বন্ধ হচ্ছে অদক্ষ বিদ্যুৎ কেন্দ্র

বাংলাবাজার ডেস্ক
দেশের তেলচালিত ছোট এবং অদক্ষ বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ক্রমান্বয়ে বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।চলতি বছর অধিকাংশ তেলচালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে বসে কাটাতে হবে। আর গত দু’বছর ধরেই ক্রমান্বয়ে তেলচালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন কমিয়ে আনা হয়েছে।

চলতি বছর তা সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছাবে। দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীকে বিল দেয়ার ক্ষেত্রে দুটি ভাগ করা হয়।জ্বালানির দর উদ্যোক্তা নিজে জ্বালানি সংস্থান করলে তাকে সরাসরি দেয়া হয়।আবার বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন জ্বালানি সরবরাহ করলে সরাসরি তাদের দেয়া হয়।

মূলত বিদ্যুৎ উৎপাদন করলেই কেবল উদ্যোক্তা জ্বালানি বাবদ অর্থ পেয়ে থাকে। কিন্তু তার বাইরে উদ্যোক্তা কেন্দ্র স্থাপন, পরিচালন এবং অন্যান্য যে ব্যয় রয়েছে তার হিসাবে একটি অর্থ পেয়ে থাকে। যাকে বলা হয় ক্যাপাসিটি পেমেন্ট। উদ্যোক্তা বিদ্যুৎ উৎপাদন করুক না করুক ওই অর্থ পরিশোধই করতে হয়।

সেক্ষেত্রে কেন্দ্রগুলো বসে থাকলেও তাদের বিল পরিশোধ করতে হয়। অর্থাৎ তেল চালিত কেন্দ্রগুলো চালানো হোক বা না হোক তাদের ওই অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

এরফলে কেন্দ্র বিদ্যুৎ উৎপাদন না করলেও সাধারণত উদ্যোক্তার কোন ক্ষতি হয় না। কিন্তু সরকারের ক্ষতি হয়। বিদ্যুৎ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশে উচ্চমূল্যের বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করাতে চাহিদা না থাকায় এখন তেলচালিত কেন্দ্রগুলোকে বসিয়ে রাখতে হচ্ছে।

চলতি বছর বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে হিসাব দেখানো হয়েছে, তাতে তেলচালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মধ্যে ডিজেলচালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্ল্যান্ট ফ্যাক্টর হবে শূন্য দশমিক ০২ ভাগ।

ফার্নেস অয়েল চালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্ল্যান্ট ফ্যাক্টর হবে ২০ দশমিক ১৮ ভাগ। অর্থাৎ সব মিলিয়ে ওই দুই জ্বালানিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে মাত্র ২০ দশমিক ২ ভাগ।

আর ৭৯ দশমিক ৮ ভাগ বিদ্যুৎ কেন্দ্র বসে বসেই বিল নেবে। আগামী অর্থবছরের জন্য ফার্নেস অয়েল চালিত কেন্দ্রগুলো ১৭ দশমিক ৭৫ ভাগ প্ল্যান্ট ফ্যাক্টরে এবং ডিজেল চালিত কেন্দ্রগুলো ৩ দশমিক ২৯ ভাগ প্ল্যান্ট ফ্যাক্টরে চালানো হবে বলে নির্ধারণ করা হয়।

কারণ বিইআরসি পর্যালোচনা অনুযায়ী ফার্নেস অয়েলে ২০ দশমিক ১৮ ভাগ এবং ডিজেলে শূন্য দশমিক ০২ ভাগ প্ল্যান্ট ফ্যাক্টরে চালালেই চাহিদা পূরণ সম্ভব।

সূত্র জানায়, একটি ১০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ কেন্দ্র যদি প্রতি ঘণ্টায় ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে তাহলে তার প্ল্যান্ট ফ্যাক্টর হবে ১০০। আর যদি ১০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ঘণ্টায় মাত্র ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে তাহলে তার প্ল্যান্ট ফ্যাক্টর ১০ ভাগ।

ওই হিসাবে আগামী বছর অধিকাংশ তেলচালিত কেন্দ্র বসে থাকবে। পিডিবির হিসাব মতে, ২০১৬-১৭, ২০১৭-১৮ এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ফার্নেস অয়েল চালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো যথাক্রমে প্রথম দুই বছর ৪২ ভাগ এবং পরের বছর ৩২ ভাগ প্ল্যান্ট ফ্যাক্টরে চলেছে।

আর ডিজেল চালিত কেন্দ্রগুলো যথাক্রমে ৩০,৩৯ এবং ১৪ ভাগ প্ল্যান্ট ফ্যাক্টরে চলেছে। দেশে এলএনজি আমদানি হওয়াতে গ্যাসের সরবরাহ বাড়িয়েছে পেট্রোবাংলা।

তাতে করে গ্যাস চালিত কেন্দ্রগুলো এখন বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। কাজেই চাহিদা পূরণে এখন আর খুব বেশি তরল জ্বালানির বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালাতে হচ্ছে না।

তেলের বাইরে চলতি বছর জল বিদ্যুৎ ৩৬ দশমিক ৭৯ ভাগ, কয়লা ৫৪ দশমিক ২১ ভাগ, গ্যাস ৫৮ দশমিক ৪৯ ভাগ, সোলার ১২ দশমিক ৪৭ ভাগ এবং ৭৭ দশমিক ৪২ ভাগ হারে আমদানি বিদ্যুৎ আসবে।

সূত্র আরো জানায়, বছরের শুরু এবং মাঝামাঝি সময়ে দেশের সব থেকে বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্র পায়রা উৎপাদনে আসায় তেলচালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন আরো কমবে।

ফেব্রুয়ারির শেষদিকে পায়রার প্রথম ইউনিট পুরোদমে উৎপাদন শুরু করবে। আর মে মাসেই পায়রা এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র উৎপাদন শুরু করবে।

বেজ লোড পাওয়ার প্ল্যান্ট চাইলেও বন্ধ করা যায় না। তাছাড়া তেলের তুলনায় অনেক কম দরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করায় পিডিবির কয়লা থেকেই বেশি বিদ্যুৎ নেয়ার কথা।

এ প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানান, আমরা তেলচালিত ছোট এবং অদক্ষ বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

তিনি বলেন, পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্র উৎপাদনে এলে যে পরিমাণ উৎপাদন কয়লা থেকে বাড়বে, ওই পরিমাণ তেল চালিত কেন্দ্র বন্ধ করে দেয়া যাবে।