বাচন নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল কিন্তু তারপরেও ২৯ বছর পর ত্রুটিপূর্ণ ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত বিবেচনায় নিয়ে আমরা আপাত মেনে নিয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন তো ডাকসুতে ঘটেইনি, উপরন্তু ডাকসু দখলকে কেন্দ্র করে পরস্পরবিরোধী হামলার ঘটনা ঘটছে।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমস্যার সমাধান ঘটেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুরো ক্যাম্পাস বারবার ককটেল বিস্ফোরনের ঘটনায় আতঙ্কিত। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসের স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।

উদ্ভুত পরিস্থিতি থেকে শিক্ষার্থীদের আস্থা ও শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে তাদেরকেই কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি সমাবেশের ৫ দফা দাবি উত্থাপন করেন এবং দাবি পূরণ না হলে ধারাবাহিক কর্মসূচির হুশিয়ারি দেন।

দাবি সমূহ
১. সিসিটিভি ফুটেজ ও বিভিন্ন ক্যামেরা/মোবাইলে ধারণকৃত ভিডিও উদ্ধার করে তদন্ত সাপেক্ষে রাজু ভাস্কর্য এবং ডাকসুতে হামলার সাথে যে বা যারাই জড়িত থাকুক না কেন, তাদের গ্রেফতার ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

২. ডাকসুতে হামলা এবং ককটেল বিস্ফোরনে আহতদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্ব বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনকেই বহন করতে হবে।

৩. বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিয়াশীল সকল প্রগতিশীল-গণতান্ত্রিক ছাত্র সংগঠনের রাজনৈতিক সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে।

৪. অনতিবিলম্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ পরিষদের সভা আহ্বান করতে হবে।

৫. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রমকে নিষিদ্ধ ঘোষণা এবং কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।