দুদকে মামলা বাড়ছে, পার পাচ্ছে না রাঘববোয়ালরা

বাংলাবাজার ডেস্ক
দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একের পর এক দুর্নীতি মামলা হচ্ছে, দিন দিন বাড়ছে মামলার সংখ্যা। এরফলে পার পাচ্ছে না রাঘববোয়ালরা।

২০১৯ সালে ২০১৮ সালের তুলনায় মামলা এবং চার্জশিট দুটোই বেড়েছে। ফলে কমেছে ফাইনাল রিপোর্টের (অপরাধ প্রমাণ না হওয়া) সংখ্যা।

দুদক বলছে, মামলা ও তদন্ত সতর্কতার সঙ্গে করছে কমিশন। এ ছাড়া দক্ষতা ও সতর্কতার সঙ্গে মনিটরিংও করা হচ্ছে। যার ফলে সাজার হার বাড়ছে, আর মামলার ফাইনাল রিপোর্ট বা অব্যাহতি দেয়ার সংখ্যা কমে আসছে।

দুদক সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের প্রথম ১০ মাসে (অক্টোবর পর্যন্ত) মামলা হয়েছে ২৮৭টি, চার্জশিট দেয়া হয়েছে ২৮৫টি।

আর ফাইনাল রিপোর্ট দেয়া হয়েছে ৮১টি। যেখানে ২০১৮ সালে মামলা ২১৬টি, চার্জশিট ২৩৬টি আর ফাইনাল রিপোর্ট দেয়া হয় ১৩৭টি।

এ ছাড়া ২০১৭ সালে মামলা দায়ের করা হয় ২৭৩টি, চার্জশিট ৩৮২টি ও ফাইনাল রিপোর্ট দেয়া হয় ৩১৯টি;।

২০১৬ সালে মামলা হয় ৩৫৯টি, চার্জশিট দেয়া হয় ৫৩৫টি, ফাইনাল রিপোর্ট ৫০০টি; ২০১৫ সালে মামলা ৫২৭টি।

চার্জশিট ৬১৪টি, ফাইনাল রিপোর্ট ৫৯৮টি; ২০১৪ সালে মামলা ৩৩৩টি, চার্জশিট ৪৮৪টি, ফাইনাল রিপোর্ট ৪৯৯টি।

২০১৩ সালে মামলা ৩৫০, চার্জশিট ৫১৭, ফাইনাল রিপোর্ট ৪০৯; ২০১২ সালে মামলা ৫২১, চার্জশিট ৫৮৮, ফাইনাল রিপোর্ট ৩৮২টি।

২০১১ সালে মামলা ৩৬৬, চার্জশিট ৬১৬, ফাইনাল রিপোর্ট ২৯৯টি; ২০১০ সালে মামলা করা হয় ২৭৩, চার্জশিট ৫৩৬ ফাইনাল রিপোর্ট দেয়া হয় ২৮৫টি।

এ ছাড়া ২০০৯ সালে মামলা করা হয় ২৩৪, চার্জশিট দেয়া হয় ৪৭৫, ফাইনাল রিপোর্ট দেয়া হয় ২৬২টি।

২০০৮ সালে মামলা দায়ের করা হয় ৯৭৯টি, চার্জশিট ৩৯৭ এবং ফাইনাল রিপোর্ট ১৯৭টি।

২০০৭ সালে মামলা দায়ের করা হয় ৭০১টি, চার্জশিট দেয়া হয় ১৭০টি এবং ফাইনাল রিপোর্ট দেয়া হয় ৮০টি।

২০০৬ সালে মামলা করা হয় ৮৮টি, চার্জশিট দেয়া হয় ৪৭টি আর ফাইনাল রিপোর্ট দেয়া হয় ৪০টি। ২০০৫ সালে মামলা করা হয় ২৩টি, চার্জশিট দেয়া হয় ১৩টি আর ফাইনাল রিপোর্ট দেয়া হয় ১০টি।

তবে ২০০৪ সালে দুর্নীতি দমন ব্যুরো বিলুপ্তির মধ্য দিয়ে গঠন করা হয় দুর্নীতি দমন কমিশন। ওই বছর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কোনো কার্যক্রম চালাতে পারেনি। তবে এর পরের বছর মামলা করার পাশাপাশি চার্জশিটও দেয় সংস্থাটি।

অন্যদিকে, ২০১৯ সালে দুদক দুর্নীতির বিরুদ্ধে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু করে।

এই অভিযানে সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের অনেক কর্মীর ব্যাংক হিসাব তলব। সম্পদ জব্দ, একই সঙ্গে মামলাও দায়ের করেছে কমিশন।

পাশাপাশি র্যামব ও বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধানদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন দুদক চেয়ারম্যান।

তাদের কাছ থেকে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্য যাচাই করে এখন পর্যন্ত ১৯টি মামলাও করেছে দুদক।

এসব মামলা করা হয়েছে—ঠিকাদার জি কে শামীম, বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, আওয়ামী লীগ নেতা এনামুল হক ও তার ভাই রুপন ভূঁইয়া।

অনলাইন ক্যাসিনোর হোতা সেলিম প্রধান, কলাবাগান ক্লাবের সভাপতি শফিকুল আলম ফিরোজ, এ কে এম মমিনুল হক সাঈদ।

যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক আনিসুর রহমান ও তার স্ত্রী সুমি রহমান, কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজান, তারেকুজ্জামান রাজীব, যুবলীগের সাবেক নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট।

এনামুল হক আরমান, জাকির হোসেন ও তার স্ত্রী আয়েশা আক্তার সুমা, গণপূর্তের সিনিয়র সহকারী শাখা প্রধান মুমিতুর রহমান, তার স্ত্রী জেসমিন আক্তারসহ আরও অনেকের বিরুদ্ধে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘ফাইনাল রিপোর্ট হচ্ছে আসামিকে খালাস দেয়া।

অর্থাৎ কমিশন যখন আসামির বিরুদ্ধে কোনো তথ্য না পেয়ে নিরুপায় হয়ে আসামির পক্ষ হয়ে রিপোর্ট দেয় সেটাকে ফাইনাল রিপোর্ট বলে।

তবে ফাইনাল রিপোর্ট যেহেতু কমছে। দুদক তাহলে অবশ্যই ভালো কাজ করছে। দুদকের এই সাফল্যের ধারা অব্যাহত থাকুক।

দুদক সচিব দিলোয়ার বখত বলেন, ‘এখন ইনকোয়ারি করেই মামলা করা হয়। যার ফলে অপরাধ প্রমাণিত হলেই মামলা করা হয়।

প্রাথমিকভাবে অনেক তথ্য নিয়ে মামলা করা হয়। পরবর্তীতে চার্জশিটে সেটির প্রতিফলন ঘটে। যত বেশি চার্জশিট দেয়া হবে তত ফাইনাল রিপোর্ট কমতে থাকবে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।