পরীক্ষায় পাস করা ও শিক্ষিত হওয়া এক নয়

মোহাম্মদ নজাবত আলী
সবার আগে শিশুদের নিয়ে ভাবতে হবে। কারণ এরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। বয়সের তুলনায় যদি পড়ালেখার চাপ বেশি হয় তাহলে এটা হিতে বিপরীত হতে পারে। কোনো কিছু চাপিয়ে তার কাক্সিক্ষত সুফল পাওয়া যায় না। জেএসসি, জেডিসি, পিইসি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। বরাবরের মতো এবারেও ফলাফল সন্তোষজনক।

এবার জেএসসি ও জেডিসি পাসের হার ৮৭.৯০। জেএসসি ও জেডিসি জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭৮,৪২৯ জন। গতবারের তুলনায় এবার জিপিএ-৫ বেড়েছে ১০,৩৩৪ জন। জেএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭৬,৭৪৭ জন। পাসের হার ঢাকা বোর্ড ৮২.৭২ জিপিএ-৫ ৪,৯৪৮, রাজশাহীর ৯৪.১০ জিপিএ-৫ ১৬,৪৭৮, সিলেট ৯২.৭৯ জিপিএ-৫ ৩,৩৭৩।

কুমিল্লা ৮৮.৮০ জিপিএ-৫ ৬,১৩১, যশোর ৯১.০৮ জিপিএ-৫ ৯,৭৫৫, চট্টগ্রাম ৮২.৯৩ জিপিএ-৫ ৬ হাজার ৪১, বরিশাল ৯৭.০৫ জিপিএ-৫ ৪,৯৪৮। দিনাজপুর ৮৩.৯২ জিপিএ-৫ ৬,৭৬৫, ময়মনসিংহ ৮৭.২১ জিপিএ-৫ ৩,৯০৩ পাস করা শিক্ষার্থী, অভিভাবকরা খুশি। শিক্ষার্থীরা এক ধরনের আনন্দ উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছে।।

এরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। জাতির কর্ণধার। তাই আমাদের শিশুদের নিয়ে ভাবনার শেষ নেই। কেন শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এত ভাবনা এটা সবার জানা। কারণ আজকের শিশুই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ; তাই তাদের একটি সুন্দর পরিবেশে বেড়ে উঠা শিক্ষাগ্রহণের মাধ্যমে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।

এই প্রত্যাশা শুধু অভিভাবকদের নয়, রাষ্ট্রেরও। পাশাপাশি এটাও আমাদের ভাবা উচিত কোনো কিছুই শিশুদের ওপর চাপিয়ে দেয়া ঠিক নয়। যা বহন করতে গিয়ে শিশুর মানসিক বিকাশে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। শিক্ষা ক্ষেত্রে উন্নত রাষ্ট্রের পদ্ধতি চালু করলেও তার সুফল কিন্তু আমরা পুরোপুরি পাচ্ছি না।

পিএসসি বা জেএসসি, জেডিসি পরীক্ষায় একই অবস্থা। প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় বলেন, শিশুদের বইয়ের ভার থেকে মুক্ত করতে হবে। বাচ্চাদের পরীক্ষার ভার কমান। ক্লাস ওয়ান থেকে থ্রি পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা থাকা উচিত নয়। বিজ্ঞ মহলও তাই মনে করেন। কারণ সবার আগে শিশু, সবার ওপর শিশু।

যথাসময়ে পাবলিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ ও শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেয়া দেশের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ঘটনা। প্রতি বছর ১ জানুয়ারি সারাদেশে পাঠ্যবই উৎসব পালিত হয়ে আসছে। সে সূত্র ধরেই ইতোমধ্যে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বই বিতরণ করা হয়েছে। নতুন বছরে নতুন আশা-উদ্দীপনা, স্বপ্ন নিয়ে শিক্ষার্থীরা নানা রঙ বে-রঙয়ের নতুন বই হাতে পেয়ে তাদের মাঝে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়।

ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে প্রতিবছর ১ জানুয়ারিতে যে শিক্ষার্থীর হাতে বই তুলে দেয়া হয় সেটা সরকারের একটি মহতি উদ্যোগ এতে কোনো সন্দেহ নেই। হাতে বই চোখে স্বপ্ন নিয়ে তারা এগিয়ে যাবে। নতুন বছরে নতুন শ্রেণিতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা নতুন বইয়ের সোঁদাগন্ধে আনন্দে আত্মহারা

তাদের উচ্ছ্বাস ও আনন্দ দেখে মনে হয় এরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। ভবিষ্যতে তাদের মেধায় দেশ এগিয়ে যাবে ও আলোকিত সমাজ গড়ে উঠবে। আর মানসম্মত শিক্ষাই পারে দেশকে সার্বিক দিক থেকে এগিয়ে নিয়ে যেতে। আমরা সবাই জানি যে, একটি জাতির সার্বিক উন্নয়নে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। প্রতি বছর পাবলিক পরীক্ষায় প্রায় শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করছে।

পাসের হারের দিক থেকে দেশ এগিয়ে গেলেও শিক্ষার মান বাড়ছে কি না এ নিয়ে শিক্ষাবিদ সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিশিষ্টজনদের মধ্যে মতপার্থক্য নেই। তাই এখন শিক্ষার মান বাড়ানোই বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ পাস করা ও শিক্ষিত হওয়া এক কথা নয়। তবুও শিক্ষাই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু যে যা-ই বলুন না কেন, আমাদের শিক্ষার মান বাড়াতে হবে। শত ভাগ পাসের সঙ্গে শিক্ষার মান কিভাবে বাড়ানো যায় সেটাই সংশ্লিষ্ট সবার বিবেচ্য বিষয় হওয়া উচিত।

একই সঙ্গে সততা, দক্ষতা, নৈতিক মূল্যবোধের অধিকারী হয়ে লাখো শিক্ষার্থীদের হতে হবে মানুষ। এই বোধোদয় জাগ্রত হোক।
আজকের শিশুই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। এরা একদিন এ দেশকে গড়ে তুলবে নিজের জ্ঞান, মেধা ও মনন দিয়ে। কারণ, তারাই জাতির ভবিষ্যৎ। কিন্তু এ ভবিষ্যৎ শিশু জ্ঞানার্জনের ক্ষেত্রে যা কিছু সহায়ক তার সব কিছু কি তারা পাচ্ছে?

তাদের মনের জোর বা ধারণ ক্ষমতা এতটাই বেশি যে, এ সল্পবয়সে সব কিছু তারা অর্জনে সক্ষম? দুনিয়ার জ্ঞান তাদের মধ্যে জোর করে চাপিয়ে দেওয়া যায় না। বিভিন্ন বিষয় তাদের ওপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া কি সঙ্গত হবে? কথাটা এ কারণেই বললাম যে, বয়সের সঙ্গে শিক্ষার একটি সম্পর্ক রয়েছে। আর শিক্ষা হচ্ছে অর্জনের বিষয়, তাই এই অর্জনটা নির্ভর করে একজন শিশুর মনের ধারণক্ষমতার ওপর।

তাই শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত কচিকাঁচা শিশু-কিশোরদের বয়স, ধারণক্ষমতার দিক লক্ষ্য রেখে পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন করতে হয়- যাতে করে বইয়ের বোঝা তাদের বিকাশ জ্ঞানার্জনে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। প্রাইভেট কোচিংবাণিজ্য, নোট-গাইড শিশুদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। একটি বিষয় আমাদের গুরুত্ব দেয়া উচিত যে, জ্ঞানই যেহেতু শ্রেষ্ঠ সম্পদ তাই তা অর্জনের পথ যেন সহজ হয়- সরল হয়। পাবলিক পরীক্ষায় পাস ও জিপিএ-৫ এর চিত্র দেখে আমরা খুশি হই। বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলতে গিয়ে আমরা শিক্ষার সঙ্গে আপস করেছি।

বহির্বিশ্বে বিশেষ করে দাতা সংস্থাগুলো চাচ্ছে বাংলাদেশ শিক্ষায় এগিয়ে যাক। ভারত, ভুটান, নেপাল, বা শ্রীলঙ্কার মতো শতভাগ পাস করুক। কারণ বিশ্ব ব্যাংক বা অন্যান্য দাতা সংস্থা বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে অর্থ বিনিয়োগ করে। তাই বহির্বিশ্ব ও দাতা সংস্থাকে খুশি করতে গিয়ে শিক্ষার সঙ্গে যে আপোশ করা হয়েছে তাতে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের শূন্যতা সৃষ্টি হতে পারে।

কারণ উলিস্নখিত রাষ্ট্রগুলোর মতো প্রায় শতভাগ পাস হলেও শিক্ষার গুণগত মানের দিক থেকে বাংলাদেশ নিম্নমুখী, এতে কোনো সন্দেহ নেই। পাসের হার ও জিপিএ-৫ অনেকেই মনে করে গলার কাটা। সুশিক্ষিত মানেই সশিক্ষিত। তাই সুশিক্ষায় সশিক্ষিত ব্যক্তিই মেধাসম্পন্ন। এটা পাস বা জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ওপর নির্ভর করে না। এটা নির্ভর করে নিজস্ব স্বকীয়তা ও আত্মবিশ্বাস এবং বিকাশের ওপর এবং এ আত্মবিশ্বাস ও বিকাশ শিশুরা অর্জন করে তার স্বাভাবিক গতিতে।

কিন্তু অতিরিক্ত সিলেবাস, নোট গাইট, কোচিংবাণিজ্য এগুলো শিক্ষার্থীর গতিকে রোধ করে। আমরা সুশিক্ষায় সশিক্ষিত জাঁতি চাই, মানুষ চাই। তবুও কিছু মেধাসম্পন্ন শিক্ষার্থী রয়েছে যারা আমাদের আশার প্রদীপ, ভবিষ্যতে তারা আমাদের সমাজকে আলোকিত করবে। প্রকৃত মানুষ হবে। জ্ঞানই হচ্ছে সম্পদ, আবার জ্ঞানই হচ্ছে শক্তি। তাই সে জ্ঞান ও শক্তিতে পরিণত করতে হবে আমাদের ভবিষ্যৎ শিশুদের, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে।

এজন্য তাদের বেড়ে উঠার যেমন সুষ্ঠু পরিবেশ দরকার, তেমনি পাঠ্যপুস্তকগুলো সহজতর ও আনন্দদায়ক হওয়া উচিত। আমাদের দেশের শিক্ষাবিদ সিলেবাস কারিকুলাম প্রণয়ন কর্তা, ব্যক্তিরা পুস্তক প্রণয়নের ব্যাপারে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে যাতে কোমলমতি শিশুদের বিকাশের ক্ষেত্রে কঠিন না হয়। পাঠ্যপুস্তক অবশ্যই সহজ-সরল প্রাঞ্জল ভাষায় রচিত হওয়া উচিত। একই সঙ্গে পাঠ্যপুস্তক যেন আধুনিক চিন্তাধারায় রচিত হয়।

একজন শিক্ষার্থীর দেশপ্রেম মানবিক চেতনা জাগ্রত হয়। আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার মানসিকতা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিকাশ লাভ করে তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রাখতে হয়। এটা শুধু প্রাথমিক পর্যায়েই নয়, শিক্ষার সব স্তরে হওয়া উচিত। জ্ঞান, মেধা মনন শক্তির উপযোগী এবং এ বিষয়ে তাদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। নইলে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে আমরা পিছিয়ে পড়ব। বর্তমান ও অনাগত শিশুরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। তাদের সামনে সোনালি দিন হাতছানি দিয়ে ডাকছে।

তাদের ভবিষ্যৎকে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। তাই রাষ্ট্রকেই শিশুর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে। শিশুদের বেড়ে উঠার অনুকূল পরিবেশ তাদের এমনভাবে গড়ে উঠবে যাতে করে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে পারে। সর্বত্র জ্ঞানের বিস্তরণ ঘটাতে হবে।

আমাদের লাখো শিক্ষার্থীর এগিয়ে যেতে হবে- জ্ঞান ও মেধা অর্জনে সামনের দিকে। আমাদের দেশে শিক্ষার হার বেড়েছে কিন্তু শিক্ষার গুণগত মান সে অনুযায়ী বাড়েনি। পাস করলে সার্টিফিকেট পাওয়া যতটা সহজ শিক্ষিত হওয়া ততটা সহজ নয়। আর শিক্ষা হচ্ছে অর্জনের বিষয়, এটা অর্জন করতে হয় নিজস্ব মেধা, স্বকীয়তা দিয়ে।

প্রকৃত মানুষ হতে আমাদের ভাষা শিক্ষা সংস্কৃতিকে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে যেতে হবে এবং নিজকে বিকশিত ও প্রতিষ্ঠিত করতে হবে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে। এটাও বিবেচনায় নেওয়া দরকার যে, শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য সার্টিফিকেট লাভ বা চাকরি পাওয়া নয়।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, ‘মানুষের অভ্যন্তরের মানুষটিকে খাঁটি মানুষ বানানোর প্রচেষ্টায় শিক্ষা’।

শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য নৈতিকতা অর্জন। সব ধরনের কু-দৃষ্টি, কু-প্রবৃত্তি থেকে মুক্ত হয়ে সর্বক্ষেত্রে সততা, মূল্যবোধ অর্জনের মাধ্যমে মানুষ হওয়া। পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি সমাজেই পরীক্ষা হচ্ছে শিক্ষার্থীর মেধা মূল্যায়নে অন্যতম দিক। মূলত পরীক্ষার মাধ্যমেইশিক্ষার্থীর মেধা মূল্যায়ন করা হয়। পরীক্ষার মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থীকে তার মেধা মূল্যায়নে সনদ দেয়া হয়। কিন্তু পরীক্ষায় শিক্ষার্থীর সব কিছু শেষ হয় না।

পরীক্ষকের নম্বরের ভিত্তিতে পরীক্ষার ফল প্রকাশের মাধ্যমে শিক্ষার্থী তার ফল পেয়ে থাকে। বর্তমান প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় পরীক্ষার ফলাফলে দু’ধরনের প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়। কেউ খুশি হয়, কেউ দুঃখ পায়, কষ্ট পায়। সদ্য প্রকাশিত জেএসসি, জেডিসি, পিইসি পরীক্ষার প্রকাশে দেখা যায়, কেউ খুশি হয়ে বাড়ি ফিরেছে, কেউ ফিরেছে কান্না ও হতাশা নিয়ে।

প্রতিটি পাবলিক পরীক্ষার পর যারা অকৃতকার্য হয়েছে তাদের মধ্যে দুয়েকজন নিজের জীবন দিয়ে মুক্তি পেতে হয়েছে আমাদের সমাজের নেতিবাচক দৃষ্টি থেকে। কারণ আমাদের সমাজ এখনো অকৃতকার্য শিক্ষার্থীকে মেনে নিতে পারে না। পাড়া প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব এমন কী অভিভাবকেরও নানা রকম কটুকথা শুনতে হয়।

ফলে শিক্ষার্থীর মধ্যে এক ধরনের হতাশা তৈরি হয় এবং মনে করে পরীক্ষায় ফেল যেন জীবনের শেষ। যারা অকৃতকার্য হয় তাদের অবশ্যই উৎসাহ অনুপ্রেরণা দেয়া উচিত। আজ পারেনি, তার মানে এই নয় যে, কাল পারবে না। তাই তাদের সঙ্গে এমন আচরণ করা উচিত- যাতে তারা উৎসাহ ও সাহস পায় সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা পায়।

শিক্ষার্থীর মেধাকে পরীক্ষার ফলাফল ও জিপিএ দিয়ে মূল্যায়ন করার অর্থ এই নয় যে, মেধা জিপিএর মধ্যে সীমাবদ্ধ। পরীক্ষায় ভালো প্রস্তুতির মধ্যে ও একজন মেধাবী। শিক্ষার্থীর পরীক্ষার ফল খারাপ হতেই পারে- যারা পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করেছে, তাদের জন্য রইল শুভেচ্ছা এবং একই সঙ্গে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের প্রতি রইল ভালোবাসা। নিরাশ হয়ো না। আত্মবিশ্বাস নিয়ে আবারো পরীক্ষা নামক যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়, দেখবে সাফল্য তোমার হাতের মুঠোই ধরা দেবে।

সবার আগে শিশুদের নিয়ে ভাবতে হবে। কারণ এরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। বয়সের তুলনায় যদি পড়ালেখার চাপ বেশি হয় তাহলে এটা হিতে বিপরীত হতে পারে। কোনো কিছু চাপিয়ে তার কাক্সিক্ষত সুফল পাওয়া যায় না। তাই সার্বিক দিক বিবেচনা করে তাদের সুষ্ঠু বিকাশে প্রতিবন্ধকতা দূর করা দরকার। আমাদের লাখো শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রকৃত জ্ঞান, মেধা ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটিয়ে বিশ্বে সুনাম বয়ে আনুক এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

লেখক: শিক্ষক ও কলামিস্ট