রাজধানীর পাড়া মহল্লায় নির্বাচনী আমেজ

বাংলাবাজার পত্রিকা
ঢাকা: নির্বাচন মানেই উৎসবের আমেজ, ভোটারের উচ্ছ্বাস। এই নির্বাচনের মাধ্যমেই নিজেদের পছন্দের প্রার্থী বাছাইয়ের সুযোগ পান ভোটাররা। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ঢাকা সিটির দুই কর্পোরেশনে ৩০ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এরইমধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় ক্লাবের আড্ডায় ও চায়ের দোকানে শুরু হয়েছে নির্বাচনী আলাপের ঝড়।

এই শীতে ধোঁয়াওড়া গরম চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে কে হবেন নতুন নগরপিতা তা নিয়ে চলছে নানান সমীকরণ। এক একজন বক্তা এখানে পালন করছেন দক্ষ বিশ্লেষকের ভূমিকা। অতীতের কর্মকাণ্ড ও ভবিষ্যতের প্রত্যাশা, কে নির্বাচিত হলে বেশি উন্নয়ন হবে— এমন চিন্তাও বেরিয়ে আসছে তাদের কথাবার্তায়। একইসঙ্গে নির্বাচন সামনে রেখে ছুটতে শুরু করেছেন মেয়র-কাউন্সিলর প্রার্থীদের কর্মীরা।

বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিজের প্রার্থীর পক্ষে দোয়া ও সমর্থন চাইছেন। বিশেষ করে ঢাকার আজিমপুর, লালবাগ, চকবাজার, নাজিরাবাজার, বংশাল, নবাবপুর, সূত্রাপুর, ওয়ারী, যাত্রাবাড়ি, জুরাইন ও গেণ্ডারিয়া এবং শ্যামলী, কল্যাণপুর, গাবতলী, কাজীপাড়া, শ্যাওড়াপাড়া, মিরপুর, পল্লবী, খিলগাঁও, বাড্ডা, রামপুরা, শাহজাদপুর, কুড়িল ও উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী আড্ডা জমতে শুরু করেছে।

এদিকে সরকার ও বর্তমান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রতি বারবার নিজেদের অনাস্থার কথা জানালেও এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বিএনপি। ঢাকা সিটির এবারের নির্বাচনে ভালোভাবেই লড়তে চায় দলটি। শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দলটির নেতা ও প্রার্থীরা। তবে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে করতে না পারলে দলীয়ভাবে এই ইসির অধীনে এটাই হতে পারে বিএনপির শেষ নির্বাচন। এরআগে ২০১৫ সালে ঢাকার নির্বাচনে দুপুরে ভোট বর্জন করেছিলেন তারা।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাওয়া ১৪ প্রার্থীর মধ্যে ১৩ জনের মনোনয়ন বৃহস্পতিবার বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এরমধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে আওয়ামী লীগের আতিকুল ইসলাম ও বিএনপির তাবিথ আউয়ালসহ ছয় মেয়র প্রার্থীকে বৈধ ঘোষণা করলেও কামরুল ইসলামকে অবৈধ ঘোষণা করেছে ইসি।

অন্যদিকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে সাত স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিএনপির সমর্থন পাওয়া কাউন্সিলর প্রার্থীরা হলেন— ঢাকা উত্তরের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে (মোহাম্মদপুর) মো. লিটন মাহমুদ বাবু, ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডে তুরাগ) হারুন-অর-রশিদ খোকন, ঢাকা দক্ষিণের ১ নম্বর ওয়ার্ডে (খিলগাঁও) ফারুকুল ইসলাম, ৫১ নম্বর ওয়ার্ডে (শ্যামপুর) আলিম আল বারী জুয়েল, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে (হাজারীবাগ) হাবিবুর রহমান এবং দক্ষিণে ২২, ২৩ ও ২৬ নম্বর সাধারণ ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত সংরক্ষিত মহিলা আসনে রাবেয়া বাষরীন এবং ৭৩, ৭৪, ও ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডে মজিরন।

ডিএনসিসির রিটার্নিং অফিসার আবুল কাশেম আগারগাঁও এলাকার স্থানীয় সরকার মিলনায়তনে মনোয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে আওয়ামী লীগের আতিকুল ইসলাম ও বিএনপির তাবিথ আউয়ালসহ ছয় মেয়র প্রার্থীকে বৈধ ঘোষণা করলেও জাতীয় পার্টির (জাপা) মেয়র প্রার্থী জিএম কামরুল ইসলামকে অবৈধ ঘোষণা করেন।

ডিএসসিসির রিটার্নিং অফিসার আবদুল বাতেন নগরীর গোপীবাগ এলাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকা কমিউনিটি সেন্টারে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে আওয়ামী লীগের শেখ ফজলে নূর তাপস ও বিএনপির ইশরাক হোসেনসহ সাত মেয়র প্রার্থীকে বৈধ ঘোষণা করেন।

গত ২২ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী— প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৯ জানুয়ারি। বুধবার মনোনয়ন জমা দেয়ার শেষ দিন দুই সিটি নির্বাচনে লড়তে ১৪ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেন। পাশাপাশি সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসনে লড়তে এক হাজারেরও বেশি প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেন।

ডিএসসিসিতে সাত বৈধ মেয়র প্রার্থী হলেন— শেখ ফজলে নূর তাপস (আওয়ামী লীগ), ইশরাক হোসেন (বিএনপি), হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন (জাতীয় পার্টি), মাওলানা আবদুর রহমান (ইসলামী আন্দোলন), বাহরনে সুলতান বাহার (এনপিপি), আক্তারুজ্জামান ওরফে আয়াতুল্লাহ (বাংলাদেশ কংগ্রেস) এবং আবদুস সামাদ সুজন (গণফ্রন্ট)।

ডিএনসিসির বৈধ ছয় মেয়র প্রার্থী হলেন— আতিকুল ইসলাম (আওয়ামী লীগ), তাবিথ আউয়াল (বিএনপি), আহমদ সাজেদুল হক (সিপিবি), শাহিন খান (পিডিপি), ফজলে বারী মাসুদ (ইসলামী আন্দোলন) এবং আনিসুর রহমান দেওয়ান (এনপিপি)। পুরো নির্বাচন ব্যালট পেপারের পরিবর্তে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে এবং ইভিএমের সুরক্ষার জন্য প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে দুজন সেনা সদস্য থাকবেন।

দুই সিটি নির্বাচনে প্রায় ৫৮ লাখ মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। উত্তরে ৩০ লাখ ৩৫ হাজার ৬২১ জন এবং দক্ষিণে ২৭ লাখ ৬৭ হাজার ৪৮৮ জন ভোটার রয়েছেন। ডিএনসিসির ৫৪ ওয়ার্ডে সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৩৪৯টি এবং ডিএসসিসির ৭৫ ওয়ার্ডে সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১১২৪টি। ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল দুই সিটিতে সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।