যুদ্ধে জড়াতে পারে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র!

বাংলাবাজার ডেস্ক
ইরানের বিপ্লবী গার্ডস বাহিনীর এলিট কুদস ফোর্সের কমান্ডার মেজর জেনারেল কাসেম সোলেমানিকে হামলা চালিয়ে হত্যা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে ভয়ঙ্কর প্রতিশোধের শপথ নিয়েছে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ওই হামলা চালানো হয়েছে বলে পেন্টাগন নিশ্চিত করেছে।

এ নিয়ে যে কোন সময় দেশ দুটি যুদ্ধে জড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এ ঘটনার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও ৪ শতাংশের মতো বেড়ে গেছে।

এরআগে শুক্রবার ভোরে বাগদাদে চালানো ওই হামলায় নিহতদের মধ্যে ইরাকি মিলিশিয়া কমান্ডার আবু মাহদি আল-মুহান্দিসও রয়েছেন।

বাগদাদ বিমানবন্দরের কার্গো টার্মিনালের কাছে দুটো গাড়িতে মার্কিন হেলিকপ্টার থেকে ছোড়া তিনটি রকেট আঘাত হানলে এ হতাহতের ঘটনা সংঘটিত হয়।

এ ঘটনায় ভয়ঙ্কর প্রতিশোধ অপেক্ষা করছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আল খামেনি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সোলেমানির মৃত্যুতে তিনদিনের ‘রাষ্ট্রীয় শোকের’ ঘোষণাও দিয়েছে।

“সব শত্রুদেরই জেনে রাখা উচিত, প্রতিরোধ বাহিনীর জিহাদ দ্বিগুণ উদ্যমে অগ্রসর হবে; অবশ্যই পবিত্র এ যুদ্ধে যোদ্ধাদের জন্য নিশ্চিত বিজয় অপেক্ষা করছে,” বলেছেন খামেনি।

ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াইরত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সশস্ত্র শক্তিকে ইরান প্রায়ই ‘প্রতিরোধ বাহিনী’ হিসেবে অ্যাখ্যা দিয়ে থাকে।

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এ প্রতিরোধ বাহিনীর বিকাশ এবং ইরানের প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে মেজর জেনারেল সোলেমানিকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবেই বিবেচনা করা হতো।

ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর ‘বিদেশি শাখা’ হিসেবে কাজ করা কুদস ফোর্স সরাসরি সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার কাছে জবাবদিহি করতো।

খামেনির ভাষণের কয়েক ঘণ্টা আগে ইরাকের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মার্কিন হামলায় সোলেমানি নিহত হন বলে ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে পেন্টাগন নিশ্চিত করেছে।

ইরাকে মার্কিন দূতাবাসে ইরানঘনিষ্ঠ মিলিশিয়া বাহিনীর নেতৃত্বাধীন হামলা-ভাংচুরের কয়েকদিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র সোলেমানিকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালাল।

ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে তেহরানের ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তি থেকে ট্রাম্প বেরিয়ে যাওয়ার পরপরই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন উত্তেজনা শুরু হয়।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এ উত্তেজনা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে; কাশেম সোলেমানির মৃত্যু পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করতে সাহায্য করবে বলেও শঙ্কা পর্যবেক্ষকদের। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের।