অর্ধযুগ পর ৬০ হাজারের ওপরে স্বর্ণের দাম

বাংলাবাজার ডেস্ক
ইরাকে ইরানের সামরিক কমান্ডারকে যুক্তরাষ্ট্র হত্যা করার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা বেজে ওঠার মধ্যে অস্থির হয়ে উঠেছে স্বর্ণের দাম। অর্ধযুগ পর বাংলাদেশে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৬০ হাজার টাকা ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশে সবচেয়ে ভালো মানের স্বর্ণের (২২ ক্যারেট) ভরির দাম হাজার টাকা বেড়ে ৬০ হাজার টাকা ছাড়িয়েছে।

অন্য মানের স্বর্ণও ভরিতে ১ হাজার ১৬৬ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, রোববার থেকে নতুন দর কার্যকর হবে।

প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণ ৬০ হাজার ৩৬১ টাকায় বিক্রি হবে। এ ছাড়া ২১ ক্যারেট ৫৮ হাজার ২৮ টাকা , ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণ ৫৩ হাজার ১৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে ৪০ হাজার ২৪১ টাকায়।

বাজুস বলছে, বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজার ও স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এ দর বাড়ানো হয়েছে।

বাজুসের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগরওয়ালা বলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম অস্থির হয়ে উঠেছে। একদিনেই প্রতি আউনস (২.৬৮৪ ভরি) ৫২ ডলার বেড়েছে। সে কারণে আমাদের স্বর্ণের দাম বাড়ানো ছাড়া উপায় ছিল না।

২০১৩ সালের পর এই প্রথম বাংলাদেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ৬০ হাজার টাকা ছাড়াল। এর আগে ২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন হামলার পর স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ৭০ হাজার ছাড়িয়েছিল।

এর আগে গত ১৮ ডিসেম্বর ডলারের দাম বাড়ার কারণে মূল্যবান এই ধাতুটির দাম বাড়ানোর কথা জানিয়েছিল বাজুস। তখন এক মাসের কম সময়ের ব্যবধানে ভালো মানের স্বর্ণের দাম ভরিতে ১ হাজার ১৬৬ টাকা করে বাড়িয়েছিল ব্যবসায়ীরা।

তখন প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ আউনস) সবচেয়ে ভালো মানের স্বর্ণের (২২ ক্যারেট) দর ৫৯ হাজার ১৯৫ টাকা, ২১ ক্যারেটের দর ৫৬ হাজার ৮৬২ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের দর ৫১ হাজার ৮৪৬ টাকা নির্ধারণ হয়েছিল।

জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটে ৯১ দশমিক ৬ শতাংশ, ২১ ক্যারেটে ৮৭ দশমিক ৫ শতাংশ, ১৮ ক্যারেটে ৭৫ শতাংশ বিশুদ্ধ স্বর্ণ থাকে। সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ পুরনো অলঙ্কার গলিয়ে তৈরি করা হয়। এক্ষেত্রে কত শতাংশ বিশুদ্ধ স্বর্ণ মিলবে তার কোনো মানদণ্ড নেই।

অলংকার তৈরিতে স্বর্ণের দরের সঙ্গে মজুরি ও মূল্যসংযোজন কর (ভ্যাট) যোগ করে দাম ঠিক করা হয়। এবার স্বর্ণের দাম বাড়ালেও রুপার দর অপরিবর্তিত রেয়েছে। আগের ৯৩৩ টাকা ভরিতেই বিক্রি হবে এটি।