শীত উপেক্ষা করে আলু তুলছেন কৃষকরা

সালাহউদ্দিন সালমান

কার্তিক মাসের শুরুতে মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের চান্দের চর খাসকান্দি ও চর পানিয়া সহ আরও কয়েকটি গ্রামের কৃষকরা প্রায় ৫০ বিঘা আগাম আলু চাষ করে যা অত্র জেলার অন্যান্য উপজেলায় বিরল। সেইসব আগাম আলুই উত্তলন করতে শুরু করেছে সিরাজদিখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের কৃষকরা।

কৃষক নূর ইসলাম বলেন, এই আলুগুলো আমরা কার্তিক মাসের শুরুতে রোপণ করেছি শুধুমাত্র এই সময়ে বাজারে উঠানোর জন্য। কারণ এখন নতুন আলুর যে মূল্য পাওয়া যাবে সেটা পরবর্তীতে পাওয়া যাবেনা।

তিনি বলেন, এই আলুগুলো আর ৭-৮ দিন পর উত্তলন করলে আলুগুলো একেবারে পরিপূর্ণ হতো কিন্ত বাজারের বেচাকেনার দিকে তাকিয়ে একটু আগেই আলু উত্তলন শুরু করলাম।

গত সপ্তাহে শ্যামবাজার আড়তে নতুন আলুর পাইকারি মূল্য ছিলো ২২ টাকা কেজি তবে বর্তমানে নতুন আলুর মূল্য আবার বেড়ে ২৮-৩০ টাকা হওয়াতে আমরা আলু উত্তলন শুরু করেছি যাতে একটু ভালো মূল্য পাওয়া যায়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রচণ্ড শীত উপো করে সকাল সকাল আলু খেতে কৃষক ও আলু উত্তোলনের কাজে ব্যস্ত নারী পুরুষরা।

কৃষকদের সাথে কথা বলে জানাযায়, এ বছর আবহাওয়া এখনো পর্যন্ত অনুকূলে থাকায় আলুর ফলন ভালো হবে তবে অধিকাংশ আলুর জমিতে দেখা দিয়েছে আলুর পাতা পচা রোগ। যথা সময়ে নির্ধারিত কীটনাশক ব্যবহার না করলে পরিস্থিতি খারাপ হবে বলে জানান আলু চাষিরা।

সিরাজদিখান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্রে জানাযায়, এবার উপজেলায় আলু আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ হাজার ২ শ’ হেক্টর জমিতে। শীতে এবার আলুর বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন কৃষকরা।

উপজেলার বালুচর ইউনিয়নে জেলার অন্যান্য কৃষকের চেয়ে অনেক আগেই এখানকার কৃষকরা আগাম আলু রোপণ করেন, সেগুলো তারা ভালো বাজার মূল্য পাওয়ার জন্য আবার আগেই উত্তলন করে বাজারজাত করেন। তবে উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়নের বেশির ভাগ কৃষকই এখন আলু পরিচর্যায় ব্যস্ত।

আলু উত্তোলনের মূল সময় এখনো বাকী। সিরাজদিখান উপজেলার প্রায় অর্ধলক্ষাধিক চাষি আলু চাষের সঙ্গে জড়িত। গত কয়েক বছরে আলু চাষে লোকসানে অনেক চাষিকে সর্বস্বান্ত করে দিলেও তারা আবারো নবউদ্যমে নতুন স্বপ্ন নিয়ে আলু চাষ করছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার সুবোধ চন্দ্র রায় বলনে, আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় গত বছরের তুলনায় এ বছর আলুর গাছ ভাল হয়েছে এবং রয়েছে। এবার আলু রোপন করা হয়েছেব ৯ হাজার ২ শ’ হেক্টর জমিতে। কিছু রোগ বালাই হবেই তবে সেগুলো সমাধানে আমরা উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কাজ করে যাচ্ছি।