বিদেশি প্যাভিলিয়নে দেশি পণ্য!

বাংলাবাজার ডেস্ক
ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় বিদেশি প্যাভিলিয়নের ভেতরে দেশি পণ্য পাওয়া যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা। বিদেশিরা প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ নিয়ে বাংলাদেশিদের কাছে স্টল বিক্রি করেছেন। এরফলে সেসব স্টলে বিক্রি হচ্ছে বাংলাদেশি পণ্য।

অন্যদিকে, মেলায় অংশ নেয়া অনেক বিদেশি স্টলেও স্থানীয় প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। অর্থাৎ বিদেশ থেকে এসে মেলায় কেউ অংশ নেননি। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো সদুত্তর দিতে পারেনি।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার তৃতীয় দিনে শুক্রবার গিয়ে এসব চিত্রই পাওয়া গেল। বছরের প্রথমদিন ১ জানুয়ারি শুরু হয়েছে ২৫তম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা।

মেলায় এবার অংশ নিয়েছে, ভারত, পাকিস্তান, মালদ্বীপ, ভুটান, নেপাল, চীন, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, হংকং, মালয়েশিয়া, ইরান, তুরস্ক, মরিশাস, ভিয়েতনাম, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও অস্ট্রেলিয়াও রয়েছে। আর আয়োজক দেশ হিসেবে আছে বাংলাদেশ।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হিসেবে, মেলায় এবার বিভিন্ন ক্যাটাগরির প্যাভিলিয়ন ১১২টি, মিনি প্যাভিলিয়ন ১২৮টি এবং বিভিন্ন ক্যাটাগরির স্টল ২৪৩টি।

এর মধ্যে বিদেশি প্যাভিলিয়ন ২৭টি, বিদেশি মিনি প্যাভিলিয়ন ১১টি এবং বিদেশি প্রিমিয়ার স্টলের সংখ্যা ১৭টি।

মেলা ঘুরে দেখা গেছে, বিদেশি প্যাভিলিয়নগুলোর মধ্যে পাকিস্তানি প্যাভিলিয়নের একটি স্টলে সেই দেশেরই কর্মীর দেখা মেলে।

ভারতের প্যাভিলিয়নে ভারতীয় দুটি স্টলে ভারতীয় কর্মীর দেখা মিলেছে। এছাড়া বিদেশি আর কোনো প্যাভিলিয়নে গিয়ে বিদেশি কর্মীর দেখা মেলেনি।

বিদেশি প্যাভিলিয়ন ৬। এটি বরাদ্দ নিয়েছেন বিদেশিরা। সেখানে ৪টি স্টল রয়েছে। বাকি স্টলগুলো নির্মাণের কাজ চলছে। কিন্তু ৪টি স্টলেই বাংলাদেশি পণ্যে সয়লাব।

এই প্যাভিলিয়নের ফ্রেন্ডস গিফট কর্নারে সব বাংলাদেশি পণ্য। বিদেশি প্যাভিলিয়নে কেন বাংলাদেশি পণ্য জানতে চাইলে স্টলটির বিক্রয় কর্মী সাদাদ বলেন, এই প্যাভিলিয়ন বিদেশিরা বরাদ্দ নিয়ে বাংলাদেশিদের কাছে স্টল বিক্রি করেছেন। তাই তারা বাংলাদেশি পণ্য বিক্রি করছেন।

প্যাভিলিয়ন-৫ ভুটান প্যালেস। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকটি স্টলে রয়েছে সব বাংলাদেশি। সেখানকার বিক্রয় কর্মীরাও বাংলাদেশি।

তাদেরও একই বক্তব্য, বিদেশিরা প্যাভিলিয়ন নিয়ে বাংলাদেশিদের কাছে বিক্রি করেছে। তাই তারা বাংলাদেশি পণ্য বিক্রি করছেন।

প্যাভিলিয়ন ১৫, দক্ষিণ কোরিয়া। সেখানে গিয়েও দেখা মিলেছে বাংলাদেশি পণ্য আর বাংলাদেশি বিক্রয়কর্মীদের। এখানেও যেমন নেই বিদেশি কর্মীর তেমনি বিক্রিও হচ্ছে না বিদেশি কোনো পণ্যের।

থাইল্যান্ড প্যাভিলিয়নে গিয়ে ওই দেশের পণ্যের দেখা মিললেও কোনো বিদেশি কর্মীর দেখা মিলল না। সেখানকার স্টলগুলোর থাকা বাংলাদেশিরা বেশি কিছু বলতে রাজি হননি।

শুধু জানালেন তারা বিদেশিদের কাছ থেকে স্টলগুলো বরাদ্দ নিয়েছেন। সেখানেই কথা হয় ক্রেতা রাইসুলের সঙ্গে। তিনি বলেন, থাইল্যান্ড প্যাভিলিয়নে থাই পণ্য রয়েছে। তবে আসলে থাই পণ্য কিনা সেটা নিয়ে সংশয় রয়েছে। আর পণ্যগুলোর গায়ে মেয়াদ উত্তীর্ণের কোনো তারিখ নেই। ফলে পণ্যগুলো ভালো না খারাপ সেটা বোঝা মুশকিল।

পাকিস্তানি প্যাভিলিয়নে গিয়ে একজন পাকিস্তানি কর্মীর দেখা মিললেও বাকি স্টলগুলোতে বাংলাদেশি কর্মীর দেখা মেলে। কয়েকটি স্টলে পাকিস্তানি শাড়ি, থ্রিপচ রয়েছে। আর বাকি স্টলে বাংলাদেশি পণ্যের সয়লাব। এখানকার পাকিস্তানি কর্মীরাও কথা বলতে রাজি হননি।

ভারতীয় প্যাভিলিয়নে শাড়ি, ক্রোকারিজের পণ্য, জুতার স্টলে ভারতীয় কিছু বিক্রয় কর্মী রয়েছে। এই প্যাভিলিয়নে যারা স্টল নিয়েছেন তাদের বাংলাদেশেই ব্যবসা রয়েছে।

এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা উপলক্ষে ভারত থেকে তারা আসেননি। তারা জানান, বাংলাদেশের গুলশান, ধানমন্ডিতে তাদের ব্যবসা রয়েছে।

এদিকে, বিদেশি অন্যান্য প্যাভিলিয়নগুলো ঘুরেও বিদেশি কোনো কর্মীর দেখা মেলেনি। বিদেশি পণ্যের দেখা মেলাও দায়। সব স্টলেই বাংলাদেশি পণ্য থরে থরে সাজিয়ে রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে কথা বলতে বাণিজ্য মেলায় অবস্থিত রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোতে গেলে দুপুর ২টা পর্যন্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউকে সেখানে পাওয়া যায়নি। আর সেখানে দায়িত্বরত অন্যরা বলেন, ৬ টার আগে কাউকে পাওয়া যাবে না।

এসব বিষয়ে মেলার সদস্য সচিব ও রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর উপ-পরিচালক (ফাইন্যান্স) মো. আবদুর রউফের কাছে ফোনে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, মেলা মাত্র শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, বিদেশি প্যাভিলিয়নে বিদেশি কর্মী থাকবে না এটা হতে পারে না। আমাদের টিম রয়েছে। এ বিষয়ে তারা খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেবে। আর বিদেশি প্যাভিলিয়নে বাংলাদেশি পণ্য কেনো জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।