তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আতঙ্কে বিশ্ববাসী

বাংলাবাজার ডেস্ক
ইরানের প্রভাবশালী সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার মধ্যে দিয়ে বিশ্বকে নতুন উদ্বেগের মধ্যে ঠেলে দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এর ফলে সৃষ্ঠ উত্তেজনায় তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আতঙ্কে ভুগছে বিশ্ববাসী। এ বিষয়টিকে বিশ্বশান্তির জন্য হুমকি বলে মনে করছে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে চীন ও রাশিয়া।

এদিকে কাসেম সোলাইমানি, ইরাকি মিলিশিয়া কমান্ডার আবু মাহদি আল মুহান্দিস ও তাদের সঙ্গে নিহতদের শেষ বিদায় জানাতে বাগদাদে লাখো জনতার ঢল নেমেছিল। শনিবার স্থানীয় সময় সকালে নিহতদের লাশ নিয়ে বাগদাদের সুরক্ষিত গ্রিন জোন থেকে শোক মিছিল শুরু হয়।

শোক মিছিলে যোগ দেয়া লোকজনের মধ্যে পিএমএফের অনেক উর্দি পরা অনেক সদস্যও হাজির ছিলেন। তাদের অনেকে ইরাকের ও তাদের বাহিনীর পতাকা নিয়ে মিছিলে যোগ দেন।

শোক মিছিলে যোগ দেয়া অনেকের হাতে সোলাইমানি ও মুহান্দিসের ছবি ছিল। মিছিলে থাকা সাঁজোয়া যানগুলোতেও তাদের ছবি শোভা পাচ্ছিল।

শোক মিছিল এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সমবেত জনতা স্লোগান তোলে, “আমেরিকা নিপাত যাক।” এ সময় শোক মিছিলে ইরাকি প্রধানমন্ত্রী আদেল আবদুল মাহদি ও পিএমএফের আরেক শীর্ষ কমান্ডার হাদি আল আমিরি উপস্থিত ছিলেন।

নিহতদের কফিনবাহী শোক মিছিলটি গাড়িযোগে শিয়াদের পবিত্র শহর কারবালায় যায়, সেখান থেকে শিয়াদের আরেক পবিত্র শহর নাজাফে যায়। নাজাফেই মুহান্দিস ও তার সঙ্গে নিহত ইরাকিদের কবর দেয়ার কথা রয়েছে।

শনিবার সন্ধ্যায় সোলাইমানি ও অন্যান্য ইরানিদের মৃতদেহ ইরানে পাঠানো হয়। ইরাকের সীমান্তবর্তী ইরানের খুজেস্তান প্রদেশ দিয়ে তাদের মৃতদেহ নিজ দেশে প্রবেশ করে।

এরপর রোববার শিয়াদের আরেক পবিত্র শহর মাশহাদ হয়ে সেখান থেকে রাজধানী তেহরানে যাবে। তেহরান থেকে সোলাইমানির মৃতদেহ তার নিজ শহর কেরমানে নেয়া হবে। মঙ্গলবার তাকে সেখানেই দাফন করা হবে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

এদিকে যুদ্ধ শুরু করতে নয়, উল্টো যুদ্ধ ঠেকাতেই ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা করেছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

শুক্রবার বাগদাদ বিমানবন্দরে হামলায় সোলাইমানির ‘সন্ত্রাসের রাজত্ব শেষ হয়েছে’ বলেও মন্তব্য করেছেন এ রিপাবলিকান। ফ্লোরিডার অবকাশযাপন কেন্দ্র মার-আ-লগোতে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প এসব বলেছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।

কাসেম সোলাইমানিকে মারা হয়েছে ‘যুদ্ধ ঠেকাতে, আরেকটি শুরু করতে নয়’, ভাষ্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের। সোলাইমানিকে হত্যায় মার্কিন সেনাবাহিনী নির্ভুল অভিযান চালিয়েছে। মার্কিন কূটনীতিক এবং সামরিক কর্মকর্তাদের ওপর ভয়াবহ ও নির্মম হামলার পরিকল্পনা করছিল সোলাইমানি; কিন্তু আমরা তাকে ধরে ফেলি ও সরিয়ে দিই।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাববৃদ্ধির পেছনে দেশটির কুদস ফোর্সের শীর্ষ নেতা সোলাইমানির ভূমিকা ব্যাপক বলে ধারণা আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের। ৬২ বছর বয়সী এ জেনারেলকে হত্যার ‘ভয়ঙ্কর বদলা’ নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।