ভিন্নধর্মী আয়োজনে বর্ণিল প্রকৃতি মেলা

বাংলাবাজার পত্রিকা
ঢাকা: নবমবারের মতো চ্যানেল আই চত্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে প্রকৃতি মেলা। প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শনিবার দিনব্যাপী ভিন্নধর্মী অনুষ্ঠানমালায় থাকবে- সঙ্গীত, ক্যারেক্টার শো, জলতরঙ্গ, চিত্রাঙ্কন, গম্ভীরা, কবিগান, পুতুল নাচ, মূকাভিনয়, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, নৃত্য পরিবেশনা ইত্যাদি।

সবাইকে প্রকৃতি রক্ষার আহবান জানাতে মেলাপ্রাঙ্গণে উপস্থিত থাকবেন দেশখ্যাত পরিবেশবিদ, গবেষক, নিসর্গীসহ দেশের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

প্রকৃতির সাজ-সরঞ্জাম নিয়ে মেলায় অংশগ্রহণ করবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, নার্সারি, হস্ত ও কুটির শিল্প। থাকবে নানাপ্রজাতির সামুদ্রিক মাছের স্টল, পিঠার স্টল ও পরিবেশবান্ধব অন্যান্য স্টল।

মেলার একপাশে গাছ, লতাপাতা, ফুল, পাখি নিয়ে ছবি আঁকবেন দেশের খ্যাতনামা শিল্পীরা। অন্যপাশে ক্ষুদেরা আঁকবে নানা ধরনের প্রাকৃতিক দৃশ্য। রঙে মাখামাখি শিশুদের মতোই মেলাপ্রাঙ্গণ হয়ে উঠবে আরো রঙিন।

বর্ণিল আয়োজনে প্রকৃতিকেন্দ্রিক ‘প্রকৃতি মেলা’ শুরু হবে সকাল ১০টায় এবং শেষ হবে বিকেল ৪টায়। মেলাদৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করা হয় চ্যানেল আইতে। এবারের প্রকৃতি মেলার প্রধান পৃষ্ঠপোষক পিএলজি।

ওইদিন সন্ধ্যা ৬টায় অনুষ্ঠিত হবে ‘প্রকৃতি সংরক্ষণ পদক ‘১৯ প্রদান অনুষ্ঠান। এবার পদক পাচ্ছেন ভ্যালেরি এ. টেইলর।

প্রকৃতি সংরক্ষণ পদক ছাড়াও প্রদান করা হবে এনভাইরোমেন্ট সিটি অব দ্যা ইয়ার পুরস্কার। এবারে এ পুরস্কার পাচ্ছেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ।

২০১১ সাল থেকে প্রকৃতি সংরক্ষণের অনন্য উদ্যোগ মূল্যায়ন করতে ‘প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন-চ্যানেল আই প্রকৃতি সংরক্ষণ পদক’ প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণের বহুমাত্রিক পরিকল্পনা নিয়ে ২০০৯ সালের ৩ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয় প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন। ২০১০ সালের ১ আগস্ট থেকে শুরু হয় ‘প্রকৃতি ও জীবন’ অনুষ্ঠানের পথচলা।

এ যাবৎ ‘প্রকৃতি সংরক্ষণ পদক’ পেয়েছেন দ্বিজেন শর্মা, ড. রেজা খান, ইনাম আল হক, ড. আইনুন নিশাত, অধ্যাপক ড. নূর জাহান সরকার, ইশতিয়াক উদ্দিন আহমেদ, কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ এবং ড. মিহির কান্তি মজুমদার।

এক দশকে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন। সেদিনের সেই অঙ্কুরিত বীজ আজ মহীরুহ হয়ে প্রকৃতি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।

প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের শুরু হয় প্রকৃতিবিষয়ক ধারাবাহিক প্রামাণ্য অনুষ্ঠান ‘প্রকৃতি ও জীবন’ প্রচারের মধ্য দিয়ে। শুধু অনুষ্ঠানেই থেমে থাকেনি ফাউন্ডেশনের পথচলা।

প্রকৃতি সংরক্ষণে গবেষণা, ত্রৈমাসিক প্রকৃতিবার্তা প্রকাশ, জাতীয় দৈনিকে প্রকৃতিবিষয়ক ‘প্রকৃতি ও জীবন’ নামে পাক্ষিক ফিচার পাতা প্রকাশ, শিক্ষাঙ্গণে সচেতনতা তৈরিতে কর্মশালা, বই, দিনপঞ্জি, পোস্টার প্রকাশ, প্রকৃতি সংরক্ষণ পদক প্রদান, প্রকৃতি মেলাসহ বহুবিধ কাজে বিষন্ন প্রকৃতিকে সুপ্রসন্ন করতে কাজ করে যাচ্ছে এ ফাউন্ডেশন।