পুলিশ-ছাত্রদল সংঘর্ষ, ৪ পুলিশসহ আহত ২০

বাংলাবাজার পত্রিকা
বগুড়া: জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসুচি পালনকালে বগুড়ায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ৪ পুলিশ সদস্যসহ ছাত্রদলের কমপক্ষে ২০ কর্মি আহত হয়েছেন । এ ঘটনায় পুলিশ ১০ ছাত্রদল নেতাকর্মিকে গ্রেফতার করেছে।

আটক নেতাকর্মিরা হলেন- বগুড়া সদরের সরলপুরের আবু বক্করের ছেলে আরাফাত আলী (১৭) ও জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে রাসেদুল (১৭), নিশিন্দারার রমজান আলীর ছেলে জুবাইল আলী (১৮), শাখারিয়া উলিপুরের আব্দুস সামাদের ছেলে রাহিদ (১৬) ও আব্দুল বাছেদের ছেলে শাকিল (১৭), বগুড়া শহরের দত্ত্ববাড়ির শামীমের ছেলে সাব্বির (১৯)।
এছাড়াও ধুনট উপজেলা থেকে আসা ধুনটের পাথুরিঘাটা গ্রামের রমজান আলীর ছেলে আরিফুল ইসলাম (১৮) ও খলিলুর রহমানের ছেলে সাব্বির হোসেন (২০) সহ একই উপজেলার অফিসার পাড়া গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে ফারদিন (১৭) ও বিল চাপড়ি গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে আলাল (২০)।

এদিকে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, বুধবার ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মূল অনুষ্ঠানস্থল বগুড়া জেলা বিএনপির কার্যালয়ে যাওয়ার আগে বিভিন্ন স্থান থেকে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে স্লোগান দিতে দিতে শহরের কেন্দ্রস্থল শহীদ খোকন পার্কের খোলা চত্বরে সমবেত হতে থাকে।

অপর একটি প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, এ সময় সরকারি আজিজুল হক কলেজ ছাত্রদলের একটি মিছিল শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথা দিয়ে খোকন পার্ক এলাকায় পৌঁছলে হঠাৎ করেই সেখানে থাকা আইন রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তৎপর হয়ে ওঠে।

দুপুর ১২টার দিকে খোকন পার্ক চত্বর ছাত্রদলের তরুণ ও কিশোর বয়সী কর্মিদের দ্বারা পরিপর্ণ হয়ে গেলে একদল কর্মি ওই পার্কের শহীদ মিনারের ওপরে উঠে দাঁড়ায়। এ সময় পুলিশ শহীদ মিনারের ওপর থেকে কর্মিদের নেমে যাওয়ার নির্দেশ দিলেও কেউ তা’ শোনেননি।

কিছুক্ষণ পর পুলিশ শহীদ মিনারে ওঠাকে কেন্দ্র করে লাঠিচার্জ শুরু করলে দৌঁড়াদৌঁড়ি করে সরে যাওয়ার সময় ধাক্কাধাক্কি ও পুলিশের লাঠি পেটায় ছাত্রদলের কমপক্ষে ২০ কর্মি আহত হন।

হুঁড়োহুঁড়িতে সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা সনাতন চক্রবর্তী ও এক হাবিলদারসহ আরো ২ পুলিশ সদস্য আহত হন। এদের মধ্য পারভেজ নামের এক পুলিশ সদস্যর মাথা কেটে যায়। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তবে পুলিশের সাথে এই হাঙ্গামার পরও বগুড়ায় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে। শহরের নবাববাড়ী সড়কের দলীয় অফিসের সামনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশ শেষে ফিরে যাওয়ার সময় পুলিশ ১০ ছাত্রদল নেতা কর্মীকে আটক করে।

বগুড়া জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতা এম আর ইসলাম স্বাধীন, কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর ইসলাম সওদাগর ও ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নুরে আলম সিদ্দিকী রিগ্যান ছাত্রদলের ওপর বিনা উস্কানিতে পুলিশী হামলার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন ও গ্রেফতারকৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।