সাঈদ খোকনের কান্না ও সিটি নির্বাচন প্রসঙ্গ

ওয়াসিম ফারুক
এই মুহুর্তে দেশের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়ের অন্যতম হলো ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন। আগামী ৩০ জানুয়ারি ২০২০ ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এই তারিখে কোন বিবেচনায় নির্বাচন কমিশন সিটি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করলেন তাই আমার বোধগম্য নয়। কারণ এই একই দিনে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছাত্র-ছাত্রীদের বিদ্যাদেবী সরস্বতী পুজা।

প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই বিদ্যাদেবী সরস্বতী পুজা উৎযাপন করে থাকে। তবে এবার ঢাকার হিন্দু ছাত্র-ছাত্রীরা এই পুজা উৎযাপন থেকে বঞ্চিত হবে।

অবশ্য আমরা যারা ঢাকায় বসবাস করি তাদের ভাগ্য এমনিতে ও তেমন ভাল না ঢাকাবাসীর একটি বহুল প্রচলিত একটি প্রবাদ বাক্য হলো “রাতে মশা দিনে মাছি এই নিয়েই ঢাকায় আছি”।

বেশ কয়েক বছর ধরে ঢাকাবাসীকে রাতের মশায় দিনেও আক্রমণ করেছে। এডিস নামক একটি ভয়ংকর মশা ঢাকা সহ প্রায় সমগ্র দেশের মানুষের ই দিনের আরাম কে হারামে পরিণত করেছে।

দিনেবেলায় ও মানুষ মশারি টাঙ্গিয়ে বিছানায় গা লাগায়। ডেঙ্গু এবার বাংলাদেশে একটি অভিশপ্ত মহামারী হিসেবে দেশের মানুষের উপর নাজিল হয়েছিল।

এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে অনেক মানুষকেই দুনিয়া থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। এই এডিস মশা অনেকের জন্যই আজীনের কান্না হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সেদিন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন আগত সিটি নির্বাচনে তার রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ের আবেদন পত্র আানতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন তিনি নাকি রাজনৈতিকভাবে কঠিন সময় পাড় করছেন। মেয়র সাঈদ খোকনের কান্না কারো মনে কোন অনুকম্পা সৃষ্টি করতে পেরেছে কি না জানি না।

তবে আমার কাছে তার এই কান্না কেন জানি একটি কৌতুক বা অভিনয় মনে হয়েছে। সাঈদ খোকন পুরো একটি প্রিরিয়ড পার করলেন মেয়রের দায়িত্ব নিয়ে এবং তিনি সরকার পক্ষের-ই লোক সেই হিসেবে তিনি ঢাকাবাসীকে এমন কি উপহার দিতে পেরেছেন যে তার জন্য এই শহড়ের বাসিন্দা হিসেবে আমার মনের ভিতর তার জন্য অনুকম্পার জন্ম নিবে?

আমি শহড়ের কোটি মানুষের আহাজারি শুনেছি ডেঙ্গুর ভয়ে প্রতিটি নগরবাসীই ছিলেন ডেঙ্গুর ভয়ে আতংকিত। আজিমপুর কবরস্থানে ছোট্ট একটি শিশুর মা হারানোর বুক ফাটা আত্মচিৎকার করতে দেখে ঐ মাছুম শিশুটির চিৎকারে শান্তনা দেয়া ভাষা হারিয়ে আমি কেঁদেছি।

ওর মা এই ঢাকার-ই বাসিন্দা ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এই শহরের এমন হাজারো মানুষের আত্মচিৎকারে ভারী হয়ে আছে ঢাকা শহরের আকাশ বাতাস। মেয়রের তো দায়িত্ব ছিল এডিস মশাকে এই শহর থেকে তাড়ানো বা এডিস মশার মৌসুম আশার আগেই এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া।

কোথায় আপনি কি সেদিন পেরেছিলেন আপনার নগরবাসীকে এডিস মশার হাত থেকে রক্ষা করতে?

অসহায় এই নগরবাসীর কান্না কি আপনার ভেতর কোন অনুকম্পা জন্মদিতে পেরেছিল?

সাঈদ খোকন যে শুধু মশা নিধনেই ব্যর্থ এমনটি নয়। আজও ঢাকা দক্ষিণের প্রায় প্রধান প্রধান ব্যস্ত এলাকাগুলোর ফুটপাত হকারদের দখলে। হঠাৎ কয়েকজন গুন্ডা মাস্তান সাথে নিয়ে হকার উচ্ছেদের নাটক তিনি ভালই দেখিছিলেন।

পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি দিয়ে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ডে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নাম লেখালেও পুরান ঢাকাসহ যে কোন জায়গায় ময়লার দুর্গন্ধে জনজীবন অতিষ্ঠ।

মেয়র কোটি কোটি টাকা খরচ করে রাস্তায় রাস্তায় ডাস্টবিন বসালেন কারা এই ডাস্টবিন রক্ষণাবেক্ষন করলো, কারাই আবার সব চুরি করে নিয়ে গেল কে জানে?

সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে দেখলাম মেয়র সাঈদ খোকন নাকি ঢাকার রাস্তায় ৬৫ হাজার টাকা দামের একেকটি এলইডি লাইট লাগিয়েছেন!

আর এই কথাগুলোতে হয়তো অনেকে ভাববেন আমি সাঈদ খোকনের বিরোধীতা করছি। না মোটেও না, আমি এই শহরের একজন বাসিন্দা হিসেবে আমি তার কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করছি।

তার পিতা প্রয়াত মেয়র হানিফ সাহেব। যার কর্মকাণ্ড ছিল গর্ব করার মত। কারণ সরকারের বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির হয়েও ঢাকাবাসীর জন্য সাধ্যমত কাজ করার চেষ্টা করেছেন তিনি।

আমি সত্যিকারেই একজন আশাবাদী মানুষ। আমার বিশ্বাস ভুল থেকেই মানুষ সঠিক পথের সন্ধান পায়। বর্তমান নির্বাচন কমিশন ও দুই ঢাকা সিটি নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভেতর আস্থার জায়গাটা কিছুটা হলেও তৈরি করবে।

আসছে ৩০ জানুয়ারি ঢাকার দুই সিটির নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে এটাই জনগণের প্রত্যাশা। তারা পছন্দের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারবে। যারা এই ঢাকাকে সত্যিকারের একটি বসবাস যোগ্য নগরীতে পরিণত করতে পারবে।

লেখক: ওয়াসিম ফারুক, কলামিস্ট